ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ধসে ১৭ জনের মৃত্যু, আহত ২০

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর রাতে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে আশ্রয় নেওয়া দর্শনার্থীদের ভিড় ও পরবর্তী হুড়োহুড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী, তিনজন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় আহত অন্তত ২০ জনকে দ্রুত স্থানীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপের একাংশ ভেঙে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন নারী, তিনজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। পরে মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে আচমকা প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে ভিড় এড়াতে অনেক দর্শনার্থী মণ্ডপের ভেতরে ঢুকে পড়েন। প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে একপর্যায়ে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং সেখানে পদদলনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেকে ভেঙে পড়া কাঠামোর নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া চিকিৎসক ডা. তমাল ভট্টাচার্য জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজনকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে এবং আরও অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধারকারী দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আরও বেশি মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

দুর্ঘটনার পর মণ্ডপে দায়িত্বরত সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, শুরুতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে ভেঙে পড়া কাঠামো সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেন এবং তারপর পুলিশ উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়। অন্য দুজনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক থাকলেও শুরুতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সহায়তার জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। শোকের এই পরিস্থিতির কারণে আপাতত পূজামণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ধসে ১৭ জনের মৃত্যু, আহত ২০

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর রাতে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে আশ্রয় নেওয়া দর্শনার্থীদের ভিড় ও পরবর্তী হুড়োহুড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী, তিনজন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় আহত অন্তত ২০ জনকে দ্রুত স্থানীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপের একাংশ ভেঙে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন নারী, তিনজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। পরে মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে আচমকা প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে ভিড় এড়াতে অনেক দর্শনার্থী মণ্ডপের ভেতরে ঢুকে পড়েন। প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে একপর্যায়ে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং সেখানে পদদলনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেকে ভেঙে পড়া কাঠামোর নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া চিকিৎসক ডা. তমাল ভট্টাচার্য জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজনকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে এবং আরও অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধারকারী দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আরও বেশি মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

দুর্ঘটনার পর মণ্ডপে দায়িত্বরত সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, শুরুতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে ভেঙে পড়া কাঠামো সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেন এবং তারপর পুলিশ উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়। অন্য দুজনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক থাকলেও শুরুতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সহায়তার জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। শোকের এই পরিস্থিতির কারণে আপাতত পূজামণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Facebook Comments Box