ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউজিল্যান্ড উপকূলে আটকে পড়া ৪৩টি তিমির মর্মান্তিক মৃত্যু ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন বিরোধী নেতা আইজেনকোট দেশ পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে, জানালেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আজম খান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে আমন্ত্রণ জানালেন প্রেসিডেন্ট ফিনিশিংয়ের আক্ষেপ ঘোচাতে শেখ মোরছালিনকে ফেরাতে চায় বাংলাদেশ সাতকানিয়ায় শিক্ষা সফরের বাস খাদে, নিহত ২ ও আহত ৩০ শ্রীলঙ্কার ম্যাচের আগেই ফিরছেন হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলি ওয়াহিদ টেকনাফে হ্নীলা মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত; উদ্ধার ৫৭ জিম্মি

নিউজিল্যান্ড উপকূলে আটকে পড়া ৪৩টি তিমির মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের প্রত্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে দলছুট হয়ে আটকে পড়া ৪৩টি পাইলট তিমির সব কটিই মারা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটির সংরক্ষণ বিভাগ (ডিওসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কেপ প্যালিসারের কাছে তিমিগুলোকে প্রথম দেখা যায়। তাৎক্ষণিক সাড়াদানে সংরক্ষণ বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘প্রজেক্ট জোনাহ’ এবং স্থানীয় মাওরি সম্প্রদায়ের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেখানে অন্তত ২০টি তিমি শনাক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে কয়েকটি জীবিত ছিল। কিন্তু শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ডিওসি জানায়, এনগাউই থেকে মাঙ্গাতোয়েতো উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় মোট ৪৩টি তিমি আটকা পড়েছে এবং দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, তাদের কেউই আর জীবিত নেই।

উদ্ধার অভিযানে প্রচণ্ড ঢেউ এবং উপকূলের ধারালো পাথরের কারণে কর্মীরা চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েন। প্রজেক্ট জোনাহর সদস্যরা এবং উদ্ধারকারীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তিমিগুলোর মৃত্যু ঠেকানো যায়নি। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, উদ্ধার অভিযানে যুক্ত সবার জন্য এ অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মস্পর্শী। স্থানীয় জেলে অ্যান্ড্রু সিমও ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। প্রবল ঢেউ ও চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ধারালো পাথরের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে।

মাওরি সংস্কৃতিতে তিমিকে ‘তাওঙ্গা’ বা বিশেষ সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিশেষ গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সংরক্ষণ বিভাগ স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় মৃত তিমিগুলোকে যথাযথ মর্যাদায় সমাহিত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীদের মতে, গ্রীষ্মকালে খাবারের সন্ধানে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসার সময় পাইলট তিমির দল এভাবে তীরে আটকা পড়তে পারে, তবে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নিউজিল্যান্ড উপকূলে আটকে পড়া ৪৩টি তিমির মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় : ১১:০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের প্রত্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে দলছুট হয়ে আটকে পড়া ৪৩টি পাইলট তিমির সব কটিই মারা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটির সংরক্ষণ বিভাগ (ডিওসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কেপ প্যালিসারের কাছে তিমিগুলোকে প্রথম দেখা যায়। তাৎক্ষণিক সাড়াদানে সংরক্ষণ বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘প্রজেক্ট জোনাহ’ এবং স্থানীয় মাওরি সম্প্রদায়ের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেখানে অন্তত ২০টি তিমি শনাক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে কয়েকটি জীবিত ছিল। কিন্তু শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ডিওসি জানায়, এনগাউই থেকে মাঙ্গাতোয়েতো উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় মোট ৪৩টি তিমি আটকা পড়েছে এবং দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, তাদের কেউই আর জীবিত নেই।

উদ্ধার অভিযানে প্রচণ্ড ঢেউ এবং উপকূলের ধারালো পাথরের কারণে কর্মীরা চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েন। প্রজেক্ট জোনাহর সদস্যরা এবং উদ্ধারকারীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তিমিগুলোর মৃত্যু ঠেকানো যায়নি। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, উদ্ধার অভিযানে যুক্ত সবার জন্য এ অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মস্পর্শী। স্থানীয় জেলে অ্যান্ড্রু সিমও ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। প্রবল ঢেউ ও চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ধারালো পাথরের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে।

মাওরি সংস্কৃতিতে তিমিকে ‘তাওঙ্গা’ বা বিশেষ সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিশেষ গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সংরক্ষণ বিভাগ স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় মৃত তিমিগুলোকে যথাযথ মর্যাদায় সমাহিত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীদের মতে, গ্রীষ্মকালে খাবারের সন্ধানে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসার সময় পাইলট তিমির দল এভাবে তীরে আটকা পড়তে পারে, তবে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

Facebook Comments Box