ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পেনের মালাগার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে চায় বাংলাদেশ বাংলাদেশে কার্যালয় খুলতে জেবিআইসিকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সরকারি বেতন দিতে ব্যাংক থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আকাশে ড্রোন, মাঠে কে-৯: ঠাকুরগাঁও-১আসন উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা

ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ, কী করবে বিএনপি? বদলাচ্ছে রাজনীতির ছক

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫০০৯ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ, কী করবে বিএনপি? বদলাচ্ছে রাজনীতির ছক

 

 

 

দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস সাংগঠনিক স্থবিরতার পর আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের পরদিন থেকেই দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দোয়া-মোনাজাত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ব্যানার টাঙানো ও স্লোগান দেওয়ার কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

 

 

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দলটির মাঠে ফেরার কৌশল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল সাংগঠনিক বার্তা নয়; বরং জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় জায়গা করে নেওয়ার কৌশলগত প্রচেষ্টার অংশ।

 

 

 

১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ পটুয়াখালীর দশমিনা, বরগুনার বেতাগী, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, শরীয়তপুর, বগুড়া, পঞ্চগড়, হবিগঞ্জ, খুলনা, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম, পাবনা, চাপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। কোথাও তালা ভেঙে প্রবেশ, কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোথাও ব্যানার টানিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পড়ুন>>সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণী: সন্তানের বাবা চাচা না বন্ধু জানেননা ধর্ষিতা

 

 

এসব কর্মসূচির বেশিরভাগই স্বল্প সময়ের ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি এলাকায় এ তৎপরতার মুখে স্থানীয় ছাত্রদল বা বিএনপি–সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাধা, ভাঙচুর ও পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

 

 

 

তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। বরং দলটির হাইকমান্ড শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ ইস্যুতে তুলনামূলক কৌশলী ও নমনীয় অবস্থান নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের আগে গণভোটে বিএনপির তৃণমূলের ‘না’ ক্যাম্পেইন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া এবং জুলাই সনদের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে কাছাকাছি এসেছে—এমন ধারণাও রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হচ্ছে।

 

 

 

দীর্ঘ নয় মাস পর জামিন পাওয়া বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগরের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ দুজনের মুক্তিকে বিশ্লেষকরা নতুন সরকারের আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় মনোভাবের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

পড়ুন>>ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড

 

 

তাদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলোর উত্থান মোকাবিলায় আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি মাঠের বাইরে ঠেলে দেওয়া বিএনপির জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক নাও হতে পারে।

 

 

 

‘জুলাই সনদ’ ও সংস্কার ইস্যুতে দুই দলের অবস্থান প্রায় একই বিন্দুতে এসে ঠেকেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। আওয়ামী লীগও এই সনদের বাস্তবায়নে আপত্তি জানিয়ে আসছে। ফলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রকাশ্য সমঝোতা না থাকলেও একটি নীরব সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

 

 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে রয়টার্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন,“জনগণ চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারেন।” জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সজীব ওয়াজেদ জয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন,“আমি সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করি—তা যত কঠিনই হোক।”
অন্যদিকে নতুন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে প্রথম কর্মদিবসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান রাজনৈতিকভাবে পরে জানানো হবে।”

আরও পড়ুন >> রমজানে লাখো মুসল্লির জন্য মসজিদ পরিষ্কার ‘পরিচ্ছন্নতায় পবিত্রতা’

 

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে এবং সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় কার্যকর নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে দলটির রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্ন অনেকাংশেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৌশলের ওপর নির্ভর করছে।

 

 

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারি বলেন, “আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি বাইরে রেখে দেশকে স্থিতিশীল করা কঠিন। আবার হঠাৎ রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিলে তা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হবে। আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিসরে ফেরার পথই হতে পারে মধ্যপন্থা।”

আরও পড়ুন>> তিন সিটিতে ভোট দিয়েই শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ এখন বড় কর্মসূচির বদলে ‘উপস্থিতি জানানোর রাজনীতি’ করছে। ছোট ছোট প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইছে এবং একই সঙ্গে বিএনপির প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে।

 

 

অন্যদিকে বিএনপির ভেতরেও মতভেদ রয়েছে— এক অংশ মনে করছে, আওয়ামী লীগকে মাঠে ফিরতে দিলে ভবিষ্যতে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।

 

 

 

অন্য অংশের যুক্তি, বহুদলীয় গণতন্ত্রে একটি বড় দলকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রাখা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াবে এবং তৃতীয় শক্তিকে সুযোগ করে দেবে। তথ‍্য সুত্র

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ, কী করবে বিএনপি? বদলাচ্ছে রাজনীতির ছক

আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ, কী করবে বিএনপি? বদলাচ্ছে রাজনীতির ছক

 

 

 

দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস সাংগঠনিক স্থবিরতার পর আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের পরদিন থেকেই দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দোয়া-মোনাজাত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ব্যানার টাঙানো ও স্লোগান দেওয়ার কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

 

 

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দলটির মাঠে ফেরার কৌশল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল সাংগঠনিক বার্তা নয়; বরং জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় জায়গা করে নেওয়ার কৌশলগত প্রচেষ্টার অংশ।

 

 

 

১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ পটুয়াখালীর দশমিনা, বরগুনার বেতাগী, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, শরীয়তপুর, বগুড়া, পঞ্চগড়, হবিগঞ্জ, খুলনা, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম, পাবনা, চাপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। কোথাও তালা ভেঙে প্রবেশ, কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোথাও ব্যানার টানিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পড়ুন>>সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণী: সন্তানের বাবা চাচা না বন্ধু জানেননা ধর্ষিতা

 

 

এসব কর্মসূচির বেশিরভাগই স্বল্প সময়ের ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি এলাকায় এ তৎপরতার মুখে স্থানীয় ছাত্রদল বা বিএনপি–সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাধা, ভাঙচুর ও পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

 

 

 

তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। বরং দলটির হাইকমান্ড শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ ইস্যুতে তুলনামূলক কৌশলী ও নমনীয় অবস্থান নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের আগে গণভোটে বিএনপির তৃণমূলের ‘না’ ক্যাম্পেইন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া এবং জুলাই সনদের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে কাছাকাছি এসেছে—এমন ধারণাও রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হচ্ছে।

 

 

 

দীর্ঘ নয় মাস পর জামিন পাওয়া বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগরের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ দুজনের মুক্তিকে বিশ্লেষকরা নতুন সরকারের আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় মনোভাবের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

পড়ুন>>ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড

 

 

তাদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলোর উত্থান মোকাবিলায় আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি মাঠের বাইরে ঠেলে দেওয়া বিএনপির জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক নাও হতে পারে।

 

 

 

‘জুলাই সনদ’ ও সংস্কার ইস্যুতে দুই দলের অবস্থান প্রায় একই বিন্দুতে এসে ঠেকেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। আওয়ামী লীগও এই সনদের বাস্তবায়নে আপত্তি জানিয়ে আসছে। ফলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রকাশ্য সমঝোতা না থাকলেও একটি নীরব সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

 

 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে রয়টার্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন,“জনগণ চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারেন।” জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সজীব ওয়াজেদ জয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন,“আমি সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করি—তা যত কঠিনই হোক।”
অন্যদিকে নতুন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে প্রথম কর্মদিবসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান রাজনৈতিকভাবে পরে জানানো হবে।”

আরও পড়ুন >> রমজানে লাখো মুসল্লির জন্য মসজিদ পরিষ্কার ‘পরিচ্ছন্নতায় পবিত্রতা’

 

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে এবং সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় কার্যকর নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে দলটির রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্ন অনেকাংশেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৌশলের ওপর নির্ভর করছে।

 

 

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারি বলেন, “আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি বাইরে রেখে দেশকে স্থিতিশীল করা কঠিন। আবার হঠাৎ রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিলে তা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হবে। আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিসরে ফেরার পথই হতে পারে মধ্যপন্থা।”

আরও পড়ুন>> তিন সিটিতে ভোট দিয়েই শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ এখন বড় কর্মসূচির বদলে ‘উপস্থিতি জানানোর রাজনীতি’ করছে। ছোট ছোট প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইছে এবং একই সঙ্গে বিএনপির প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে।

 

 

অন্যদিকে বিএনপির ভেতরেও মতভেদ রয়েছে— এক অংশ মনে করছে, আওয়ামী লীগকে মাঠে ফিরতে দিলে ভবিষ্যতে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।

 

 

 

অন্য অংশের যুক্তি, বহুদলীয় গণতন্ত্রে একটি বড় দলকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রাখা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াবে এবং তৃতীয় শক্তিকে সুযোগ করে দেবে। তথ‍্য সুত্র

Facebook Comments Box