ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় ১১ বছর বয়সী শিশুর নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’। অথচ বাস্তবে এখনও কম বয়সী শিশুদের বিয়ের আয়োজনের মতো ঘটনা ঘটছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১১ বছর ৯ মাস বয়সী এক শিশুর বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে প্রশাসন তা বন্ধ করে দিয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুর বাবা-মায়ের কাছ থেকে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। যদিও শিশুটির অভিভাবকেরা বিয়ের আয়োজনের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ছেলেপক্ষ মেয়ে দেখতে এসেছিল, কিন্তু বিয়ের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁদের দাবি, ছেলেপক্ষ মেয়েকে দেখেছে; কিন্তু তাঁরা বিয়ে দেবেন এমনটা বলেননি।

তবে স্থানীয় অধিকারকর্মী ও মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এত কম বয়সী শিশুর বিয়ের এমন প্রচেষ্টার খবর সাম্প্রতিক সময়ে বিরল। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানিয়েছেন, সাড়ে ৯ মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি অন্তত ৫০টি বাল্যবিবাহ রোধ করেছেন। এর মধ্যে ১২ বছর না হওয়া শিশুটিই সবচেয়ে কম বয়সী। প্রশাসনের মতে, বর্তমানে অনেক পরিবার সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে বা প্রতিবেশীদের সমর্থনে গোপনে বিয়ের আয়োজন করছে, যার ফলে বিয়ের খবর আগের মতো সহজে নজরে আসে না।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলেদের বিয়ে আইনত অপরাধ। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশ ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। বিবিএস ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের ৫৫.৮ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়েছিল। এছাড়া ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৩ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের হার নিম্নমুখী। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ১,৮৪৬টি বাল্যবিবাহ ঠেকানো হয়েছিল, যা ২০২৪ সালে ১,৪৭৪টিতে এবং ২০২৫ সালে ৯৬৮টিতে নেমে আসে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মাত্র ৪৭৯টি বিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এর কারণ হিসেবে অধিকারকর্মীরা বেসরকারি পর্যায়ে তহবিল সংকট এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ঘাটতিকে দায়ী করছেন। অধিকারকর্মীদের মতে, মাঠপর্যায়ে গত দুই বছরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ স্তিমিত থাকা, তথ্যদাতা গোপনীয়তার আস্থা না পাওয়া, বেসরকারি পর্যায়ে তহবিলসংকটে সচেতনতার কাজ কমে যাওয়ার কারণে প্রশাসন বাল্যবিবাহ আয়োজনের খবর কম পেয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিসহ সাংস্কৃতিক বিকাশে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সাতক্ষীরায় দেড় বছরে এক মাদ্রাসার ১৬ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ। তাঁর মতে, পরিচয় গোপন থাকবে কি না, সেই আস্থা না থাকায় অনেকে খবর দেন না।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সমস্যাটি মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংখ্যা ৪,৮৮৩ থেকে বাড়িয়ে ১৪,৭৯০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রী আরও স্বীকার করেন যে, গ্রাম পর্যায়ে আইন প্রয়োগ অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে বাল্যবিবাহের পক্ষে সামাজিক সমর্থন পাওয়া যায়। দূরবর্তী গ্রামগুলোতে আইন প্রয়োগ করাও কঠিন। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, সরকার তা ভাবছে।

তহবিল ও জনবল সংকটের প্রভাব মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট। যেমন, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলের (ওসিসি) কর্মীরা উপজেলা পর্যায়ে বাল্যবিবাহ রোধে সক্রিয় থাকলেও, বেতনভাতা না পাওয়ায় দীর্ঘ ৯ মাস ধরে তারা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের দায়িত্ব পালনে। অধিকারকর্মী সাকিবুর রহমান জানান, গত ৯ মাসে তিনি জেলার ৭০টি বিদ্যালয়ে গিয়ে অন্তত ৭০০টি বাল্যবিবাহের খবর পেয়েছেন, যা প্রশাসনের অগোচরেই থেকেছে। অভিভাবকেরা তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার অভাবকে অন্যতম কারণ মনে করেন। সাকিবুর রহমানের দাবি, গত ৯ মাসে এলাকার ৭০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি অন্তত ৭০০ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের খবর পেয়েছেন, যেগুলো প্রশাসনের নজরে আসেনি।

ব্র্যাকের ‘বর্ন টু বি আ ব্রাইড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দারিদ্র্য, যৌতুকের ভয়, নিরাপত্তার অভাব এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা অভিভাবকদের বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জেন্ডার, জাস্টিস ও ডাইভারসিটি বিভাগের পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব উল্লেখ করেছেন, ইউএসএআইডির কার্যক্রম বন্ধের পর অনেক বেসরকারি সংস্থার তহবিল সংকট তৈরি হওয়ায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের কাজ অনেকটা স্থিমিত হয়ে পড়েছে। অভিভাবকেরা অনেক সময় মেয়ের নিরাপত্তা বা ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা না পেয়ে দ্রুত বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চান, যা প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।

সাতক্ষীরার ওই শিশুটির মতো আরও অনেকের ক্ষেত্রে শুধু সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবককে ছেড়ে দেওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত নজরদারি না থাকলে গোপনে পুনরায় বিয়ের আয়োজন হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা এবং প্রান্তিক পর্যায়ের পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদানই বাল্যবিবাহের মতো অভিশাপ থেকে কন্যাশিশুদের রক্ষা করার প্রধান উপায় হতে পারে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাতক্ষীরায় ১১ বছর বয়সী শিশুর নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’। অথচ বাস্তবে এখনও কম বয়সী শিশুদের বিয়ের আয়োজনের মতো ঘটনা ঘটছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১১ বছর ৯ মাস বয়সী এক শিশুর বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে প্রশাসন তা বন্ধ করে দিয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুর বাবা-মায়ের কাছ থেকে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। যদিও শিশুটির অভিভাবকেরা বিয়ের আয়োজনের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ছেলেপক্ষ মেয়ে দেখতে এসেছিল, কিন্তু বিয়ের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁদের দাবি, ছেলেপক্ষ মেয়েকে দেখেছে; কিন্তু তাঁরা বিয়ে দেবেন এমনটা বলেননি।

তবে স্থানীয় অধিকারকর্মী ও মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এত কম বয়সী শিশুর বিয়ের এমন প্রচেষ্টার খবর সাম্প্রতিক সময়ে বিরল। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানিয়েছেন, সাড়ে ৯ মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি অন্তত ৫০টি বাল্যবিবাহ রোধ করেছেন। এর মধ্যে ১২ বছর না হওয়া শিশুটিই সবচেয়ে কম বয়সী। প্রশাসনের মতে, বর্তমানে অনেক পরিবার সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে বা প্রতিবেশীদের সমর্থনে গোপনে বিয়ের আয়োজন করছে, যার ফলে বিয়ের খবর আগের মতো সহজে নজরে আসে না।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলেদের বিয়ে আইনত অপরাধ। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশ ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। বিবিএস ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের ৫৫.৮ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়েছিল। এছাড়া ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৩ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের হার নিম্নমুখী। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ১,৮৪৬টি বাল্যবিবাহ ঠেকানো হয়েছিল, যা ২০২৪ সালে ১,৪৭৪টিতে এবং ২০২৫ সালে ৯৬৮টিতে নেমে আসে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মাত্র ৪৭৯টি বিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এর কারণ হিসেবে অধিকারকর্মীরা বেসরকারি পর্যায়ে তহবিল সংকট এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ঘাটতিকে দায়ী করছেন। অধিকারকর্মীদের মতে, মাঠপর্যায়ে গত দুই বছরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ স্তিমিত থাকা, তথ্যদাতা গোপনীয়তার আস্থা না পাওয়া, বেসরকারি পর্যায়ে তহবিলসংকটে সচেতনতার কাজ কমে যাওয়ার কারণে প্রশাসন বাল্যবিবাহ আয়োজনের খবর কম পেয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিসহ সাংস্কৃতিক বিকাশে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সাতক্ষীরায় দেড় বছরে এক মাদ্রাসার ১৬ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ। তাঁর মতে, পরিচয় গোপন থাকবে কি না, সেই আস্থা না থাকায় অনেকে খবর দেন না।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সমস্যাটি মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংখ্যা ৪,৮৮৩ থেকে বাড়িয়ে ১৪,৭৯০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রী আরও স্বীকার করেন যে, গ্রাম পর্যায়ে আইন প্রয়োগ অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে বাল্যবিবাহের পক্ষে সামাজিক সমর্থন পাওয়া যায়। দূরবর্তী গ্রামগুলোতে আইন প্রয়োগ করাও কঠিন। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, সরকার তা ভাবছে।

তহবিল ও জনবল সংকটের প্রভাব মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট। যেমন, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলের (ওসিসি) কর্মীরা উপজেলা পর্যায়ে বাল্যবিবাহ রোধে সক্রিয় থাকলেও, বেতনভাতা না পাওয়ায় দীর্ঘ ৯ মাস ধরে তারা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের দায়িত্ব পালনে। অধিকারকর্মী সাকিবুর রহমান জানান, গত ৯ মাসে তিনি জেলার ৭০টি বিদ্যালয়ে গিয়ে অন্তত ৭০০টি বাল্যবিবাহের খবর পেয়েছেন, যা প্রশাসনের অগোচরেই থেকেছে। অভিভাবকেরা তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার অভাবকে অন্যতম কারণ মনে করেন। সাকিবুর রহমানের দাবি, গত ৯ মাসে এলাকার ৭০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি অন্তত ৭০০ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের খবর পেয়েছেন, যেগুলো প্রশাসনের নজরে আসেনি।

ব্র্যাকের ‘বর্ন টু বি আ ব্রাইড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দারিদ্র্য, যৌতুকের ভয়, নিরাপত্তার অভাব এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা অভিভাবকদের বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জেন্ডার, জাস্টিস ও ডাইভারসিটি বিভাগের পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব উল্লেখ করেছেন, ইউএসএআইডির কার্যক্রম বন্ধের পর অনেক বেসরকারি সংস্থার তহবিল সংকট তৈরি হওয়ায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের কাজ অনেকটা স্থিমিত হয়ে পড়েছে। অভিভাবকেরা অনেক সময় মেয়ের নিরাপত্তা বা ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা না পেয়ে দ্রুত বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চান, যা প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।

সাতক্ষীরার ওই শিশুটির মতো আরও অনেকের ক্ষেত্রে শুধু সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবককে ছেড়ে দেওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত নজরদারি না থাকলে গোপনে পুনরায় বিয়ের আয়োজন হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা এবং প্রান্তিক পর্যায়ের পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদানই বাল্যবিবাহের মতো অভিশাপ থেকে কন্যাশিশুদের রক্ষা করার প্রধান উপায় হতে পারে।

Facebook Comments Box