জাতিসংঘ সফরে কর্মসূচি ও সফরসঙ্গী কমাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৬:১৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে এবারের সফরসূচিতে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী জাতিসংঘের কর্মসূচির পর তার ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সফর বাতিল করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ এবং দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান এড়াতে সফর সংক্ষিপ্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বিদেশ সফর। সূচি অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর তিনি দেশ ছাড়বেন। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তার সঙ্গে থাকছেন ফার্স্টলেডি জুবাইদা রহমান। সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল হওয়ায় এখন প্রধানমন্ত্রীর পুরো সফরটি নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিকেন্দ্রিক হবে। এর ফলে সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকগুলো স্থগিত করা হয়েছে।
সফর সংক্ষিপ্ত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর বহরও অনেক ছোট করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবার সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ জনের নিচে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এটি আগের সরকারগুলোর তুলনায় বেশ উল্লেখযোগ্য। যেমন ২০১৪ সালে तत्कालीन প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিলেন ১৮০ জন, ২০১৯ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ২৯২ জন। আবার ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরে দাপ্তরিক হিসাবে ৫৭ থেকে ৮০ জনের বেশি সদস্য ছিলেন। নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য অপরিহার্য ব্যক্তিদেরই এবার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিশ্চিত করেছেন যে, সব কার্যক্রম শেষে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন।
জাতিসংঘের এই সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রায় চার দশক পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বিশ্বমঞ্চে একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির উপস্থিতি এক বিরল কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি করেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আরও জানান, এবারের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য তুলে ধরবেন। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টি তার বক্তব্যে প্রাধান্য পাবে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে এবং এই ইস্যুতে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ জোরালো আহ্বান জানাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো দেশ ছাড়ছেন জাতীয়তাবাদী সরকার প্রধান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটন ডিসিতে কিছু কর্মসূচি থাকলেও সফরের প্রধান আয়োজন থাকবে জাতিসংঘকে ঘিরেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৩ সেপ্টেম্বরের নৈশভোজেও থাকছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের জন্য এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সফরসূচি সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এসব কর্মসূচি আপাতত বাদ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এতে আয়োজক হিসেবে থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি নথিতে অবশ্য এ সংখ্যা ছিল ৮০ জনের বেশি।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























