ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে সামরিক অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেল জাতিসংঘ শামীম মোল্লা নিধন কাণ্ড: দুই বছরেও অধরা বিচার হেলমেট যেন মামলা এড়ানোর হাতিয়ার না হয় চলতি বছর হচ্ছে না ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টে কর্মী নিয়োগ: সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন আজ শুক্রবার; ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের ভিডিও প্রকাশ করল হুতি বিদ্রোহীরা অভিষেকের বিশ্বরেকর্ড সেঞ্চুরি, আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পিস ক্যাফে ও কমিউনিটি লাইব্রেরি চালু করলো ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি

শামীম মোল্লা নিধন কাণ্ড: দুই বছরেও অধরা বিচার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ ওরফে শামীম মোল্লা নিধনের ঘটনায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাকে পিটিয়ে নিবৃত্ত করার ঘটনায় শোকাতুর তার পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে। শামীম এর আগে ১৫ জুলাই উপাচার্যের বাসভবনের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন এবং ওই ঘটনার জের ধরেই তাকে নিবৃত্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী শামীম মোল্লা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার পর ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন আশুলিয়া থানায় আটজন শিক্ষার্থী এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর কিছুদিন পর ৯ অক্টোবর শামীমের বড় ভাই শাহীন আলম ঢাকার আদালতে আরেকটি নালিশি মামলা করেন, যেখানে প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলমসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়। আদালত পরে মামলা দুটি একীভূত করার নির্দেশ দেন। তবে বর্তমানে মামলার নথিপত্র অসংলগ্ন থাকায় তদন্ত কার্যক্রম থমকে আছে বলে পরিবারের দাবি।

ভুক্তভোগীর ভাই শাহীন আলমের অভিযোগ, তিনি কয়েকবার আদালতে গিয়েও তার দায়ের করা মামলার নথির সন্ধান পাননি। তাকে পিবিআই ও আদালতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা শামীমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা মামলার নথি পেলেও অন্য মামলার নথি এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। ভাইয়ের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন শাহীন আলম। তার মতে, আসামিদের রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংযোগ থাকায় পুলিশের তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

শামীমের ৬৫ বছর বয়সী মা কোহিনুর বেগম জানিয়েছেন, দুই বছর পার হলেও তিনি এখনো বিচার পাননি। সন্তানের অকাল প্রয়াণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি বিচারের আশায় দীর্ঘায়ু কামনা করেন যেন দোষীদের শাস্তি নিজের চোখে দেখে যেতে পারেন। পরিবারটির দাবি, শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন মা শামীমের শোকে এখন পুরোপুরি নিস্তব্ধ জীবন কাটাচ্ছেন।

মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—মাহমুদুল হাসান রায়হান, সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং আতিকুজ্জামান। তবে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে জামিনে থাকা আসামি মাহমুদুল, সাইফুল ও আতিকুজ্জামানের পাশাপাশি পলাতক পাঁচজন—আহসান লাবিব, হামিদুল্লাহ সালমান, রাজন মিয়া, রাজু আহমেদ ও সোহাগ মিয়াকে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে তারা বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে এড়িয়ে চলছেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই উপপরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, মামলার তদন্ত চলমান থাকলেও তা কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। পলাতক আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় গ্রেপ্তারে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ জানান, মামলার বর্তমান নথিগুলো পর্যালোচনা না করে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর পিবিআইকে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শামীম হত্যা মামলা: ২ বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত, বিচারের অপেক্ষায় পরিবার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অবশেষে এফ-৩৫ কেনার অনুমোদন পেতে যাচ্ছে সৌদি আরব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদবির করলে সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাসিনাকে ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধরলা সেতুতে বাসের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে সুদীপ্ত, ডেপুটি রেজিস্ট্রার গাফরুল হাসান চৌধুরী ও প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলমসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শাহীন আলম বলেন, ‘আমি কয়েকবার আদালতে গিয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু প্রতিবার সংশ্লিষ্ট আদালতকর্মীরা আমাকে বলেছেন, আমার করা মামলার কোনো নথি তাদের কাছে নেই।’।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শামীম মোল্লা নিধন কাণ্ড: দুই বছরেও অধরা বিচার

আপডেট সময় : ১০:০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ ওরফে শামীম মোল্লা নিধনের ঘটনায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাকে পিটিয়ে নিবৃত্ত করার ঘটনায় শোকাতুর তার পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে। শামীম এর আগে ১৫ জুলাই উপাচার্যের বাসভবনের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন এবং ওই ঘটনার জের ধরেই তাকে নিবৃত্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী শামীম মোল্লা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার পর ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন আশুলিয়া থানায় আটজন শিক্ষার্থী এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর কিছুদিন পর ৯ অক্টোবর শামীমের বড় ভাই শাহীন আলম ঢাকার আদালতে আরেকটি নালিশি মামলা করেন, যেখানে প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলমসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়। আদালত পরে মামলা দুটি একীভূত করার নির্দেশ দেন। তবে বর্তমানে মামলার নথিপত্র অসংলগ্ন থাকায় তদন্ত কার্যক্রম থমকে আছে বলে পরিবারের দাবি।

ভুক্তভোগীর ভাই শাহীন আলমের অভিযোগ, তিনি কয়েকবার আদালতে গিয়েও তার দায়ের করা মামলার নথির সন্ধান পাননি। তাকে পিবিআই ও আদালতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা শামীমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা মামলার নথি পেলেও অন্য মামলার নথি এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। ভাইয়ের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন শাহীন আলম। তার মতে, আসামিদের রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংযোগ থাকায় পুলিশের তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

শামীমের ৬৫ বছর বয়সী মা কোহিনুর বেগম জানিয়েছেন, দুই বছর পার হলেও তিনি এখনো বিচার পাননি। সন্তানের অকাল প্রয়াণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি বিচারের আশায় দীর্ঘায়ু কামনা করেন যেন দোষীদের শাস্তি নিজের চোখে দেখে যেতে পারেন। পরিবারটির দাবি, শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন মা শামীমের শোকে এখন পুরোপুরি নিস্তব্ধ জীবন কাটাচ্ছেন।

মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—মাহমুদুল হাসান রায়হান, সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং আতিকুজ্জামান। তবে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে জামিনে থাকা আসামি মাহমুদুল, সাইফুল ও আতিকুজ্জামানের পাশাপাশি পলাতক পাঁচজন—আহসান লাবিব, হামিদুল্লাহ সালমান, রাজন মিয়া, রাজু আহমেদ ও সোহাগ মিয়াকে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে তারা বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে এড়িয়ে চলছেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই উপপরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, মামলার তদন্ত চলমান থাকলেও তা কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। পলাতক আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় গ্রেপ্তারে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ জানান, মামলার বর্তমান নথিগুলো পর্যালোচনা না করে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর পিবিআইকে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শামীম হত্যা মামলা: ২ বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত, বিচারের অপেক্ষায় পরিবার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অবশেষে এফ-৩৫ কেনার অনুমোদন পেতে যাচ্ছে সৌদি আরব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদবির করলে সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাসিনাকে ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধরলা সেতুতে বাসের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে সুদীপ্ত, ডেপুটি রেজিস্ট্রার গাফরুল হাসান চৌধুরী ও প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলমসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শাহীন আলম বলেন, ‘আমি কয়েকবার আদালতে গিয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু প্রতিবার সংশ্লিষ্ট আদালতকর্মীরা আমাকে বলেছেন, আমার করা মামলার কোনো নথি তাদের কাছে নেই।’।

Facebook Comments Box