ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় মারামারি থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে রুচিরা বেকারির মালিকের ছেলের বাংলামোটরে আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাতে ওষুধ ব্যবসায়ী আহত রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামের চালান, জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৬৩ জন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ল ইউরেনিয়ামের প্রথম ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ায় আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখুন ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জন নাকচ করল জামায়াত নীলফামারী অনলাইন শপ’-এর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ওসি জিল্লুরের আশ্বাস কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ড শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি অনুমোদন

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চাষ হচ্ছে অপ্রচলিত দেশি জাতের কালা বোরো ধান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ৩৩৮ বার পড়া হয়েছে

খাদ্যের মঙ্গা নেই, কাজের মঙ্গায় কবলিত কুড়িগ্রামের মানুষ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দাদখানি চাল কিংবা উড়কি ধানের মুড়কি,বিন্নি ধানের খৈ, একসময় প্রচলিত থাকলেও এখন সেগুলো আর পাওয়া যায় না। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে সেসব দেশি জাতের ধান। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমর নদীর তীরে ধু-ধূ বালু চরের মাঝে সবুজের ঝলকানি দিতেই এখনো চাষ হচ্ছে, অপ্রচলিত দেশি জাতের কালা বোরো ধান।

এক সময় গ্রামের লোকজন গরমের সময় পান্তা খেত। পান্তার জন্য বিখ্যাত ছিল এই কালা বোরো ধানের চাল।কালের বির্বতনে পান্তা খাওয়া ওঠে গেলেও পহেলা বৈশাখে এখন এটি বাঙ্গালীর পার্বণ।তাই পহেলা বৈশাখে এর চাল সংগ্রহে ভীড় পড়ে নদী পাড়ের চাষীদের বাড়িতে। কালা বোরো জাতের ধান খরা সহিষ্ণু, পর্যাপ্ত পানি নেই এমন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে পারে। এর উৎপাদন ব্যয় একেবারেই কম।অগ্রাহায়ণ থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত স্থানীয় জাতের এই ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত দুধকুমর নদীর পাড়ের চাষীরা।

এ সময়ে নদীর পানি কমতে থাকলে নদীর বুকে ছোট ছোট চর জাগে। চরের চার পাশে ও নদীর পানির কাছাকাছি ভেজা স্থানে সুচালো দন্ড দিয়ে বালু গর্ত করে ধানের চারা রোপন করে।কয়েক বার হাল্কা পানি ও সামান্য সার প্রয়োগ করলেই চলে, রোগ বালাই তেমন হয়না।কৃষকরা সামান্য খরচেই চৈত্র বৈশাখ মাসে বিঘা প্রতি ৫/৭ মন ধান ঘরে তুলতে পারেন। স্বল্প উৎপাদন খরচ, অব্যবহৃত জমি, বালাইনাশক স্প্রে ছাড়াই নদীর পাড়ের কৃষক এই ধান চাষ করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণা না হওয়ায় ক্রমেই কমে যাচ্ছে এর উৎপাদনশীলতা।

বানুরকুটির কৃষক সাইফুর বলেন, কোনো বীজ বাজার থেকে কিনতে হয় না। বীজের জন্য কিছু ধান আলাদা করে ঘরে তুলে রাখলেই তা দিয়ে পরের বছর ধান চাষ করি। জমিতে দিতে হয় না কোনো রাসায়নিক সার ও কীটনাশক সামান্য খরচেই এই ধান চাষ করা যায় এবং ভাত বেশ সুস্বাদু তাই তার পুর্বপুরুষ থেকেই এই ধান চাষ করে আসছি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চাষ হচ্ছে অপ্রচলিত দেশি জাতের কালা বোরো ধান

আপডেট সময় : ১০:১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১

দাদখানি চাল কিংবা উড়কি ধানের মুড়কি,বিন্নি ধানের খৈ, একসময় প্রচলিত থাকলেও এখন সেগুলো আর পাওয়া যায় না। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে সেসব দেশি জাতের ধান। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমর নদীর তীরে ধু-ধূ বালু চরের মাঝে সবুজের ঝলকানি দিতেই এখনো চাষ হচ্ছে, অপ্রচলিত দেশি জাতের কালা বোরো ধান।

এক সময় গ্রামের লোকজন গরমের সময় পান্তা খেত। পান্তার জন্য বিখ্যাত ছিল এই কালা বোরো ধানের চাল।কালের বির্বতনে পান্তা খাওয়া ওঠে গেলেও পহেলা বৈশাখে এখন এটি বাঙ্গালীর পার্বণ।তাই পহেলা বৈশাখে এর চাল সংগ্রহে ভীড় পড়ে নদী পাড়ের চাষীদের বাড়িতে। কালা বোরো জাতের ধান খরা সহিষ্ণু, পর্যাপ্ত পানি নেই এমন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে পারে। এর উৎপাদন ব্যয় একেবারেই কম।অগ্রাহায়ণ থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত স্থানীয় জাতের এই ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত দুধকুমর নদীর পাড়ের চাষীরা।

এ সময়ে নদীর পানি কমতে থাকলে নদীর বুকে ছোট ছোট চর জাগে। চরের চার পাশে ও নদীর পানির কাছাকাছি ভেজা স্থানে সুচালো দন্ড দিয়ে বালু গর্ত করে ধানের চারা রোপন করে।কয়েক বার হাল্কা পানি ও সামান্য সার প্রয়োগ করলেই চলে, রোগ বালাই তেমন হয়না।কৃষকরা সামান্য খরচেই চৈত্র বৈশাখ মাসে বিঘা প্রতি ৫/৭ মন ধান ঘরে তুলতে পারেন। স্বল্প উৎপাদন খরচ, অব্যবহৃত জমি, বালাইনাশক স্প্রে ছাড়াই নদীর পাড়ের কৃষক এই ধান চাষ করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণা না হওয়ায় ক্রমেই কমে যাচ্ছে এর উৎপাদনশীলতা।

বানুরকুটির কৃষক সাইফুর বলেন, কোনো বীজ বাজার থেকে কিনতে হয় না। বীজের জন্য কিছু ধান আলাদা করে ঘরে তুলে রাখলেই তা দিয়ে পরের বছর ধান চাষ করি। জমিতে দিতে হয় না কোনো রাসায়নিক সার ও কীটনাশক সামান্য খরচেই এই ধান চাষ করা যায় এবং ভাত বেশ সুস্বাদু তাই তার পুর্বপুরুষ থেকেই এই ধান চাষ করে আসছি।

Facebook Comments Box