ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট: নতুন ইজরায়েলি রাজনীতির সমীকরণ উচ্চকক্ষের স্পিকারের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন প্রস্তাব সন্দ্বীপে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১৫০ উইকেটের নতুন রেকর্ড গড়লেন শাহিন আফ্রিদি ফ্রান্সে বিক্ষোভের জেরে প্রায় ১০০০ জন গ্রেপ্তার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ পদে নিয়োগ: জেনে নিন আবেদনের নিয়ম শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড শেরপুরে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী রমজান আলী গ্রেপ্তার জাপান সফরে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রী মিনুকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি

উচ্চকক্ষের স্পিকারের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন প্রস্তাব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনে অর্ধেক সদস্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে এবং বাকি অর্ধেক সংসদীয় আসনের অনুপাতে নির্বাচনের নতুন প্রস্তাব এসেছে। একই প্রক্রিয়ায় উচ্চকক্ষের স্পিকারের পরিচালনায় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নের বিষয়টিও স্থান পেয়েছে। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টার এক সভায় বিজ্ঞ অংশীজন ও বিশেষজ্ঞরা এসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ৫০ জন নির্বাচিত হবেন সংসদীয় আসনের অনুপাতে, ৫০ জন নির্বাচিত হবেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়গুলো কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে।

বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক প্রথম এই উচ্চকক্ষ গঠনের কাঠামোটি তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া রূপরেখায় বলা হয়, সংসদে উচ্চকক্ষের মোট আসনসংখ্যা হতে পারে ১০৫টি। যার মধ্যে ৫০টি আসন থাকবে সংসদীয় আসনের অনুপাত অনুযায়ী, ৫০টি আসন নির্ধারিত হবে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারে এবং অবশিষ্ট ৫টি আসনে রাষ্ট্রপতি সরাসরি সদস্য মনোনীত করবেন। সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা হতে পারে ১০৫। বাকি পাঁচজনকে মনোনয়ন দেবেন রাষ্ট্রপতি। বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করেন।

বৈঠকে আমন্ত্রিত আরেকজন শিক্ষাবিদ নির্বাচনকালীন ব্যবস্থা হিসেবে উচ্চকক্ষের ভূমিকা স্পষ্ট করেন। তাঁর প্রস্তাব মতে, সংবিধান সংশোধন করে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ পুনঃপ্রবর্তন করা যেতে পারে, যেখানে উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন। নির্বাচনকালে এই স্পিকারের নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হবে এবং সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মাঝ থেকেই অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের বিধান রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর নির্ধারণের মত প্রকাশ করেন।

সংবিধান বিশেষ কমিটির এ দিনের সভায় কমিটির নির্ধারিত সদস্যদের বাইরেও আমন্ত্রিত সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপকরা যুক্ত হন। আলোচনা সভায় মোট ৬০ জন অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও দিনটিতে ৪ ৪ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সরকারি দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংসদীয় আসনের ভিত্তিতে এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ভোটের অনুপাতের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে আগে থেকেই মত দিয়ে আসছে। কমিটির পক্ষ থেকে ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৪৪ জন।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আলোচনার বিভিন্ন দিক প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যপদ্ধতি ও উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা তৈরির এসব প্রস্তাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার ও বিরোধী পক্ষের সম্মতিতে উপদেষ্টা পছন্দের এই ভাবনাটি খতিয়ে দেখার মতো সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এসব বিষয়ে এখনই শেষ সিদ্ধান্ত হয়নি; আগামীতে আরও কিছু প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে।

কমিটি সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে শনিবারের অধিবেশনটি ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ। কমিটির হাতে আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো সংকলনের কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সংস্থায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। এরই মধ্যে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ শুরু হয়েছে।

উক্ত বৈঠকে উচ্চকক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এর সীমানা নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হয়। সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার এখতিয়ার, প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিচারিক পর্যালোচনা এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের আদালতের উদাহরণ বৈঠকে টানা হয়। এর পাশাপাশি বিচারক নিয়োগে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের ওপর জোর দেওয়া হয়।

সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের ব্যাপারেও বৈঠকে এক ধরনের সাধারণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কার অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাব, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থবিল ও সংবিধান সংশোধন ব্যতিত অন্যান্য সব সাধারণ বিষয়ে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে নিজেদের মত ও ভোট প্রকাশের সুযোগ পাবেন। মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেন যে বৈঠকে উপস্থিত অংশীজনদের মধ্যে এ অনুচ্ছেদের পরিবর্তনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উচ্চকক্ষের স্পিকারের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনে অর্ধেক সদস্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে এবং বাকি অর্ধেক সংসদীয় আসনের অনুপাতে নির্বাচনের নতুন প্রস্তাব এসেছে। একই প্রক্রিয়ায় উচ্চকক্ষের স্পিকারের পরিচালনায় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নের বিষয়টিও স্থান পেয়েছে। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টার এক সভায় বিজ্ঞ অংশীজন ও বিশেষজ্ঞরা এসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ৫০ জন নির্বাচিত হবেন সংসদীয় আসনের অনুপাতে, ৫০ জন নির্বাচিত হবেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়গুলো কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে।

বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক প্রথম এই উচ্চকক্ষ গঠনের কাঠামোটি তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া রূপরেখায় বলা হয়, সংসদে উচ্চকক্ষের মোট আসনসংখ্যা হতে পারে ১০৫টি। যার মধ্যে ৫০টি আসন থাকবে সংসদীয় আসনের অনুপাত অনুযায়ী, ৫০টি আসন নির্ধারিত হবে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারে এবং অবশিষ্ট ৫টি আসনে রাষ্ট্রপতি সরাসরি সদস্য মনোনীত করবেন। সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা হতে পারে ১০৫। বাকি পাঁচজনকে মনোনয়ন দেবেন রাষ্ট্রপতি। বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করেন।

বৈঠকে আমন্ত্রিত আরেকজন শিক্ষাবিদ নির্বাচনকালীন ব্যবস্থা হিসেবে উচ্চকক্ষের ভূমিকা স্পষ্ট করেন। তাঁর প্রস্তাব মতে, সংবিধান সংশোধন করে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ পুনঃপ্রবর্তন করা যেতে পারে, যেখানে উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন। নির্বাচনকালে এই স্পিকারের নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হবে এবং সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মাঝ থেকেই অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের বিধান রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর নির্ধারণের মত প্রকাশ করেন।

সংবিধান বিশেষ কমিটির এ দিনের সভায় কমিটির নির্ধারিত সদস্যদের বাইরেও আমন্ত্রিত সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপকরা যুক্ত হন। আলোচনা সভায় মোট ৬০ জন অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও দিনটিতে ৪ ৪ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সরকারি দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংসদীয় আসনের ভিত্তিতে এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ভোটের অনুপাতের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে আগে থেকেই মত দিয়ে আসছে। কমিটির পক্ষ থেকে ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৪৪ জন।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আলোচনার বিভিন্ন দিক প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যপদ্ধতি ও উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা তৈরির এসব প্রস্তাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার ও বিরোধী পক্ষের সম্মতিতে উপদেষ্টা পছন্দের এই ভাবনাটি খতিয়ে দেখার মতো সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এসব বিষয়ে এখনই শেষ সিদ্ধান্ত হয়নি; আগামীতে আরও কিছু প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে।

কমিটি সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে শনিবারের অধিবেশনটি ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ। কমিটির হাতে আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো সংকলনের কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সংস্থায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। এরই মধ্যে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ শুরু হয়েছে।

উক্ত বৈঠকে উচ্চকক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এর সীমানা নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হয়। সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার এখতিয়ার, প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিচারিক পর্যালোচনা এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের আদালতের উদাহরণ বৈঠকে টানা হয়। এর পাশাপাশি বিচারক নিয়োগে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের ওপর জোর দেওয়া হয়।

সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের ব্যাপারেও বৈঠকে এক ধরনের সাধারণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কার অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাব, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থবিল ও সংবিধান সংশোধন ব্যতিত অন্যান্য সব সাধারণ বিষয়ে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে নিজেদের মত ও ভোট প্রকাশের সুযোগ পাবেন। মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেন যে বৈঠকে উপস্থিত অংশীজনদের মধ্যে এ অনুচ্ছেদের পরিবর্তনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে।

Facebook Comments Box