ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এআই ও রোবট প্রযুক্তিতে ব্যাপক চাকরির ঝুঁকি দেখছেন বিল গেটস ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টায় অভিযান ত্রুটিপূর্ণ ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই ফেরতের নির্দেশ মাউশির ফটিকছড়িতে ঝোপে পাওয়া নবজাতকের দায়িত্ব নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন এল ক্লাসিকোয় মরিনহোর তিন কৌশলে কুপোকাত বার্সেলোনা ফেসবুক পোস্ট দেওয়া এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কর অঞ্চল-৯, ঢাকায় ৩৭ পদে নিয়োগ: আবেদনের নিয়ম ও বিস্তারিত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে গুঞ্জন, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত করল সরকার

ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টায় অভিযান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে জড়ো করা হয়েছে। হামলা হলে তা শুধু রাডার বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা ও পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন যে এটি একটি বিশাল সামরিক পদক্ষেপ হবে। সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, বড় ধরনের এই অভিযানের অনুমোদনের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো ট্রাম্প ঠিক কবে সেই নির্দেশ দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই বা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী কোনো সময়ে এই নির্দেশ আসতে পারে। ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও তিনি সামরিক কঠোরতার দিকেই ঝুঁকছেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যদিও অতীতে শেষ মুহূর্তে পিছু হটার নজিরও রয়েছে তার। যদিও অতীতেও তাকে কোনো পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পরে শেষ মুহূর্তে সরে আসতে দেখা গেছে।

পেন্টাগন এবং সেন্ট্রাল কমান্ড বর্তমানে লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। ফলে এই লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল নতুন কোনো হামলা চালালে ইরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা পাল্টা আঘাত হানতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্থাপনা ছাড়াও অন্য অঞ্চলে মার্কিন কর্মীদের হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইরান মার্কিন কর্মীদের নিশানা করার প্রচেষ্টা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে তাদের হামলার পরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে হামলার পরিকল্পনা উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও জানানো হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

সম্ভাব্য এই সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রিয়াদে অবস্থানরত মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অপ্রয়োজনীয় সামরিক কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনাও আপাতত স্থগিত রেখেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পাঠানোর কথা ছিল, এমন কিছু অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সামরিক কর্মীর মোতায়েনও স্থগিত করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টায় অভিযান

আপডেট সময় : ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে জড়ো করা হয়েছে। হামলা হলে তা শুধু রাডার বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা ও পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন যে এটি একটি বিশাল সামরিক পদক্ষেপ হবে। সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, বড় ধরনের এই অভিযানের অনুমোদনের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো ট্রাম্প ঠিক কবে সেই নির্দেশ দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই বা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী কোনো সময়ে এই নির্দেশ আসতে পারে। ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও তিনি সামরিক কঠোরতার দিকেই ঝুঁকছেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যদিও অতীতে শেষ মুহূর্তে পিছু হটার নজিরও রয়েছে তার। যদিও অতীতেও তাকে কোনো পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পরে শেষ মুহূর্তে সরে আসতে দেখা গেছে।

পেন্টাগন এবং সেন্ট্রাল কমান্ড বর্তমানে লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। ফলে এই লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল নতুন কোনো হামলা চালালে ইরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা পাল্টা আঘাত হানতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্থাপনা ছাড়াও অন্য অঞ্চলে মার্কিন কর্মীদের হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইরান মার্কিন কর্মীদের নিশানা করার প্রচেষ্টা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে তাদের হামলার পরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে হামলার পরিকল্পনা উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও জানানো হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

সম্ভাব্য এই সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রিয়াদে অবস্থানরত মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অপ্রয়োজনীয় সামরিক কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনাও আপাতত স্থগিত রেখেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পাঠানোর কথা ছিল, এমন কিছু অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সামরিক কর্মীর মোতায়েনও স্থগিত করা হয়েছে।

Facebook Comments Box