নববর্ষের রঙে রঙিন বাংলা: নতুন প্রত্যয়ের সূচনা আজ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
নববর্ষের রঙে রঙিন বাংলা: নতুন প্রত্যয়ের সূচনা আজ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দৌলতপুরে সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ কাজের শুভ উদ্বোধন নাগেশ্বরীতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত কাউনিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ইসলামি আন্দোলনের গণমিছিল ও সমাবেশ মাটির মা ফাউন্ডেশন দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন কাউনিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের গণমিছিল ও সমাবেশ আজ বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬: আজকের রাশিফল আজ বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬: আজকের আবহাওয়ার পুর্বাভাস আজ বৃহস্পতিবার ৬ আগষ্ট ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ বৃহস্পতিবার ৬ আগষ্ট ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা নানিয়ারচরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নববর্ষের রঙে রঙিন বাংলা: নতুন প্রত্যয়ের সূচনা আজ

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
নববর্ষের রঙে রঙিন বাংলা: নতুন প্রত্যয়ের সূচনা আজ

 

 

নববর্ষের রঙে রঙিন বাংলা: নতুন প্রত্যয়ের সূচনা আজ

 

 

আজ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পুরোনো বছরের সব ক্লান্তি, ব্যর্থতা ও জীর্ণতা পেছনে ফেলে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে পয়লা বৈশাখ। সময়ের অবিরাম প্রবাহে আবারও শুরু হলো বাংলা বর্ষপঞ্জির নতুন অধ্যায়। প্রকৃতিও যেন এই নবযাত্রাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত- গাছে গাছে নতুন পাতা, চারদিকে নতুন জীবনের স্পন্দন।

পড়ুন>>শুধু বাঙ্গালীয়ানা নয়; পৃথিবীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসব পহেলা বৈশাখ

 

নতুন বছর মানেই নতুন প্রত্যাশা। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণও এই সময়কে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তাই নতুন বছরকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা—দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে, সমাজে ফিরে আসবে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতা।

বাঙালির মিলনোৎসব:

পয়লা বৈশাখ কেবল একটি ক্যালেন্ডারের নতুন সূচনা নয়; এটি বাঙালি জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির এক মহামিলনমেলা। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি কিংবা পেশার ভেদাভেদ ভুলে এদিন সব মানুষ একসঙ্গে উদ্‌যাপন করে আনন্দের উৎসব। দেশের সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে পয়লা বৈশাখ আজ রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে দেবে প্রাণের উচ্ছ্বাস।

পড়ুন>>শুধু বাঙ্গালীয়ানা নয়; পৃথিবীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসব পহেলা বৈশাখ

 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই শুরু হবে বর্ষবরণের নানা আয়োজন। মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বের হবেন উৎসব উপভোগ করতে। নারীদের পোশাকে থাকবে লাল-সাদা শাড়ির ঐতিহ্যবাহী ছোঁয়া, আর পুরুষদের পোশাকে থাকবে পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়া। সাজসজ্জা আর উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠবে চারপাশ।

ছায়ানটের প্রভাতি আয়োজন:

নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণ রাজধানীর রমনার বটমূলে প্রভাতী সংগীতানুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের আয়োজনে ভোরের আলো ফুটতেই গানে গানে স্বাগত জানানো হবে নতুন বছরকে। ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ আহ্বানকে সামনে রেখে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে অনুষ্ঠান।

প্রায় দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে থাকবে সম্মেলক সংগীত, একক পরিবেশনা ও কবিতা পাঠ। প্রায় দুই শতাধিক শিল্পী এতে অংশ নেবেন।

 

 

বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে সকাল ৯টায় বের হবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। এবারের স্লোগান—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
শোভাযাত্রায় থাকবে বিশাল আকৃতির প্রতীকী শিল্পকর্ম—মোরগ, দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। লোকজ ঐতিহ্যের নানা প্রতীকও এতে স্থান পাবে। দুই শতাধিক শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করবেন, আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে পরিবেশিত হবে জাতীয় সংগীতসহ দেশাত্মবোধক গান।

হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ:

ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হবে ‘হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠান। সংগীত সংগঠন সুরের ধারা ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সম্মেলক সংগীতের পাশাপাশি থাকবেন বিশিষ্ট শিল্পীদের একক পরিবেশনা।

বৈশাখী মেলা:

নববর্ষকে ঘিরে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলা। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলায় থাকবে দেশি হস্তশিল্প, গ্রামীণ পণ্য এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা খোলা থাকবে।

আরও নানা আয়োজন:

রাজধানীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও নববর্ষ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ধানমন্ডি, তোপখানা রোডসহ বিভিন্ন স্থানে সংগীতানুষ্ঠান, কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। শিল্পকলা একাডেমিও কয়েক দিনের বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

বাংলা নববর্ষের ইতিহাস:

বাংলা সনের সূচনা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, মোগল সম্রাট আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রচলন করেন। হিজরি সন চাঁদের গতির ওপর নির্ভর করায় কৃষির মৌসুমের সঙ্গে তা মিলত না। তাই সৌরবর্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন পদ্ধতিতে বাংলা বর্ষপঞ্জি চালু করা হয়।

আরও পড়ুন>> পিছে তাকিয়ে দেখি কেমন ছিলো হাজার বছর আগে আমাদের বাংলা ভাষা?

 

পরবর্তীতে জমিদারি প্রথার সময় পয়লা বৈশাখে ‘পুণ্যাহ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করা হতো। ব্যবসায়ীরা পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলার যে উৎসব পালন করতেন, সেটিই ‘হালখাতা’ নামে পরিচিতি পায়। আজও দেশের অনেক স্থানে সীমিত আকারে এই ঐতিহ্য পালিত হয়।

 

 

পয়লা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। নতুন বছর শুধু সময়ের পরিবর্তন নয়, এটি নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন ও নতুন পথচলার প্রতীক। আনন্দ, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বাঙালি আবারও উদ্‌যাপন করছে তার চিরায়ত সংস্কৃতির এই মহোৎসব।

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!