ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি দিয়ে গ্রামছাড়া সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত

এমপি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিএনপিকর্মীদের নানা অভিযোগ ও ক্ষোভ

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

এমপি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিএনপিকর্মীদের নানা অভিযোগ ও ক্ষোভ

 

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের বিরুদ্ধে এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

 

তাঁদের দাবি, এমপির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেই উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পদ থেকে বহিষ্কারের ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি ও সরকারি বরাদ্দে অস্বচ্ছতা।

 

তাঁর দাবি, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতা ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে ওসি স্পষ্ট জানান যে, সংসদ সদস্যের চাপ থাকার কারণেই তিনি মামলা নিতে বাধ্য হয়েছেন।

 

পড়ুন>>জাইকার সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

সোমবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন ‘রাজশাহী-৫ আসনের ভুক্তভোগী বিএনপির নেতাকর্মীরা’। তাঁরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলামের অপসারণের জোরালো দাবি জানান। উক্ত ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না দাবি করে দেলোয়ার বলেন, কেবল রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই এই মামলা দেওয়া হয়েছে।

 

পড়ুন>>ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘ডি-থ্রি’ ট্রফি চালু করছে বিসিবি

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার সরকার আল-আমীন। এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী এবং সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডল সম্প্রতি সরকারপ্রধানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি সাক্ষাতে পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পল্লব সেনগুপ্ত এবং আওয়ামী লীগ কর্মী মাজহারুল ইসলাম মিন্টুকে সঙ্গে নিয়ে যান। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলের সক্রিয় ব্যক্তিদের এমন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সাক্ষাতে নিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

আরও পড়ুন>>কুরিয়ার ও পার্সেল ডেলিভারিতে ডিজিটাল পেমেন্ট আনল পাঠাও

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এভাবে শীর্ষ পর্যায়ের সাক্ষাতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে এমপির এই ঘনিষ্ঠতা কেবল রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্থানীয় দলীয় কার্যক্রম ও প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্তেও এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে। এসব নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক পরিচয়, আত্মীয়তা কিংবা কোনো আর্থিক লেনদেনের প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান নেতারা।

এমপির বিরুদ্ধে সরকারি পুকুর ইজারা ও সার ডিলারশিপ বণ্টনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে।

বিএনপি নেতাদের দাবি, এলাকার অধিকাংশ সরকারি পুকুর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ একজন অর্থদাতাকে দিয়ে চাষ করানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন>>এল ক্লাসিকোয় মরিনহোর তিন কৌশলে কুপোকাত বার্সেলোনা

এছাড়া সার ডিলার নিয়োগে পছন্দের ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুঠিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রিশাদ হোসেন কেতাব এবং পুঠিয়া পৌরসভায় এমপির আত্মীয় পরিচয়দানকারী শাহেদ হাসানকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। আবার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাওয়া শফিউল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়। শাহেদ হাসানের বাড়ি ময়মনসিংহে উল্লেখ করে তাঁকে এমপির ‘নাতিজামাই’ বলে দাবি করা হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার কমিটিতে এমপির পরিবারের সদস্য, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সভাপতি বা সদস্য হিসেবে বসানো হচ্ছে।

 

পড়ে নিন>>এআই ও রোবট প্রযুক্তিতে ব্যাপক চাকরির ঝুঁকি দেখছেন বিল গেটস

এছাড়া ঈদ ও বিশেষ সরকারি বরাদ্দের খরচের কোনো স্বচ্ছ হিসাবও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না। এ ছাড়া সরকারি ও দলীয় অনুদান, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ বরাদ্দ এবং উন্নয়নকাজের থোক বরাদ্দ কোথায় কীভাবে ব্যয় হচ্ছে—তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

যুবদল নেতা দেলোয়ার সরকার আল-আমীন নিজের মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপির কাজের সমালোচনা করলেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। গত ১৩ আগস্ট বিড়ালদহ পশ্চিমপাড়ায় একটি পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁরসহ নয়জন বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।

 

এছাড়া ১১ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তা আইনে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী খন্দকার সোহেল মাহমুদ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, গত ১৩ আগস্ট বিড়ালদহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের একটি পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকেসহ বিএনপির নয়জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

 

পড়ে নিন>>ফেসবুক পোস্ট দেওয়া এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব দাবি করেন, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিব খান এমপির ভাতিজার জামাতা হিসেবে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করায় তাঁকেও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

 

তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন আওয়ামী লীগ ঘরানার ব্যক্তিদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলার শিকার হবেন? এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন—তা জানতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর তাঁকেও মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করা হয়।

বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী জানান, নির্বাচনী সময়ে যারা এমপির সমর্থক ছিলেন না, তাদেরই বেছে বেছে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী বলেন, নির্বাচনের আগে পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনে নজরুল ইসলাম মন্ডল ছাড়াও বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা ছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি দলের ভেতরে ভিন্নমত দমনের এক ভয়াবহ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার মোবাইল ফোনে কল রিসিভ করেন তার ভাতিজা তানজিম আরিন। তিনি জানান, সংসদ সদস্য বর্তমানে বিশ্রামে আছেন।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এমপি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিএনপিকর্মীদের নানা অভিযোগ ও ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

 

এমপি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিএনপিকর্মীদের নানা অভিযোগ ও ক্ষোভ

 

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের বিরুদ্ধে এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

 

তাঁদের দাবি, এমপির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেই উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পদ থেকে বহিষ্কারের ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি ও সরকারি বরাদ্দে অস্বচ্ছতা।

 

তাঁর দাবি, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতা ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে ওসি স্পষ্ট জানান যে, সংসদ সদস্যের চাপ থাকার কারণেই তিনি মামলা নিতে বাধ্য হয়েছেন।

 

পড়ুন>>জাইকার সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

সোমবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন ‘রাজশাহী-৫ আসনের ভুক্তভোগী বিএনপির নেতাকর্মীরা’। তাঁরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলামের অপসারণের জোরালো দাবি জানান। উক্ত ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না দাবি করে দেলোয়ার বলেন, কেবল রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই এই মামলা দেওয়া হয়েছে।

 

পড়ুন>>ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘ডি-থ্রি’ ট্রফি চালু করছে বিসিবি

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার সরকার আল-আমীন। এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী এবং সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডল সম্প্রতি সরকারপ্রধানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি সাক্ষাতে পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পল্লব সেনগুপ্ত এবং আওয়ামী লীগ কর্মী মাজহারুল ইসলাম মিন্টুকে সঙ্গে নিয়ে যান। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলের সক্রিয় ব্যক্তিদের এমন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সাক্ষাতে নিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

আরও পড়ুন>>কুরিয়ার ও পার্সেল ডেলিভারিতে ডিজিটাল পেমেন্ট আনল পাঠাও

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এভাবে শীর্ষ পর্যায়ের সাক্ষাতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে এমপির এই ঘনিষ্ঠতা কেবল রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্থানীয় দলীয় কার্যক্রম ও প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্তেও এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে। এসব নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক পরিচয়, আত্মীয়তা কিংবা কোনো আর্থিক লেনদেনের প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান নেতারা।

এমপির বিরুদ্ধে সরকারি পুকুর ইজারা ও সার ডিলারশিপ বণ্টনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে।

বিএনপি নেতাদের দাবি, এলাকার অধিকাংশ সরকারি পুকুর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ একজন অর্থদাতাকে দিয়ে চাষ করানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন>>এল ক্লাসিকোয় মরিনহোর তিন কৌশলে কুপোকাত বার্সেলোনা

এছাড়া সার ডিলার নিয়োগে পছন্দের ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুঠিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রিশাদ হোসেন কেতাব এবং পুঠিয়া পৌরসভায় এমপির আত্মীয় পরিচয়দানকারী শাহেদ হাসানকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। আবার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাওয়া শফিউল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়। শাহেদ হাসানের বাড়ি ময়মনসিংহে উল্লেখ করে তাঁকে এমপির ‘নাতিজামাই’ বলে দাবি করা হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার কমিটিতে এমপির পরিবারের সদস্য, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সভাপতি বা সদস্য হিসেবে বসানো হচ্ছে।

 

পড়ে নিন>>এআই ও রোবট প্রযুক্তিতে ব্যাপক চাকরির ঝুঁকি দেখছেন বিল গেটস

এছাড়া ঈদ ও বিশেষ সরকারি বরাদ্দের খরচের কোনো স্বচ্ছ হিসাবও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না। এ ছাড়া সরকারি ও দলীয় অনুদান, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ বরাদ্দ এবং উন্নয়নকাজের থোক বরাদ্দ কোথায় কীভাবে ব্যয় হচ্ছে—তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

যুবদল নেতা দেলোয়ার সরকার আল-আমীন নিজের মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপির কাজের সমালোচনা করলেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। গত ১৩ আগস্ট বিড়ালদহ পশ্চিমপাড়ায় একটি পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁরসহ নয়জন বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।

 

এছাড়া ১১ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তা আইনে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী খন্দকার সোহেল মাহমুদ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, গত ১৩ আগস্ট বিড়ালদহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের একটি পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকেসহ বিএনপির নয়জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

 

পড়ে নিন>>ফেসবুক পোস্ট দেওয়া এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব দাবি করেন, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিব খান এমপির ভাতিজার জামাতা হিসেবে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করায় তাঁকেও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

 

তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন আওয়ামী লীগ ঘরানার ব্যক্তিদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলার শিকার হবেন? এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন—তা জানতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর তাঁকেও মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করা হয়।

বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী জানান, নির্বাচনী সময়ে যারা এমপির সমর্থক ছিলেন না, তাদেরই বেছে বেছে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী বলেন, নির্বাচনের আগে পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনে নজরুল ইসলাম মন্ডল ছাড়াও বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা ছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি দলের ভেতরে ভিন্নমত দমনের এক ভয়াবহ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার মোবাইল ফোনে কল রিসিভ করেন তার ভাতিজা তানজিম আরিন। তিনি জানান, সংসদ সদস্য বর্তমানে বিশ্রামে আছেন।

 

Facebook Comments Box