২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটিই ছিল লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। দীর্ঘ ২১ বছরের অবিস্মরণীয় পথচলার ইতি টেনে সোমবার ইনস্টাগ্রামে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের এই জাদুকর।
৩৯ বছর বয়সী মেসির এই আকস্মিক বিদায় কেবল ভক্তদেরই শোকাহত করেনি, বরং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। মেসি নিজে এই সিদ্ধান্তকে ‘আত্মার জন্য বেদনাদায়ক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
মেসির অবসরের কারণে সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে চীনে প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। এছাড়া ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে ঘরের মাঠে ম্যাচ আয়োজনেও দেখা দিয়েছে জটিলতা। তবে টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আর্জেন্টিনার মাটিতে দর্শকদের সামনেই মেসিকে এক স্মরণীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এএফএ। তবে এই আয়োজনের চূড়ান্ত রূপরেখা মূলত মেসির ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করছে।
গত আগস্টে বাবার মৃত্যুর ঘটনা মেসির এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।
নিজের অবসরবার্তার শেষ দিকে মেসি উল্লেখ করেছেন, ফাইনালের দুই দিন পর অর্থাৎ ২১শে জুলাই তিনি এই বার্তাটি লিখেছিলেন এবং বাবার প্রয়াণের পর তিনি নিজের সিদ্ধান্তে আরও অটল হয়েছেন। মেসির এই বিদায়ে তার সাবেক সতীর্থ আনহেল ডি মারিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য আমরা সারা জীবন তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।’
মেসির অবসরের খবরে পুরো আর্জেন্টিনায় শোক ও কৃতজ্ঞতার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বুয়েনস আইরেসের বেলগ্রানো এলাকার এক শিক্ষার্থী আবেগঘন কণ্ঠে জানান, মেসির দেওয়া আনন্দ ও অনুপ্রেরণার জন্য তারা চিরকৃতজ্ঞ।
স্থানীয়রা মনে করেন, অন্যের কথায় কান না দিয়ে নিজের স্বপ্নের পেছনে অবিচল থাকার শিক্ষাটি মেসিই তাদের দিয়েছেন। তবে দেশটির মনোবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন প্রজন্মের কোনো খেলোয়াড়কে যেন মেসির সমকক্ষ হওয়ার অতিরিক্ত চাপে পিষ্ট না করা হয়।
‘লা নাসিওন’ পত্রিকা এই ঘটনাকে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যার মাধ্যমে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন মেসি-পরবর্তী নতুন এক চ্যালেঞ্জের যুগে প্রবেশ করছে।
Leave a Reply