নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন ঝুলে থাকায় বেড়েছে কূটনৈতিক জটিলতা
- আপডেট সময় : ১০:৪৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন ঝুলে থাকায় বেড়েছে কূটনৈতিক জটিলতা
ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চলমান টানাপড়েনের মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার নিয়োগের ইস্যু। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে এই পদে মনোনীত করেছে বাংলাদেশ, তবে এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ভারত এখন পর্যন্ত তার নিয়োগে সম্মতি বা অ্যাগ্রিমো দেয়নি।
বর্তমান হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহর মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তার জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দ্রুত নতুন কাউকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়া প্রয়োজন হলেও ভারতের নীরবতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
পড়ুন>>নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন ঝুলে থাকায় বেড়েছে কূটনৈতিক জটিলতা
কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী, কোনো দেশ অন্য দেশে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার পাঠানোর আগে স্বাগতিক দেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র যদি কোনো প্রার্থীর নিয়োগে সম্মত না হয়, তবে এর কারণ ব্যাখ্যা করা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। এমনকি কোনো দেশ চাইলে এ বিষয়ে দীর্ঘ সময় নীরবও থাকতে পারে। সাধারণত দুই দেশের মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাষ্ট্রগুলো নীরবতার পথই বেছে নেয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি এবং অবিশ্বাসের জায়গাটি এই নীরবতাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আসাদ আলম সিয়াম একজন পেশাদার কূটনীতিক। অতীতে তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে তিনি সচিবের দায়িত্ব নেন। তবে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে অনুমোদন না আসা পর্যন্ত তার নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার কোনো সুযোগ নেই।
পড়ুন>>সৌদির প্রিন্স মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের মেকানিক্যাল কাজের দায়িত্ব কাতারি
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সমীকরণটি গত কিছুদিনে বেশ কয়েকবার পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্কের উন্নতির যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর ম্লান হয়ে গেছে। আগস্টে তারেক রহমানের নির্ধারিত নয়াদিল্লি সফর বাতিল হওয়া এবং পরবর্তীতে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়েও তার যোগ না দেওয়ার ঘটনা দুই দেশের দূরত্বকে স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
তবে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। দুই দেশের বিভিন্ন কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং কর্মকর্তারা সীমান্তপাড়ের রেল যোগাযোগসহ দৈনন্দিন সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে গত সপ্তাহে ঢাকায় বৈঠক করেছেন। এর মাধ্যমে দুই সরকারই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সচল রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন>>সিডনির বাসে স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলে গালাগাল
এদিকে, চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছেন এবং তার পদমর্যাদাকে মন্ত্রিসভার সমতুল্য করা হয়েছে, যা সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ারই একটি প্রচেষ্ঠা।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি ঘটে, বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লিতে ইতিবাচকভাবে দেখা হয়নি। সম্প্রতি ভারত তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য দুটি আমন্ত্রণ জানালেও তার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। সব মিলিয়ে, শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের এই অনিচ্ছা বা বিলম্ব দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান স্থবিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























