ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন সমীকরণ: প্রতীকহীন ভোটে বাড়ছে দায়বদ্ধতা মাধবপুরে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতিতে অটল আজ বসছে ইসির আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক, আলোচনায় স্থানীয় নির্বাচন নগদ লিমিটেডে চাকরির সুযোগ: আবেদনের শেষ তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিলেন ম্যাকলমোর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ: আবেদন শুরু মক্কায় হুথিদের হামলা চেষ্টা: তীব্র নিন্দা কাতারের ঢাকায় মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির পূর্বাভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন সমীকরণ: প্রতীকহীন ভোটে বাড়ছে দায়বদ্ধতা

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন সমীকরণ: প্রতীকহীন ভোটে বাড়ছে দায়বদ্ধতা

 

তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। জনগণের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর সেই জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই নির্বাচনের প্রধান লক্ষ্য। সরকার মনে করছে, এর মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে এবং এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে উৎসাহ ও দায়বোধ তৈরি হয়েছে। নিজ উদ্যোগে তারা ভোটারদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এর ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ছে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনে তারা জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।

 

পড়ুন>>রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতিতে অটল

মীর শাহে আলম আরও জানান, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক রাখা হচ্ছে না। ফলে ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও এলাকার জন্য তাদের ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি-সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারেন, তবে কোনো একক প্রার্থীকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ নেই।

 

তিনি স্পষ্ট করেন, দলীয় মতাদর্শের পরিচয় স্থানীয়ভাবে পরিচিত থাকলেও, তা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।

চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলীয় উচ্চপর্যায়ে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত এই নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।

আরও  পড়ুন>>শুভ সকাল; আজ বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা

তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণ করলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা বাড়বে, যা নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সহায়ক হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ বছরের নির্বাচন আয়োজনে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘোষিত সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোটগ্রহণ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা সরাসরি জনগণের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন। তবে জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে পরোক্ষ নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন>>রূপপুর থেকে আগামী মাসে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত। ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন প্রণীত বিধি অনুসারে ইসি নির্বাচন আয়োজন ও সম্পাদন করবে। এছাড়া ভোট গ্রহণের তারিখ, সময় এবং স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কমিশনের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইনেও একই ধরনের বিধান রাখা হয়েছে, যার আলোকে কমিশন নির্বাচন পরিচালনার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন সমীকরণ: প্রতীকহীন ভোটে বাড়ছে দায়বদ্ধতা

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন সমীকরণ: প্রতীকহীন ভোটে বাড়ছে দায়বদ্ধতা

 

তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। জনগণের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর সেই জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই নির্বাচনের প্রধান লক্ষ্য। সরকার মনে করছে, এর মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে এবং এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে উৎসাহ ও দায়বোধ তৈরি হয়েছে। নিজ উদ্যোগে তারা ভোটারদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এর ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ছে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনে তারা জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।

 

পড়ুন>>রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতিতে অটল

মীর শাহে আলম আরও জানান, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক রাখা হচ্ছে না। ফলে ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও এলাকার জন্য তাদের ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি-সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারেন, তবে কোনো একক প্রার্থীকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ নেই।

 

তিনি স্পষ্ট করেন, দলীয় মতাদর্শের পরিচয় স্থানীয়ভাবে পরিচিত থাকলেও, তা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।

চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলীয় উচ্চপর্যায়ে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত এই নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।

আরও  পড়ুন>>শুভ সকাল; আজ বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা

তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণ করলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা বাড়বে, যা নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সহায়ক হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ বছরের নির্বাচন আয়োজনে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘোষিত সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোটগ্রহণ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা সরাসরি জনগণের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন। তবে জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে পরোক্ষ নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন>>রূপপুর থেকে আগামী মাসে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত। ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন প্রণীত বিধি অনুসারে ইসি নির্বাচন আয়োজন ও সম্পাদন করবে। এছাড়া ভোট গ্রহণের তারিখ, সময় এবং স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কমিশনের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইনেও একই ধরনের বিধান রাখা হয়েছে, যার আলোকে কমিশন নির্বাচন পরিচালনার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box