গ্রামপুলিশের বেতন ও অবসরকালীন সুবিধা বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
গ্রামপুলিশের সদস্যদের জন্য সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন থেকে গ্রামপুলিশের সাধারণ সদস্যরা মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন, যা আগে ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি গ্রামপুলিশ প্রধানদের বেতন ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অবসরকালীন আনুতোষিকের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা এসেছে; এখন সাধারণ সদস্যরা ৮০ হাজার টাকা এবং প্রধানরা এক লাখ টাকা করে পাবেন, যা আগে যথাক্রমে ৭০ হাজার ও ৮০ হাজার টাকা ছিল।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রামপুলিশের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ঐতিহাসিক এই ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারের নতুন বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গ্রামপুলিশের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে অপরাধ বা কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে গ্রামপুলিশ সদস্যরা সবার আগে তথ্য জানতে পারেন। তাদের দেওয়া সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। প্রতিটি গ্রাম সুরক্ষিত থাকলে তবেই পুরো দেশ নিরাপদ থাকবে, যা উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য একান্ত প্রয়োজন। তৃণমূল পর্যায়ে কোথায় কী ঘটছে, কারা কোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে কিংবা কোথাও পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে গ্রামপুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সুবাদে আগেভাগেই কিছু তথ্য জানতে পারেন। তাই স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গ্রামপুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি বজায় থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব পুরো দেশেই পড়বে। শহরায়ন ও নগরায়ন বাড়লেও দেশের অধিকাংশ মানুষের শিকড় এখনো গ্রামকেন্দ্রিক। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি।
অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মূল্যবোধকে ধ্বংস করা হয়েছিল। গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও হীনস্বার্থের কারণে পারিবারিক পর্যায়েও প্রতিহিংসার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করে সামাজিক শান্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়। বরং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে গ্রামপুলিশকে এই সামাজিক অস্থিরতা নিরসনে এবং সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, রাষ্ট্র ও সমাজেও ব্যাপক সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছিল। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় পরিবারে পরিবারেও বিরোধ ও বিবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: যুগান্তর
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























