শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার যৌক্তিকতা নেই: শ্রমমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি নির্ধারণে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। নতুন এই সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের শীর্ষ দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা জানান মন্ত্রী। তিনি শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকার ও মালিকপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরিফুল হক চৌধুরী স্পষ্ট করেন, আগের দিন শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে টানা পাঁচ ঘণ্টা বৈঠকের পরই রোববার মজুরি বোর্ড গঠন নিশ্চিত করা হয়েছে। মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ নেতারাও এই দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন। মজুরি বোর্ডে ইতোমধ্যে শ্রমিকদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকায় এ নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ বা বিরোধের কোনো অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, গতকাল শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী। আগামী ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া মেটানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষও নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ে এই বকেয়া পরিশোধ করতে রাজি হয়েছেন। এই উদ্যোগের পর পোশাক কারখানায় ভাঙচুর চালানো কিংবা উৎপাদন বন্ধ রাখার কোনো দরকার নেই বলে স হুঁশিয়ারি দেন তিনি। কারখানায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে সার্বিকভাবে এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে গার্মেন্টস শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কারখানার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, সাধারণ শ্রমিকরা উৎপাদন চালু রাখলেও বহিরাগত একটি গোষ্ঠী বাইরে থেকে এসে তাদের উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত কারখানা শ্রমিক এবং আন্দোলনে লিপ্ত থাকা ব্যক্তিদের ভিডিও চিত্র তুলে ধরে সত্য উন্মোচন করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি সতর্ক করে বলেন, কারখানা বন্ধ থাকলে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে। সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পোশাক পৌঁছাতে না পারলে মালিকরা অর্থ পাবেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ প্রক্রিয়ায়।
পোশাক খাতের ধারাবাহিকতা রক্ষায় মালিক, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারের সঞ্চালনায় উক্ত ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং বিজিএমইএ সহসভাপতি মিজানুর রহমান ও রেজওয়ান সেলিমসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।
সূত্র: দৈনিক এদিন

























