ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি: সৌদি আরবে হুতিদের হামলা ও পাল্টা বিমান অভিযান
- আপডেট সময় : ০৯:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি: সৌদি আরবে হুতিদের হামলা ও পাল্টা বিমান অভিযান
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও আবাসিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে অন্তত ১২৯টি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। এই সংঘাতের জেরে লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় সৌদি আরবের তেল ও জ্বালানি রপ্তানি খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের যোদ্ধারা সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশের শারুরায় অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রাগার এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে।
পড়ুন>>দলের সকল কমিটিতে শূন্য পদ পূরণের সিদ্ধান্ত বিএনপির
এ সময় বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের জাজান অঞ্চলের আল-তুওয়াল গভর্নরেটে হুতিদের গোলার আঘাতে একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন আহত হয়েছেন। সৌদি সিভিল ডিফেন্স এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে।
জবাবে সৌদি আরবের এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো খামিস মুশাইত ও তায়েফ ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে ইয়েমেনের তাইজ, মারিব, হোদাইদাহ, আল-জাওফ, সাদা, আমরাণ ও হাজ্জাহ প্রদেশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। জুলাই মাস থেকে নতুন করে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। হুতিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের জনগণের ওপর হওয়া প্রতিটি হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
পড়ুন>>এমবাপের জোড়ায় ৪-১ গোলে বড় জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিরা বর্তমানে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ি এলাকা থেকে চোরাগোপ্তা হামলা ও ড্রোন প্রযুক্তির সমন্বয়ে শক্তিশালী সামরিক কৌশল অবলম্বন করছে। ‘বাশা রিপোর্ট’-এর প্রধান বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে হুতিদের এই অগ্রগতির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সরকারি পক্ষে বিভক্ত আটটি ভিন্ন বাহিনী থাকায় তারা হুতিদের মতো সুসংহত শক্তির মোকাবিলায় ব্যর্থ হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরসহ লোহিত সাগরের পুরো উপকূলরেখা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দুটি দ্বীপ হুতিদের দখলে চলে গেছে। এটি তাদের সৌদি জাহাজগুলোর ওপর সরাসরি হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ইয়েমেন এখন আগের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক ও নতুন এক যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।























