ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উজানের ঢলে ও টানা বর্ষণে ভূরুঙ্গামারীর ১৭ গ্রামে বন্যার পানি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন ২০২২ ৩৯৯ বার পড়া হয়েছে

উজানের ঢলে ও টানা বর্ষণে ভূরুঙ্গামারীর ১৭ গ্রামে বন্যার পানি

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এবং টানা বর্ষণের কারণে উপজেলার দুধকুমর ও সংকোচ নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ১৭টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে এবং রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় এসকল গ্রামের মানুষ প্রায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চর নলেয়া ও চর কামাতআঙ্গারীয়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ারচর, চর উত্তর তিলাই, নামার চর, উত্তর ধলডাঙ্গা,তিলাই ইউনিয়নের খোচাবাড়ি, পশ্চিম ও দক্ষিনছাট গোপালপুর গ্রামের (আংশিক), চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বলদিয়া ইউনিয়নের চরসতিপুরী, বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের ভরতের ছড়া, চরবলদিয়া,পাইকের ছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা,আরাজি পাইকডাঙ্গা, পাইকের ছড়া(আংশিক) ও ছিট পাইকেরছড়া(আংশিক) এবং আন্ধারীঝাড়ের মোগলকাটা, হেলডাঙ্গা, চরবারুইটারী ,চরধাউরার কুটি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

নলেয়া গ্রামের মরিয়ম বেগম(৪০) জানান, যে হারে পানি বাড়ছে তাতে রাতের মধ্যে ঘরের ভিতর পানি ঢুকতে পারে। কামাতআঙ্গারীয়ার মোকতার হোসেন জানান, ধানের চারা বীজ তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে পাট ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু, হাস, মুরগী নিয়ে বিপদে আছি। ইসলামপুরের মমেনা জানান ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। রান্না করা অসুবিধা। কোন রকমে এক বেলা ভর্তা ভাত খেয়ে আছি।

পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদা খাতুন বলেন স্কুলের যাতায়াতে রাস্তা কয়েক জায়গায় তলিয়ে গেছে আমরা অনেক কষ্ট করে স্কুলে আসছি কিন্তু অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীরা আসতে পারছেনা। এতে বাচ্চাদের পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে।
ইসলামপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন বন্যার পানিতে বেগুন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।এতে অনেক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান,তার ইউনিয়নে বন্যার পানি তিনটি গ্রামে ঢুকেছে। এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর আলম জানান, কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, তা এখনো চেয়ারম্যানরা জানায়নি। জানালে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর জানান, আবহাওয়ার এমন অবস্থা আগামী ২২ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এসময় লাগাতার বৃষ্টিসহ মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণও হতে পারে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে জেলার চরাঞ্চলগুলিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উজানের ঢলে ও টানা বর্ষণে ভূরুঙ্গামারীর ১৭ গ্রামে বন্যার পানি

আপডেট সময় : ১১:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন ২০২২

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এবং টানা বর্ষণের কারণে উপজেলার দুধকুমর ও সংকোচ নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ১৭টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে এবং রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় এসকল গ্রামের মানুষ প্রায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চর নলেয়া ও চর কামাতআঙ্গারীয়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ারচর, চর উত্তর তিলাই, নামার চর, উত্তর ধলডাঙ্গা,তিলাই ইউনিয়নের খোচাবাড়ি, পশ্চিম ও দক্ষিনছাট গোপালপুর গ্রামের (আংশিক), চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বলদিয়া ইউনিয়নের চরসতিপুরী, বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের ভরতের ছড়া, চরবলদিয়া,পাইকের ছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা,আরাজি পাইকডাঙ্গা, পাইকের ছড়া(আংশিক) ও ছিট পাইকেরছড়া(আংশিক) এবং আন্ধারীঝাড়ের মোগলকাটা, হেলডাঙ্গা, চরবারুইটারী ,চরধাউরার কুটি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

নলেয়া গ্রামের মরিয়ম বেগম(৪০) জানান, যে হারে পানি বাড়ছে তাতে রাতের মধ্যে ঘরের ভিতর পানি ঢুকতে পারে। কামাতআঙ্গারীয়ার মোকতার হোসেন জানান, ধানের চারা বীজ তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে পাট ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু, হাস, মুরগী নিয়ে বিপদে আছি। ইসলামপুরের মমেনা জানান ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। রান্না করা অসুবিধা। কোন রকমে এক বেলা ভর্তা ভাত খেয়ে আছি।

পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদা খাতুন বলেন স্কুলের যাতায়াতে রাস্তা কয়েক জায়গায় তলিয়ে গেছে আমরা অনেক কষ্ট করে স্কুলে আসছি কিন্তু অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীরা আসতে পারছেনা। এতে বাচ্চাদের পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে।
ইসলামপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন বন্যার পানিতে বেগুন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।এতে অনেক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান,তার ইউনিয়নে বন্যার পানি তিনটি গ্রামে ঢুকেছে। এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর আলম জানান, কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, তা এখনো চেয়ারম্যানরা জানায়নি। জানালে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর জানান, আবহাওয়ার এমন অবস্থা আগামী ২২ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এসময় লাগাতার বৃষ্টিসহ মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণও হতে পারে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে জেলার চরাঞ্চলগুলিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।

Facebook Comments Box