শুধু বাঙ্গালীয়ানা নয়; পৃথিবীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসব পহেলা বৈশাখ
- আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৩ ২১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
শুধু বাঙ্গালীয়ানা নয়; পৃথিবীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসব পহেলা বৈশাখ।
পহেলা বৈশাখ উৎসব দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটা বহুজাতিক উৎসব। পৃথিবীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ পহেলা বৈশাখ পালন করে।
বৈশাখী উৎসব শুধু বাঙ্গালীদের একক কোনো জাতীয় উৎসব নয়। এটা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটা বহুজাতিক উৎসব।
বাংলা নববর্ষ, বা পহেলা বৈশাখ নামক যে উৎসবকে বাঙ্গালীর হাজার বছরের উৎসব বলে দাবি করা হচ্ছে। দেখি তো এটি আদৌও বাংগালীদের একক কোনো উৎসব কিনা?
“পহেলা বৈশাখ মানে
বাঙালি পরিচয়ে বেঁচে থাকার প্রেরণা
পহেলা বৈশাখ মানে
বাঙালি মননে অসাম্প্রদায়িক চেতনা।”
উপরের চার লাইন পড়লে মনে হবে, পহেলা বৈশাখ মানে একমাত্র বাঙ্গালীদের উৎসব। কিন্তু নিচের তথ্য বলছে এটা মোটেও বাঙ্গালীদের একক নিজস্ব উৎসব নয়।
পড়ুন>>১৪ই এপ্রিল নববর্ষ বিভিন্ন দেশে যেভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয়
বাংলাদেশ থেকে ২৩৬১ কিলোমিটার দূরের দেশ দেশ থাইল্যান্ডেও পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। এপ্রিলের ১৪ ও ১৫ তারিখ নিজস্ব রীতিতে তারা পহেলা বৈশাখ পালন করে। তাদের এই উৎসবের নাম “সঙ্ক্রান”। এদিন তারা রং-হীন “হোলী”- মানে শুধু পানি ছিটিয়ে এই উৎসব পালন করে। ‘সঙ্ক্রান’ পালনের রীতির সঙ্গে বাংলাদেশের পাহাড়ি জনপদের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পানির উৎসবের মিল রয়েছে।
মধ্য এপ্রিলে বার্মাতেও পহেলা বৈশাখ পালন করা হয় “থিংগ্যান” নামে। থাই জাতি এবং বর্মিজ জাতি নিশ্চয় বাঙ্গালীদের মামাতো ভাই নয়? একই উৎসব তামিলরা পালন করে “চিত্রাই” নামে। তবে এটা পুরোটাই মন্দির ভিত্তিক উৎসব। তামিলরাও বাঙ্গালী জাতির কাকাতো ভাই নন। তামিল নাড়ু ছাড়া ও ভারতে আরও ৬ টি রাজ্যের ৬টি জাতি এই দিন নতুন বছর পালন করে। তাদের মধ্যে পাঞ্জাবি শিখরাও “বৈশাখী” (Vaisakhi)পালন করে। প্রধানত অম্রিতসারের স্বর্ণমন্দিরে এ উৎসব পালন হয়ে থাকে।শিখরা ও বাঙ্গালী জাতির মাসিতো ভাই নন। এভাবেই ভারতের কেরালা, আসাম, ত্রিপুরা, মনীপুর, উড়িষ্যা, রাজ্যেও নববর্ষ পালন করা হয় । নেপালিদের ফুলেল নববর্ষ (Baisakh) উৎসবও ১লা বৈশাখ পালন করে আসছে।
আসামিরা পালন করে “রঙ্গালি বিহু”। নেপালি জাতিও বাংগালীদের পাড়াতো ভাই নন। শ্রীলঙ্কায় বৈশাখী উৎসব হয় “আলুথ আউরুদু” নামে। তারাও এটাকে তাদের নতুন বছর বলে দাবি করে। লাউসে ‘পি মাই লাও” নামে চলে বৈশাখী উৎসব এই মধ্য এপ্রিলেই। কম্বোডিয়ায় “চাউল চা থামে” আর চীনের উনান প্রদেশে “দাই” সম্প্রদায় বুদ্ধের উদ্দেশে পহেলা বৈশাখ পালন করে।
উপরে আমরা দেখতে পেলাম দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ১৪টি ভিন্ন ভিন্ন জাতি ১৪/১৫ এপ্রিলকে বিভিন্ন নামে উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে।
তাহলে পহেলা বৈশাখ একমাত্র বাংগালীদের জাতীয় উৎসব কিভাবে দাবি করা হয়? বাংলা নববর্ষ বলে কেনই বা দাবি করা হয়?
উপরের তথ্য বলছে যে বৈশাখী উৎসব শুধু বাঙ্গালীদের একক কোনো জাতীয় উৎসব নয়। এটা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটা বহুজাতিক উৎসব।
কাজেই যা একমাত্র আমাদের উৎসব নয় সেটা আমাদের উৎসব দাবি করা কি আদিখ্যেতা দেখানো নয়?
বাংলা নববর্ষ না বলে ফসলিসন বলা হোক বা গৌড়ীয় সন বলা হোক। বাংলা নববর্ষ না বলে বৈশাখী উৎসব বলা হোক।
যা বাংলার নয় সেটাকে বাংলা সীল মেরে দেয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























3 thoughts on “শুধু বাঙ্গালীয়ানা নয়; পৃথিবীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসব পহেলা বৈশাখ”