নওগাঁয় আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ২৬০৩৮ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁয় আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন
কম দামে জমি হাতিয়ে নিতে হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ পিপলস সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নওগাঁ পৌরসভা এলাকায় বাজার দরের চেয়ে কম দামে জমি হাতিয়ে নিতে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযাগ উঠেছে পিপলস সিটি নামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ শহরের একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে পিপলস সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ২২ জন ওয়ারিশের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দেওয়ান মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি।
পড়ুন>>তীব্র গরমে অতিষ্ঠ নীলফামারীর জনজীবন হাসপাতালে রোগীর চাপ
লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান দাবি করেন, তার দাদা রিয়াজ উদ্দিন ১৯৭৩ সালে ফজলুর রহমান দেওয়ানের কাছ থেকে নওগাঁ পৌরসভার কোমাইগাড়ী মৌজায় আর এস ১৫৮ নম্বর খতিয়ানে ৪৫৪ দাগে ৮২ শতক সম্পত্তি ক্রয় করেন। তার দাদা ওই সম্পত্তি জীবদ্দশায় কোনো প্রকার হস্তান্তর বা বিক্রি না করেই মারা যান।
এ পরিস্থিতিতে বর্তমানে পৈত্রিক সূত্রে আমরা ২২ জন ওয়ারিশ ওই সম্পত্তির বৈধ মালিক। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করলে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তাঁদের নামে নামজারি সম্পন্ন হয় এবং তাঁরা নিয়মিত খাজনা-কর পরিশোধ করে সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।
লিখিত বক্তব্য অভিযোগ করা হয়, তাদের জমির পাশে ‘পিপলস সিটি’ নামের একটি আবসন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মহিউদ্দিন আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিটি কম মূল্যে কিনে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন।
পড়ুন>> নাগেশ্বরীতে দুধকুমারে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার
ওয়ারিশরা এতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নওগাঁ আমলী আদালতে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পিপলস সিটির পরিচালক ও নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী আতিকুর রহমান এই মামলার বাদী। মামলা দায়েরের পাশাপাশি কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা তাঁদের সামাজিকভাবে ক্ষুন্ন ও হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা নাকি জাল-জালিয়াতি করে ওই জমির মালিকানা দাবি করছি।
এজন্য তারা মামলা করেছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের পক্ষে সকল বৈধ কাগজপত্র, দলিল, নামজারি ও সরকারি নথি রয়েছে। আমরা চাই প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হোক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
আরও পড়ুন>>ঠাকুরগাঁওয়ে হিট স্ট্রোকে ছাগল ব্যবসায়ীর মৃত্যু
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পিপলস সিটির পরিচালক কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ‘যে ৪৫৪ দাগে তারা জমির মালিকানা দাবি করছেন ওই দাগে আমি দেওয়ান রেজাউল করিমের কাছ থেকে ৩৩ শতক জমি কিনেছি। আর বায়নানামা করা আছে ৪৮ শতক জমির জন্য। ওই দাগে যদি তারা জমি পায় তাহলে আমিও সমস্যায় পড়ি। তাই তারা যখন ওই জমির মালিকানা দাবি করে, তখন আমি জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে জানতে পারি, ওই জমির রেজিস্ট্রেশন ও খারিজে ঝামেলা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেই দলিল মূলে ওই ২২ জন ওয়ারিশের নামে খারিজ হয়েছে, সেই দলিলটা ১৯৭৩ সালে রেজিস্ট্রেশন করা আর দলিল সম্পাদন করা হয়েছে ১৯৭২ সালে। দলিল সম্পাদনের ৮ মাস পর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। অথচ আইনে আছে দলিল সম্পাদনের ৩ মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুন>>দেবীগঞ্জে মামি-ভাগ্নিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
এছাড়া ওই দলিলে সাব রেজিস্ট্রারের দুটি স্বাক্ষর আছে। দুইটি স্বাক্ষর দুই রকমের। যাচাই-বাছাইয়ে মনে হয়েছে, ওই দলিল জালিয়াতি করে সম্পাদন করা হয়েছে। এজন্য আমি বাদী হয়ে মামলাটি করেছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এক্সপার্ট দিয়ে তদন্ত করবেন। তদন্তে আমার অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হলে আমার মামলা মিথ্যা হবে। তার আগে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা বলার সুযোগ নাই।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে দেওয়ান আব্দুস সালাম, নাতি দেওয়ান মনোয়ার ও দেওয়ান শহীদ উপস্থিত ছিলেন।


























