জামায়াত এমপি |: আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত
- আপডেট সময় : ০৫:৩৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যর্থ হলে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং এরপর জনগণ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-২ আসনের এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারকে সর্বোচ্চ আন্তরিক হতে হবে বলেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী শনিবার এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানান, গণভোটে প্রাপ্ত গণরায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, জনদুর্ভোগ নিরসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ সাত দফা দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মহানগর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি এবং এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক আহম্মদ হামিম রাহাতসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আরও বলেন, বর্তমান খুলনার মানুষ গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রতিনিয়ত বোমা বিস্ফোরণ, গুলি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসাকে ব্যাহত করছে। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শক্ত অবস্থান নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। কখন কোথায় বোমা বিস্ফোরণ, গুলি কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটছে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলীয়করণ ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার গঠনের সাত-আট মাসের মাথায় লংমার্চের মতো কর্মসূচি নিতে হচ্ছে, যা সরকারের ব্যর্থতারই পরিচয় দেয়। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
জোটের নেতারা জানান, গণরায়ের বাস্তবায়ন ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সাত দফা দাবিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি দুর্বলতার সুযোগে আসামিরা দ্রুত মুক্তি পাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তাবও সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতারা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তারের পর সহজে জামিনে মুক্তি পেয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি তুলে ধরলে পুলিশ জানিয়েছে—মামলা যথাযথভাবে প্রস্তুত করা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত উপস্থাপনে ঘাটতি থাকায় আসামিরা জামিন পেয়ে যান।
খুলনা সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে জরুরিভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সরকার যদি এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং দমন ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলোও এখানে গুরুত্ব পাবে।
দলটির খুলনা মহানগর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবি তুলে ধরার মঞ্চ। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রয়োজন।
কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, এটি বাস্তবায়নে ১৭টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন ১ হাজার ২৬৬ জন স্বেচ্ছাসেবক। শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে সমাবেশের পর ৮টায় গাড়িবহর রওনা হবে। খুলনার শিববাড়ীতে সকাল ১১টায় এবং ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ওই দুই পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিববাড়ীতে লক্ষাধিক এবং ফুলতলায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ

























