প্রাকৃতিক মাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ঝিনাইগাতী
প্রশাসন: অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধলীবিলে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৮ জুন) উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালীনগর ও দড়িকালীনগর গ্রামের মধ্যবর্তী ধলীবিলে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।
অভিযানে ৩৫টি অবৈধ ‘চায়না দুয়ারী’ জাল জব্দ করা হয়। পরে দিনের ঘাট ব্রিজসংলগ্ন ফাঁকা স্থানে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযান পরিচালনায় ইউএনওকে সহায়তা করেন স্থানীয় মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা।
ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “চায়না দুয়ারী জাল মাছ ধরার একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর অবৈধ ফাঁদ। এটি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ধ্বংস করে দেয়, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। শুধু ব্যবহারকারীরাই নয়, যারা এই জাল সরবরাহ ও বিক্রি করেন, তারাও আইনের আওতায় আসবেন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “একসময় এই বিলে প্রচুর প্রাকৃতিক মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু চায়না দুয়ারী জালের কারণে মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে বিল এখন প্রায় মাছশূন্য হয়ে পড়েছে। ইউএনও স্যারের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে হয়তো আমরা আবার প্রাকৃতিক মাছ খেতে পারব।”
তবে এলাকাবাসীর মধ্যে কেউ কেউ অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, “এই অবৈধ জালের অনেক মালিকই আমাদের গ্রামেরই। তারা অভয়াশ্রমে সেচ দিয়ে মাছ ধরে, আবার স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে ঘোরাফেরা করে। তারা আগেভাগেই অভিযানের খবর পেয়ে যায়—এমনটাই সন্দেহ।”
তিনি আরও বলেন, “অভিযানে সাধারণ মানুষের জালই ধরা পড়ে, প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই অভিযান পরিচালনার তথ্য যেন আগে ফাঁস না হয়, সেদিকে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর প্রয়োজন।”
অভিজ্ঞ মহলের মতে, অবৈধভাবে মৎস্য আহরণে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় না আনলে প্রকৃত অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাবে।
Leave a Reply