ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী ডিএমপি: জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যায় বিচার শুরুর নির্দেশ লন্ডনে উদ্বোধন হলো প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর স্থায়ী ঠিকানা ‘চাটগাঁ হাউস’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে ছিটকে গেলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে ৩৯টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ শান্তি কোনো বিলাসিতা নয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়নে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমে ১৬ ডিগ্রিতে, বাড়ছে শীতের প্রকোপ নিউজিল্যান্ড উপকূলে আটকে পড়া ৪৩টি তিমির মর্মান্তিক মৃত্যু

ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরাইলের পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য গাদি আইজেনকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। শনিবার এই ঘোষণা আসার পর থেকেই দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার গড়ার ম্যান্ডেট পাওয়ার পেছনে নেসেটের মোট ৬৭ জন সদস্যের সুপারিশ কাজ করেছে, যেখানে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন ছিল ৪৬ জনের। এছাড়া সাতজন আইনপ্রণেতা ভোটদানে বিরত থেকেছেন।

যদিও আইজেনকট সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন, তবে রাজনৈতিক সমঝোতার পথটি বেশ বন্ধুর।

বিশেষ করে তার সম্ভাব্য জোটের শরিকদের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য প্রেসিডেন্ট হারজগকেও ভাবিয়ে তুলেছে। গত সপ্তাহান্তে প্রেসিডেন্ট নিজেই এই বিরোধের সুরাহা নিয়ে আইজেনকটের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আইজেনকটের পক্ষে থাকা ৬৭ জনের মধ্যে ১৯ জনই আরব দলের সদস্য। তবে তার নিজের পরিবর্তনপন্থি জোটের নিজস্ব আসনসংখ্যা মাত্র ৪৮। তাই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তাকে অতি-ধর্মীয় দল হারেদিদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, বিশেষ করে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি ও শাস পার্টির ছয়টি আসনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে তাকে।

হারেদি দলগুলোর সঙ্গে আইজেনকটের জোট গড়ার বিষয়টি এখন পর্যন্ত অনিশ্চিত। শাস পার্টির নেতা আরিয়ে দেরি স্পষ্টভাবে নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের জোটভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান আইজেনকটকে সমর্থন দিলেও আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গড়ার বিষয়টি সরাসরি নাকচ করেছেন। তার মতে, রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের মতো আরব দলের সমর্থনে গঠিত সরকার গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ২০১৮ সালের কাঠামোর ভিত্তিতে সামরিক নিয়োগ আইন নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে তিনি আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম আলোচনায় রাজি হলেও শাসের সমর্থন পাওয়া অনিশ্চিত। হারেদি সূত্রের দাবি, লিবারম্যান ও অতি-ধর্মীয় দলগুলোর পারস্পরিক আপত্তি কমেছে এবং দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

আইজেনকটের সরকার গঠনের পথে বড় বাধাগুলোর একটি হলো হারেদি তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ। ধর্মীয় দলগুলো চায় ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীর বাইরে রাখার আইনি নিশ্চয়তা, অথচ ধর্মনিরপেক্ষ জোটসঙ্গীরা সবার জন্য সমান দায়িত্ব বা বাধ্যতামূলক নিয়োগের দাবিতে অনড়। এই জটিল সমীকরণে নাফতালি বেনেট এখনো কোনো মন্তব্য করেননি, যা তার নীরবতা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তবে ডেমোক্র্যাটস ও ইয়াশার পার্টির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে শোনা যাচ্ছে।

আইজেনকট তার নতুন সরকারের জন্য চারটি মূল নীতি ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ ধারণ, সামরিক বা বেসামরিক সেবায় বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের ব্যবস্থা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের সামরিক ও শাসনক্ষমতা নির্মূল করার অঙ্গীকার। তার দল জানিয়েছে, এ বিষয়ে তার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে দেখা যাবে না।

এদিকে সরকার গঠনের আলোচনার মধ্যেই নেসেটে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে মরিয়া পরিবর্তনপন্থি জোট। আগামী মঙ্গলবার নতুন সংসদ অধিবেশন শুরুর পর স্পিকার আমির ওহানাকে অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই পদে ইয়াইর লাপিদকে সমর্থন করছেন লিবারম্যান। এছাড়া নেতানিয়াহু সরকারের প্রণীত বিতর্কিত আইনগুলো বাতিল, নতুন সংসদীয় কমিটি গঠন এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের দিকেও নজর রয়েছে তাদের।

রাজনীতির এই জটিল অংকে আইজেনকট শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলে সরকার গঠনের পরবর্তী প্রচেষ্টায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে চান লিবারম্যান, যদিও ম্যান্ডেট পাওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় নয়। সব মিলিয়ে ৬৭ জন সদস্যের সমর্থন পেলেও সামরিক নিয়োগ আইনের মতো স্পর্শকাতর নীতিগত ইস্যুতে পরস্পরবিরোধী দলগুলোকে একটি কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটে জড়ো করাই আইজেনকটের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৪:০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসরাইলের পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য গাদি আইজেনকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। শনিবার এই ঘোষণা আসার পর থেকেই দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার গড়ার ম্যান্ডেট পাওয়ার পেছনে নেসেটের মোট ৬৭ জন সদস্যের সুপারিশ কাজ করেছে, যেখানে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন ছিল ৪৬ জনের। এছাড়া সাতজন আইনপ্রণেতা ভোটদানে বিরত থেকেছেন।

যদিও আইজেনকট সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন, তবে রাজনৈতিক সমঝোতার পথটি বেশ বন্ধুর।

বিশেষ করে তার সম্ভাব্য জোটের শরিকদের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য প্রেসিডেন্ট হারজগকেও ভাবিয়ে তুলেছে। গত সপ্তাহান্তে প্রেসিডেন্ট নিজেই এই বিরোধের সুরাহা নিয়ে আইজেনকটের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আইজেনকটের পক্ষে থাকা ৬৭ জনের মধ্যে ১৯ জনই আরব দলের সদস্য। তবে তার নিজের পরিবর্তনপন্থি জোটের নিজস্ব আসনসংখ্যা মাত্র ৪৮। তাই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তাকে অতি-ধর্মীয় দল হারেদিদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, বিশেষ করে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি ও শাস পার্টির ছয়টি আসনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে তাকে।

হারেদি দলগুলোর সঙ্গে আইজেনকটের জোট গড়ার বিষয়টি এখন পর্যন্ত অনিশ্চিত। শাস পার্টির নেতা আরিয়ে দেরি স্পষ্টভাবে নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের জোটভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান আইজেনকটকে সমর্থন দিলেও আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গড়ার বিষয়টি সরাসরি নাকচ করেছেন। তার মতে, রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের মতো আরব দলের সমর্থনে গঠিত সরকার গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ২০১৮ সালের কাঠামোর ভিত্তিতে সামরিক নিয়োগ আইন নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে তিনি আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম আলোচনায় রাজি হলেও শাসের সমর্থন পাওয়া অনিশ্চিত। হারেদি সূত্রের দাবি, লিবারম্যান ও অতি-ধর্মীয় দলগুলোর পারস্পরিক আপত্তি কমেছে এবং দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

আইজেনকটের সরকার গঠনের পথে বড় বাধাগুলোর একটি হলো হারেদি তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ। ধর্মীয় দলগুলো চায় ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীর বাইরে রাখার আইনি নিশ্চয়তা, অথচ ধর্মনিরপেক্ষ জোটসঙ্গীরা সবার জন্য সমান দায়িত্ব বা বাধ্যতামূলক নিয়োগের দাবিতে অনড়। এই জটিল সমীকরণে নাফতালি বেনেট এখনো কোনো মন্তব্য করেননি, যা তার নীরবতা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তবে ডেমোক্র্যাটস ও ইয়াশার পার্টির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে শোনা যাচ্ছে।

আইজেনকট তার নতুন সরকারের জন্য চারটি মূল নীতি ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ ধারণ, সামরিক বা বেসামরিক সেবায় বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের ব্যবস্থা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের সামরিক ও শাসনক্ষমতা নির্মূল করার অঙ্গীকার। তার দল জানিয়েছে, এ বিষয়ে তার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে দেখা যাবে না।

এদিকে সরকার গঠনের আলোচনার মধ্যেই নেসেটে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে মরিয়া পরিবর্তনপন্থি জোট। আগামী মঙ্গলবার নতুন সংসদ অধিবেশন শুরুর পর স্পিকার আমির ওহানাকে অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই পদে ইয়াইর লাপিদকে সমর্থন করছেন লিবারম্যান। এছাড়া নেতানিয়াহু সরকারের প্রণীত বিতর্কিত আইনগুলো বাতিল, নতুন সংসদীয় কমিটি গঠন এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের দিকেও নজর রয়েছে তাদের।

রাজনীতির এই জটিল অংকে আইজেনকট শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলে সরকার গঠনের পরবর্তী প্রচেষ্টায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে চান লিবারম্যান, যদিও ম্যান্ডেট পাওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় নয়। সব মিলিয়ে ৬৭ জন সদস্যের সমর্থন পেলেও সামরিক নিয়োগ আইনের মতো স্পর্শকাতর নীতিগত ইস্যুতে পরস্পরবিরোধী দলগুলোকে একটি কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটে জড়ো করাই আইজেনকটের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Facebook Comments Box