ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতে ৩৩ মাস কারাভোগের পর ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন ৩ জন নিজ নাবালিকা কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পিতা গ্রেফতার ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য আটক তাহিরপুরে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অভিবাসন ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের কৌশলী হওয়ার সময় কি এখনই? দুদক পুনর্গঠনে এনসিপিকে টার্গেট করছে সরকার: নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রধান অর্থনীতিবিদ পদে নিয়োগ পাওনা পরিশোধে বিলম্ব: আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ পাকিস্তানের কোহাটে মসজিদে শক্তিশালী আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৬ এআইয়ের অপব্যবহার রোধে কঠোর আইন ও ব্যবস্থার পথে সরকার

ঢাকায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রায় ৯ বছর আগে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম জানান, আসামি মনির হোসেন জামিনে ছিলেন। তবে গত ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে এবং তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। রায় ঘোষণার দিন মঙ্গলবার মনিরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকির খাতুন সোমার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন এবং আরও টাকার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার পর সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। পরবর্তীতে আর নির্যাতন করবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মনির তাকে ফিরিয়ে আনলেও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি।

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করেন। তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিনই সোমার মা মোসা. আক্তার বানু বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর মনির আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং আসামির আত্মপক্ষ শুনানিসহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মঙ্গলবার রায় প্রদান করা হয়।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঢাকায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০৫:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রায় ৯ বছর আগে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম জানান, আসামি মনির হোসেন জামিনে ছিলেন। তবে গত ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে এবং তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। রায় ঘোষণার দিন মঙ্গলবার মনিরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকির খাতুন সোমার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন এবং আরও টাকার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার পর সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। পরবর্তীতে আর নির্যাতন করবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মনির তাকে ফিরিয়ে আনলেও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি।

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করেন। তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিনই সোমার মা মোসা. আক্তার বানু বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর মনির আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং আসামির আত্মপক্ষ শুনানিসহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মঙ্গলবার রায় প্রদান করা হয়।

Facebook Comments Box