দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ভারতের দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে সহিংসতার ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র সংসদ (জেএমআইএসইউ) ভেঙে দেয়া হয়েছিল। প্রায় দুই দশক পর সেই ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু ও নির্বাচনের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।
রোববার এই আন্দোলনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু নিরাপত্তারক্ষীরা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক তর্কাতর্কি ও খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সশরীরে ক্লাস বন্ধ করে অনলাইনে পাঠদানের নির্দেশ দেয়।
পড়ুন>>জাইকার সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলন দমানোর উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল এবং প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার রেজিস্ট্রার মহম্মদ মেহতাব আলম রিজ়ভি একটি নির্দেশিকা জারি করেন। এতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবি-সনদ বিবেচনা করে ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলন চলাকালীন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জারি করা বরখাস্ত ও শোকজ নোটিসও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কারণ
- উপাচার্য এবং চিফ প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে কোনো আশ্বাস না মেলায় শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্ট।
- বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য বা পোস্টের জন্য আন্দোলনকারীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে।
- গত শুক্রবার আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এবিন বেসিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার ও তিনজনের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন যে, আন্দোলনের জেরে জারি করা ক্যাম্পাস ব্যান ও বহিষ্কারের মতো সমস্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
- ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া না হয়, সেই নিশ্চয়তাও চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এই শর্তগুলোর কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার শর্তটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, যার ফলে সংকট নিরসন হওয়ার পরিবর্তে আন্দোলন আরও জোরালো রূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটতে নারাজ।
























