ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত সাত মাসে দেশে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা অর্থনৈতিক উৎকর্ষে বহুজাতিক কোম্পানির চেয়ে কৌশলী ব্যবস্থার গুরুত্ব নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন ঝুলে থাকায় বেড়েছে কূটনৈতিক জটিলতা নাটকীয় জয়ে বার্সার পাশে রিয়াল, তবুও অসন্তুষ্ট মরিনহো সিডনির বাসে স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলে গালাগাল বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাসে উন্নতির স্বীকৃতি মুডিসের দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি চাকরির সাক্ষাৎকারে নতুন পোশাক নীতি

সূর্য ওঠার আগেই মেঘনা পাড়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের মিলনমেলা

সৃষ্টি স্বাস্থ‍্য ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সূর্য ওঠার আগেই মেঘনা পাড়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের মিলনমেলা

 

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীর পাড়ে প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই যেন এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশ তৈরি হয়। ১৪ আগস্ট শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে দেখা যায়, মেঘনার স্বচ্ছ পানিতে জেলেদের জাল ফেলার ব্যস্ততা আর রেল ও সড়কসেতু দিয়ে ট্রেন ও যানবাহনের যাতায়াতের মধ্যেই নদীর পাড়ে জড়ো হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ দৌড়াচ্ছেন, কেউ হাঁটছেন, আবার কেউ করছেন নিয়মমাফিক শরীরচর্চা। এই প্রাতর্ভ্রমণকারীদের অনেকেরই মূলমন্ত্র হলো—সূর্য ওঠার আগেই দিন শুরু করতে হবে।

প্রায় ১৫ বছর আগে নদীর পাড়কেন্দ্রিক ‘সূর্যের আগে উঠি’ নামের একটি সংগঠন থাকলেও সেটি এখন আর নেই। তবে সেই স্লোগানকে ধারণ করে আজও স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়ম করে নদীর পাড়ে শরীরচর্চা করছেন। এখানে অন্তত চারটি বড় দল নিয়মিত ব্যায়ামের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এসব দলের কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি, সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক না থাকলেও সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের অঘোষিত শৃঙ্খলা রয়েছে।

পড়ুন>>ই-জোন এইচআরএমে ৫ হাজার কর্মীর বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

কাকলি খেলাঘর আসর ভৈরব শাখার সভাপতি মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় ১৫ জনের একটি দল ‘ম্যারাথন দৌড় গ্রুপ’ নামে নিয়মিত শরীরচর্চা করে। ১৪ আগস্ট সকাল পৌনে ছয়টার দিকে দেখা যায়, তাঁরা ওয়ার্মআপ শেষে সেতুর ওপর উঠে হালকা দৌড় শুরু করেছেন। প্রায় এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁরা আশুগঞ্জ সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে যান।

 

 

 

মফিজুল ইসলাম জানান, আগে রাত জেগে থাকার অভ্যাসে সকালে ওঠা কঠিন ছিল, কিন্তু এখন সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে ওঠা তাঁদের রুটিন হয়ে গেছে।

 

ব্যাংকার হাবিবুর রহমান জানান, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে ওঠায় তিনি ১০ কেজি ওজন কমিয়েছেন। কেউ টানা তিন দিন অনুপস্থিত থাকলে তাদের মেসেঞ্জার গ্রুপে জবাবদিহি করতে হয়। এই দলের সদস্য সজল কুমার দেব ও আল আমিনের মতে, হাঁটা এখন তাঁদের কাছে নেশার মতো, যা শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। প্রশিক্ষক মঞ্জু মিয়ার মতে, সদস্যরা দৌড়াতে বেশি আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে তারা একটি ম্যারাথন ক্লাব গড়ার পরিকল্পনা করছেন।

পড়ুন>>শীতকালীন মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

দুই সেতুর মাঝে ‘এভারগ্রিন চত্বর’ ঘিরে গড়ে উঠেছে ৫০ সদস্যের আরেকটি সক্রিয় দল। গত ছয় বছর ধরে চলা এই দলের সদস্যরা নিয়মিত ইয়োগা ও ব্যায়াম করেন। ঢাকার চিকিৎসক আতাউর রহমান মাঝেমধ্যে এসে তাঁদের ইয়োগা প্রশিক্ষণ দেন।

 

 

দলের সদস্য আবদুল মতিন বলেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন তারা নিয়ম করে নদীর পাড়ে আসেন। প্রশিক্ষক কাজী উসমান গণির ভাষ্যমতে, সকাল পৌনে ছয়টার মধ্যে সবাইকে উপস্থিত হতে হয় এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম ও ৩০ মিনিট হাঁটার জন্য সময় বরাদ্দ রাখতে হয়। নিয়মিত ব্যায়াম শেষে তাঁরা খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করেন এবং উচ্চ স্বরে হাসির চর্চাও করেন। এই আড্ডা থেকে সমাজ, শিক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার নানা বার্তা উঠে আসে। নাসির উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম ও মনমোহনসহ অনেকেই এই দলের সক্রিয় সদস্য।

 

পড়ুন>>ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, হুড়োহুড়িতে শিশুসহ নিহত ৬

শরীরচর্চার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও অনেকে কাজ করছেন। মো. বাবুল, চিকিৎসক আবুল কাসেম ও তাঁদের দলের সদস্যরা হাঁটার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত কাজ করেন। নদীর পাড়ের আগাছা পরিষ্কার করা এবং গাছ লাগানো তাঁদের রুটিন। তাদের লাগানো অসংখ্য কৃষ্ণচূড়া ও দুটি বটগাছ এখন বড় হয়ে ছায়া দিতে শুরু করেছে। অনেকে হাঁটা শেষে মেঘনার পানিতে গোসল করে বাড়ি ফেরেন।

প্রায় দুই দশক ধরে এই প্রাতর্ভ্রমণ ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত ভৈরব সরকারি হাজি আসমত কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান। একসময় তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘গাঙ সমিতি’ এখনো সক্রিয়। বর্তমানে তিনি অনেক প্রাতর্ভ্রমণকারীকে নিয়ে ‘ট্যুরিস্ট ক্লাব’ গঠন করেছেন।

আরও পড়ুন>>ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীতে স্পিডবোট ও বাল্কহেডের সংঘর্ষে নিহত ২

শামসুজ্জামানের মতে, সুস্থ থাকার জন্য হাঁটার পাশাপাশি দেশ ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মেঘনার এই তিন সেতুর প্রান্ত কেবল শরীরচর্চার জায়গা নয়, এটি এখন বন্ধুত্ব ও সামাজিক যোগাযোগের একটি অনন্য মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সূর্য ওঠার আগেই মেঘনা পাড়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের মিলনমেলা

আপডেট সময় : ১০:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সূর্য ওঠার আগেই মেঘনা পাড়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের মিলনমেলা

 

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীর পাড়ে প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই যেন এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশ তৈরি হয়। ১৪ আগস্ট শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে দেখা যায়, মেঘনার স্বচ্ছ পানিতে জেলেদের জাল ফেলার ব্যস্ততা আর রেল ও সড়কসেতু দিয়ে ট্রেন ও যানবাহনের যাতায়াতের মধ্যেই নদীর পাড়ে জড়ো হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ দৌড়াচ্ছেন, কেউ হাঁটছেন, আবার কেউ করছেন নিয়মমাফিক শরীরচর্চা। এই প্রাতর্ভ্রমণকারীদের অনেকেরই মূলমন্ত্র হলো—সূর্য ওঠার আগেই দিন শুরু করতে হবে।

প্রায় ১৫ বছর আগে নদীর পাড়কেন্দ্রিক ‘সূর্যের আগে উঠি’ নামের একটি সংগঠন থাকলেও সেটি এখন আর নেই। তবে সেই স্লোগানকে ধারণ করে আজও স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়ম করে নদীর পাড়ে শরীরচর্চা করছেন। এখানে অন্তত চারটি বড় দল নিয়মিত ব্যায়ামের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এসব দলের কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি, সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক না থাকলেও সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের অঘোষিত শৃঙ্খলা রয়েছে।

পড়ুন>>ই-জোন এইচআরএমে ৫ হাজার কর্মীর বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

কাকলি খেলাঘর আসর ভৈরব শাখার সভাপতি মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় ১৫ জনের একটি দল ‘ম্যারাথন দৌড় গ্রুপ’ নামে নিয়মিত শরীরচর্চা করে। ১৪ আগস্ট সকাল পৌনে ছয়টার দিকে দেখা যায়, তাঁরা ওয়ার্মআপ শেষে সেতুর ওপর উঠে হালকা দৌড় শুরু করেছেন। প্রায় এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁরা আশুগঞ্জ সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে যান।

 

 

 

মফিজুল ইসলাম জানান, আগে রাত জেগে থাকার অভ্যাসে সকালে ওঠা কঠিন ছিল, কিন্তু এখন সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে ওঠা তাঁদের রুটিন হয়ে গেছে।

 

ব্যাংকার হাবিবুর রহমান জানান, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে ওঠায় তিনি ১০ কেজি ওজন কমিয়েছেন। কেউ টানা তিন দিন অনুপস্থিত থাকলে তাদের মেসেঞ্জার গ্রুপে জবাবদিহি করতে হয়। এই দলের সদস্য সজল কুমার দেব ও আল আমিনের মতে, হাঁটা এখন তাঁদের কাছে নেশার মতো, যা শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। প্রশিক্ষক মঞ্জু মিয়ার মতে, সদস্যরা দৌড়াতে বেশি আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে তারা একটি ম্যারাথন ক্লাব গড়ার পরিকল্পনা করছেন।

পড়ুন>>শীতকালীন মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

দুই সেতুর মাঝে ‘এভারগ্রিন চত্বর’ ঘিরে গড়ে উঠেছে ৫০ সদস্যের আরেকটি সক্রিয় দল। গত ছয় বছর ধরে চলা এই দলের সদস্যরা নিয়মিত ইয়োগা ও ব্যায়াম করেন। ঢাকার চিকিৎসক আতাউর রহমান মাঝেমধ্যে এসে তাঁদের ইয়োগা প্রশিক্ষণ দেন।

 

 

দলের সদস্য আবদুল মতিন বলেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন তারা নিয়ম করে নদীর পাড়ে আসেন। প্রশিক্ষক কাজী উসমান গণির ভাষ্যমতে, সকাল পৌনে ছয়টার মধ্যে সবাইকে উপস্থিত হতে হয় এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম ও ৩০ মিনিট হাঁটার জন্য সময় বরাদ্দ রাখতে হয়। নিয়মিত ব্যায়াম শেষে তাঁরা খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করেন এবং উচ্চ স্বরে হাসির চর্চাও করেন। এই আড্ডা থেকে সমাজ, শিক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার নানা বার্তা উঠে আসে। নাসির উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম ও মনমোহনসহ অনেকেই এই দলের সক্রিয় সদস্য।

 

পড়ুন>>ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, হুড়োহুড়িতে শিশুসহ নিহত ৬

শরীরচর্চার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও অনেকে কাজ করছেন। মো. বাবুল, চিকিৎসক আবুল কাসেম ও তাঁদের দলের সদস্যরা হাঁটার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত কাজ করেন। নদীর পাড়ের আগাছা পরিষ্কার করা এবং গাছ লাগানো তাঁদের রুটিন। তাদের লাগানো অসংখ্য কৃষ্ণচূড়া ও দুটি বটগাছ এখন বড় হয়ে ছায়া দিতে শুরু করেছে। অনেকে হাঁটা শেষে মেঘনার পানিতে গোসল করে বাড়ি ফেরেন।

প্রায় দুই দশক ধরে এই প্রাতর্ভ্রমণ ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত ভৈরব সরকারি হাজি আসমত কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান। একসময় তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘গাঙ সমিতি’ এখনো সক্রিয়। বর্তমানে তিনি অনেক প্রাতর্ভ্রমণকারীকে নিয়ে ‘ট্যুরিস্ট ক্লাব’ গঠন করেছেন।

আরও পড়ুন>>ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীতে স্পিডবোট ও বাল্কহেডের সংঘর্ষে নিহত ২

শামসুজ্জামানের মতে, সুস্থ থাকার জন্য হাঁটার পাশাপাশি দেশ ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মেঘনার এই তিন সেতুর প্রান্ত কেবল শরীরচর্চার জায়গা নয়, এটি এখন বন্ধুত্ব ও সামাজিক যোগাযোগের একটি অনন্য মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। 

 

 

 

Facebook Comments Box