ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে কাতার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি বর্তমানে তেহরান সফর করছেন। সেখানে তিনি ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। কাতারের লক্ষ্য হলো, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতা কমিয়ে আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি করা।
গত কয়েক দিনে ইরানকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রক্রিয়ার শুরুতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তেহরান সফর করেন এবং পরবর্তীতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই উদ্দেশ্যে ইরান ভ্রমণ করেন। কাতার আশা করছে, এই ধারাবাহিক আলোচনা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি সংলাপের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
ইতিমধ্যে ওমান ও ইরানের কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালিতে সাময়িক নৌ চলাচলের একটি কাঠামো নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এই সমুদ্রপথটি বর্তমানে ওই অঞ্চলের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি। এছাড়া, জাহাজ চলাচলের পথ মাইনমুক্ত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। কাতার মনে করছে, এই ধরনের পদক্ষেপ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় আলোচনার পথ সুগম করতে পারে।
তবে এই কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান আলোচনাগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং একে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কয়েক মাসের সামরিক উত্তেজনার পর এটি একটি ইতিবাচক যোগাযোগের পথ হলেও, দ্রুত কোনো বড় সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ। তবুও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই আশা করছে যে, এই কূটনৈতিক তৎপরতা সংলাপের একটি নতুন ভিত্তি স্থাপন করবে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে।
সূত্র: গালফ বাংলা
Leave a Reply