ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারের নিরাপত্তায় যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনীর ২৪ সদস্য ভারত বাংলাদেশ-নেপালের চেয়ে খারাপ হতে পারে: মন্ত্রী ইরফান আনসারি চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দামে বড় ঝাঁকুনি শর্টকাট পথে অর্থ উপার্জনে ভালো আইনজীবী হওয়া সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় প্রাণ গেল তিন বাংলাদেশির চ্যাটজিপিটির ফিন্যান্স টুলে যুক্ত হলো ভয়েস সুবিধা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিষেধাজ্ঞা নামমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস হাসান মাহমুদের

কাউনিয়ায় তিস্তার তীব্র ভাঙনে ১৫ পরিবারের ভিটা বাড়ি বিলীন : আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ

কাউনিয়া (রংপুর) থেকে আব্দুল কুদ্দুছ বসুনিয়া
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫০ বার পড়া হয়েছে

কাউনিয়ায় তিস্তার তীব্র ভাঙনে ১৫ পরিবারের ভিটা বাড়ি বিলীন : আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তার তীব্র ভাঙনে ১৫ পরিবারের ভিটা বাড়ি বিলীন। আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ।

রাক্ষুসী তিস্তার তীব্র ভাঙনে কাউনিয়ার ১৫ পরিবারের ভিটাবাড়ি এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

কয়েশ’ একর ফসলী জমি গাছ পালা, মসজিদ,সহ ঘর বাড়ি ভিটামাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী পাড়ের শতাধিক পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় তালুকশাহবাজ গ্রামের ফজর আলীর(৭৪) এর সাথে তিনি জানান দুই বছরের ব্যবধানে তিনবার তিস্তা নদীর ভাঙনের কারণে বসতভিটা সরিয়ে নিতে হয়েছে তাকে।

এই দুই বছরে তাঁর সব আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ভূমিহীন হয়ে গেছেন। এখন তাঁর কোনো আবাদি জমি নেই। নতুন করে তিস্তা নদীর ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঘরবাড়ি ভেঙে ওয়াবদা বাঁধের উপরে বসত গড়তে ছুটতে হচ্ছে তাকে।
রংপুরের কাউনিয়ায় কয়েক দিন ধরে তিস্তা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ভাঙন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তার তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা, ইতিমধ্যে ভাঙনে উপজেলার পাঁচটি গ্রামের ১৫ বসতভিটা ও অনেক ফসলি জমি আর গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে।

তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার পাঞ্জর ভাঙা, ঢুষমারা, আরাজী হরিশ্বর, চরহয়বৎখাঁ,আজম খাঁ, চরগনাই,বিশ্বনাথ,হরিচরণ শর্মা, গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক পরিবার রয়েছে হুমকির মুখে । ভাঙনের ভয় আর উৎকন্ঠায় প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে পাঁচ গ্রামের মানুষের।

মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তার করাল গ্রাসে পাঞ্জরভাঙা, ঢুষমারা, তালুকশাহাবাজ গ্রামের অন্তত শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি, বাঁশঝাঁড়, গাছপালা ও স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কে কাটছে দিন কাটছে তাদের।

পাঞ্জরভাঙা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি রাতেই ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের । তিস্তা নদী পাড়ের ফজর আলীর মতো রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা, চরগনাই, হয়বত খাঁ, আজম খাঁ, চর বিশ্বনাথ গ্রামের তিস্তা নদী তীরবর্তী সবাই একই আতঙ্কে ভুগছেন।

বুধবার সকালে তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত ঐ গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙনের আতঙ্কে কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ গাছ কাটছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিদুল হক জানান, ইতিমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। কাউনিয়া- পীরগাছা এলাকার মাননীয় এমপি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী টিপু মুন্সী ভাঙন মোকাবেলার জন্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরাবরে একটি ডিও লেটার প্রদান করেছেন। ভাঙন মোকাবেলায় অতি শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে,রংপুর পাউবোর কর্মকর্তারা আশ্বাস প্রদান করেছেন।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাউনিয়ায় তিস্তার তীব্র ভাঙনে ১৫ পরিবারের ভিটা বাড়ি বিলীন : আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তার তীব্র ভাঙনে ১৫ পরিবারের ভিটা বাড়ি বিলীন। আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ।

রাক্ষুসী তিস্তার তীব্র ভাঙনে কাউনিয়ার ১৫ পরিবারের ভিটাবাড়ি এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

কয়েশ’ একর ফসলী জমি গাছ পালা, মসজিদ,সহ ঘর বাড়ি ভিটামাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী পাড়ের শতাধিক পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় তালুকশাহবাজ গ্রামের ফজর আলীর(৭৪) এর সাথে তিনি জানান দুই বছরের ব্যবধানে তিনবার তিস্তা নদীর ভাঙনের কারণে বসতভিটা সরিয়ে নিতে হয়েছে তাকে।

এই দুই বছরে তাঁর সব আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ভূমিহীন হয়ে গেছেন। এখন তাঁর কোনো আবাদি জমি নেই। নতুন করে তিস্তা নদীর ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঘরবাড়ি ভেঙে ওয়াবদা বাঁধের উপরে বসত গড়তে ছুটতে হচ্ছে তাকে।
রংপুরের কাউনিয়ায় কয়েক দিন ধরে তিস্তা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ভাঙন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তার তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা, ইতিমধ্যে ভাঙনে উপজেলার পাঁচটি গ্রামের ১৫ বসতভিটা ও অনেক ফসলি জমি আর গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে।

তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার পাঞ্জর ভাঙা, ঢুষমারা, আরাজী হরিশ্বর, চরহয়বৎখাঁ,আজম খাঁ, চরগনাই,বিশ্বনাথ,হরিচরণ শর্মা, গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক পরিবার রয়েছে হুমকির মুখে । ভাঙনের ভয় আর উৎকন্ঠায় প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে পাঁচ গ্রামের মানুষের।

মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তার করাল গ্রাসে পাঞ্জরভাঙা, ঢুষমারা, তালুকশাহাবাজ গ্রামের অন্তত শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি, বাঁশঝাঁড়, গাছপালা ও স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কে কাটছে দিন কাটছে তাদের।

পাঞ্জরভাঙা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি রাতেই ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের । তিস্তা নদী পাড়ের ফজর আলীর মতো রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা, চরগনাই, হয়বত খাঁ, আজম খাঁ, চর বিশ্বনাথ গ্রামের তিস্তা নদী তীরবর্তী সবাই একই আতঙ্কে ভুগছেন।

বুধবার সকালে তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত ঐ গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙনের আতঙ্কে কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ গাছ কাটছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিদুল হক জানান, ইতিমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। কাউনিয়া- পীরগাছা এলাকার মাননীয় এমপি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী টিপু মুন্সী ভাঙন মোকাবেলার জন্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরাবরে একটি ডিও লেটার প্রদান করেছেন। ভাঙন মোকাবেলায় অতি শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে,রংপুর পাউবোর কর্মকর্তারা আশ্বাস প্রদান করেছেন।

 

Facebook Comments Box