আমন ধানের উত্তম বীজতলা তৈরীর কৌশল : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
আমন ধানের উত্তম বীজতলা তৈরীর কৌশল : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের ৯ ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক নাগেশ্বরীতে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে ভ্রাম্যমান সৌরসেচ ব্যবস্থা বিতরণ কাউনিয়ায় মসজিদ থেকে একের পর এক মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের ৮টি ছাড়া সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক ভাইরাল রিল ভিডিও: প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পালের পাশে সহকর্মীরা, ‘শিক্ষকরাও মানুষ’ যাদুকাটায় প্রশাসনের অভিযানে বালু খেকোদের হামলা শুভ সকাল; আজ রবিবার ২৬ জুলাই ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা ভূরুঙ্গামারীতে নসিমনের চাপায় চালক নিহত ভারতের ছাত্র আন্দোলন প্রত্যাহার: ক্ষতিপূরণসহ দাবি মেনে নিল সরকার তাড়াশে বহুল আলোচিত মারুফ হাসানের হত্যাকারীর মৃত্যু

আমন ধানের উত্তম বীজতলা তৈরীর কৌশল

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২
আমন ধানের উত্তম বীজতলা তৈরীর কৌশল

 

 

আমন ধানের উত্তম বীজতলা তৈরীর কৌশল

 

 

আমন ধানের বীজতলা তৈরির আগে জেনে নিতে হবে কখন কোন জাতের ধানের বীজ বীজতলায় বপন করতে হয়। চারটি পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করা যায়। এগুলো হচ্ছে শুকনো, কাদাময়, ভাসমান ও ডাপোগ বীজতলা।

শুকনো বীজতলা: উপযুক্ত আর্দ্রতায় ৫-৬ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটিকে একেবারে ঝুরঝুরে করার পর জমি সমান করে শুকনো বীজতলা তৈরি করা যায়।

এবার চারাগাছের পরবর্তী পরিচর্যা ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য ২৫-৩০ সেন্টিমিটার চওড়া নালা তৈরি হবে। বেডের উপরি ভাগের মাটি ভালোভাবে সমান করার পর শুকনো বীজ সমানভাবে ছিটিয়ে দিন।

এরপর উপরের মাটি এমন ভাবে নাড়াচাড়া করতে হবে যেন বীজগুলো ২.৫-৪.০ সেন্টিমিটার (১.০-১.৫ ইঞ্চি) মাটির নিচে চলে যায়। এ কাজকে সহজ করতে ধুলা মাটির আস-রণ দেওয়া যায়। বেডের মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা নিশ্চিত করার জন্য নালা ভর্তি করে সেচ দেয়া উচিত।

কাদাময় বা ভেজা বীজতলা: দোঁআশ ও এটেল মাটি এ বীজতলায় জন্য ভাল। আরেকটি কথা, বীজতলার জমি উর্বর হওয়া প্রয়োজন। যদি জমি হয় তাহলে প্রতি বর্গমিটার জমিতে দুই কেজি হারে জৈব সার (পচা গোবর বা আবর্জনা) সুন্দর ভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।

এরপর জমিতে ৫-৬ সেন্টিমিটার পানি দিয়ে দু-তিনটি চাষ ও মই দিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন রেখে দিন এবং পানি ভালভাবে আটকে রাখুন। আগাছা, খড় ইত্যাদি পচে গেল আবার চাষ ও মই দিয়ে থকথকে কাদাময় করে জমি তৈরি করতে হবে।

ভাসমান বীজতলা : বন্যা কবলিত এলাকায় যদি বীজতলা করার মতো উঁচু জায়গা না থাকে বা বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চারা তৈরির প্রযোজনীয় সময় না পাওয়া যায় তাহলে বন্যার পানি, পুকুর, ডোবা বা খালের পানির উপর বাঁশের চাটাইয়ের মাচা বা কলাগাছের ভেলা করে তার উপর ২-৩ সেন্টিমিটার পরিমাণ কাদার প্রলেপ দিয়ে ভেজা বীজতলার মতো ভাসমান বীজতলা তৈরি করা যায়।

বন্যার পানিতে যেন ভেসে না যায় সেজন্য বীজতলা দড়ি বা তার দিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা দরকার। পানিতে ভাসমান থাকার জন্য এ বীজতলার পানি সেচের দরকার হয় না

ডাপোগ বীজতলা: বন্যা কবলিত এলাকার জন্য ডাপোগ বীজতলা করা যায়। বাড়ীর উঠান, পাকা বারান্দা বা যে কোন শুকনো জায়গায় চারদিকে মাটি, কাঠ, ইট বা কলাগাছের বাকল দিয়ে চৌকোণা করে নিতে হবে। এবার কলাপাতা বা পলিথিন বিছিয়ে তার উপর ঘন করে অঙ্কুরিত বীজ বুনতে হবে।

এ বীজতলার নিচে আচ্ছাদন থাকায় চারাগাছ মাটি থেকে কোনররূপ খাদ্য বা পানি পায় না বলে ৫-৬ ঘন্টা পর পর ভিজিয়ে দিতে হবে এবং দু’সপ্তাহের মধ্যেই চারা তুলে নিয়ে রোপণ করা দরকার। অন্যথায় চারাগাছ খাদ্যের অভাবে মারা যেতে পারে।

বীজ নির্বাচন: ভালো চারা পাওয়ার জন্য ভালো বীজের বিকল্প নেই। তাই বিএডিসি, স্থানীয় কৃষি বিভাগ বা ব্রি কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে ভালো বীজ সংগ্রহ করে বীজতলায় বপন করতে হবে।

জমি নির্বাচন: বীজতলা তৈরি করে বীজতলায় বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।রোদ পড়ে এমন উর্বর ও সেচ সুবিধাযুক্ত জমি বীজতলার জন্য নির্বাচন করতে হবে।দীর্ঘ, মধ্যম ও স্বল্প জীবনকালের জাতের জন্য আলাদা আলাদা স্থান ও সময়ে বীজতলায় বপন করতে হবে। পরিমিত ও মধ্যম মাত্রার উর্বর মাটিতে বীজতলার জন্য কোনো সার প্রয়োগ করতে হয় না।

তবে নিম্ন, অতি নিম্ন অথবা অনুর্বর মাটির ক্ষেত্রে গোবর অথবা খামারজাত সার প্রতি শতকে ২ মণ হিসাবে প্রয়োগ করতে হবে।চাষের আগে প্রতি বর্গমিটার (প্রায় ১ ফুট ৩.৫ ফুট) জায়গার জন্য ২-৩ কেজি জৈব সার দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করতে হবে।

বীজতলা তৈরি: শুকনা বীজতলা ছাড়া অন্য বীজতলায় চারা বুনার জন্য পানি দিয়ে জমি থকথকে কাদা করে এক মিটার চওড়া এবং জমির দৈর্ঘ্য অনুসারে লম্বা করে ভেজা বীজতলা তৈরি করতে হবে। জমির দৈর্ঘ্য বরাবর ১ মিটার চওড়া বেড তৈরি করতে হবে।

বেডের দুই পাশের মাটি দিয়ে বেড তৈরি করা যায়। এরপর বেডের উপরের মাটি বাঁশ বা কাঠের চ্যাপ্টা লাঠি দিয়ে সমান করতে হবে। কাদা বেশি হলে বীজ মাটিতে ডুবে যাবে এবং তাতে ভালভাবে বীজ গজাবে না।

এ অবস্থায় বেড তৈরির পৌনে এক ঘন্টা পর বীজ বোনা দরকার। উল্লেখ্য যে, বীজতলা তৈরির জন্য দুই বেডের মাঝে যে নালা তৈরি হলো তা খুবই প্রয়োজন।

এ নালা যেমন সেচের কাজে লাগবে তেমনি প্রয়োজনে পানি নিষ্কাশন ও বীজতলার পরিচর্যা করা সহজ হয়। বীজতলা জন্য যেসব এলাকায় উঁচু জমি নেই সেসব এলাকায় ভাসমান বীজতলা তৈরী করা যেতে পারে। জমি চাষ দিয়ে তৈরী বীজতলায় বীজ বপন দূর থেকে ছিটিয়ে বীজ বোনার ফলে সমান দুরত্বে বীজ পড়েনা।

জেনে নিন>>বস্তায় বাদাম চাষে সাড়া ফেলেছে কাউনিয়ার কৃষক আব্দুল মালেক

 

ঘন/দলাদলা বা পাতলাভাবে বীজ পড়লে বীজতলার সব জায়গায় সমান হারে চারা গজায়না।বীজতলা সমতল করে তৈরী করা যায় না, ফলে উঁচু স্থানে বোনা বীজ শুকিয়ে এবং গর্ত/নিচু স্থানে বোনা বীজ পঁচে বপনকৃত বীজের ২০-৪০% নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ঠিকমত পরিচর্যা করা যায়না বিধায় ধানের চারাও অসুস্থ এবং দূর্বল হয়।

বীজতলায় রোগ ব্যবস্থাপনা: আমন বীজতলায় বাকানি রোগ দেখা দিতে পারে। বাকানি রোগাক্রান্ত ধানের চারা স্বাভাবিক চারা হালকা সবুজ, লিকলিকে, ও স্বাভাবিক চারার চেয়ে অনেকটা লম্বা হয়ে অন্য চারার ওপরে ঢলে পড়ে।

আক্রান্ত চারাগুলো ক্রমান্বয়ে মারা যায়। আক্রান্ত চারার নিচের গিট থেকে অস্থানিক শিকড়ও দেখা যেতে পারে।

দমন ব্যবস্থাপনা: বাকানি রোগ দমনের জন্য অটোস্টিন ৫০ডব্লিউপি বা নোইন দ্বারা বীজ অথবা চারা শোধন করা (১ লিটার পানিতে ৩ গ্রাম অটোস্টিন ৫০ডব্লিউপি বা নোইন মিশিয়ে তাতে ধানের বীজ অথবা চারা ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখা)। আক্রান্ত গাছ সংগ্রহ করে পুঁড়িয়ে ফেলতে হবে। বীজতলা হিসেবে একই জমি ব্যবহার না করা।

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

One response to “আমন ধানের উত্তম বীজতলা তৈরীর কৌশল”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!