প্রধানমন্ত্রী: ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা
- আপডেট সময় : ০৪:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ১৯৭৫ সালে দেশপ্রেমিক সিপাহী ও সাধারণ জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ওঠা সকল চক্রান্ত প্রতিহত করেছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তিনি ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। শনিবার রাজধানী ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—যারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে সবার একটাই গর্বিত পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, পঁচাত্তরের নভেম্বরের শুরুর দিকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চরম রূপ নিয়েছিল।
সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২ নভেম্বর মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়।
স্বাধীনতার ঘোষককে কারারুদ্ধ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে বিপথগামী করার যে নীল নকশা তৈরি হয়েছিল, তা দেশের অকুতোভয় সিপাহী ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে ব্যর্থ করে দেয়। এ কারণেই গণতন্ত্রকামী ও জাতীয়তাবাদী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের এক অবিনশ্বর বাতিঘর হিসেবে গণ্য হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যতদিন এই ভূখণ্ডের অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। এই বিপ্লবের প্রকৃত নায়ক হিসেবে তিনি দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতাকে স্মরণ করেন।
তারুণ্যের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার
তারেক রহমান জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত তরুণ প্রজন্মের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি সংকটময় সময়ে এদেশের তারুণ্য নিজেদের দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে এদেশের তরুণরা কখনোই কোনো আপস করেনি। তিনি আরও বলেন, যে দেশের যুবসমাজ জাতীয়তাবোধে বলীয়ান নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য কোনোভাবেই সুদৃঢ় হতে পারে না। ভবিষ্যতের রাষ্ট্র বিনির্মাণে কোনো শক্তি যেন জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং দেশ যেন কোনো অবস্থাতেই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে বিষয়টিই হোক ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত করার দিন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় দেশের তারুণ্য প্রমাণ কর।
জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব
- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের একক পরিচয় হলো ‘বাংলাদেশি’, আর এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।
- দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে মনে-প্রাণে লালন করা জরুরি।
- ইতিহাসের সাক্ষী অনুযায়ী, যতবারই দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে বা ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
- বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সংকল্পবদ্ধ।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, তিনি যেমন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে লড়াই করেছিলেন, তেমনই ৭ নভেম্বরে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছিলেন। এই চেতনার ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























