ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিভি লটারি চালুর আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ট্রাম্প প্রশাসনের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি পুনরায় চালুর জন্য বিচারক যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে আপিল করেছে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে লটারি চালুর বিষয়ে জারি করা আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে পৃথক আবেদনও করা হয়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি লটারি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা বিচারক জিনসুক ওহতা ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ দিয়ে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অভিবাসন বিষয়ক আইনি সংস্থা ‘রেড ইগল ল, এল.সি.’-এর দায়ের করা এক মামলায় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিবন্ধনের প্রক্রিয়াসহ পুরো কর্মসূচি পুনরায় চালুর আদেশ দেন। সাধারণত গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম, সেখানকার নাগরিকদের জন্য প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার পর্যন্ত ডাইভারসিটি ভিসা বরাদ্দ রাখা হয়।

নিউজউইক জানায়, গত ১৯শে অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসন বিচারক ওহতার দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট আদেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিলের নোটিশ দাখিল করে। একই সঙ্গে আপিলের রায় না হওয়া পর্যন্ত আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায় সরকার। তবে মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল যে ডিভি-২০২৭ এর আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে নিবন্ধনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।

তবে নির্ধারিত নিয়ম ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের সূচনা ১লা অক্টোবর হলেও নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। বিচারক ওহতা উল্লেখ করেন, লটারিতে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে ডাইভারসিটি ভিসার আবেদন করা সম্ভব নয়, ফলে এই প্রক্রিয়া শুরু না করার সিদ্ধান্ত প্রকারান্তরে কর্মসূচিটি বাতিল করারই নামান্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর কেন অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িক স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়ায় আদালত এই পদক্ষেপকে খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক বলে অভিহিত করে।

প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিচারক বলেন, লটারি বন্ধ থাকলে রেড ইগল ল তাদের গ্রাহক হারিয়ে এমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে যা মামলা করেও আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। ফলে আইনি সংস্থাটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার শর্তসমূহ পূরণ করেছে। অন্যদিকে, কর্মসূচিটি আবার চালু করা হলে সরকারের ওপর কোনো অন্যায্য আর্থিক বা প্রশাসনিক বোঝা চাপবে না, বরং এটি কেন্দ্রীয় আইন মানার মাধ্যমে জনস্বার্থ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে দাবি করে সরকার আদালতে লটারি শুরুর বিরোধিতা করলেও বিচারক সেই যুক্তি সরাসরি খারিজ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিলম্বে নিবন্ধন শুরু হলেও তা মার্কিন কংগ্রেসের মূল নিয়মনীতি মেনেই সম্পন্ন করা সম্ভব। আইনি প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন পরাজিত হলে, আদালতের অনুমোদিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিবন্ধনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ১লা নভেম্বর থেকে টানা ৩০ দিনের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিতদের ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডিভি লটারি চালুর আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ট্রাম্প প্রশাসনের

আপডেট সময় : ১১:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি পুনরায় চালুর জন্য বিচারক যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে আপিল করেছে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে লটারি চালুর বিষয়ে জারি করা আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে পৃথক আবেদনও করা হয়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি লটারি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা বিচারক জিনসুক ওহতা ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ দিয়ে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অভিবাসন বিষয়ক আইনি সংস্থা ‘রেড ইগল ল, এল.সি.’-এর দায়ের করা এক মামলায় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিবন্ধনের প্রক্রিয়াসহ পুরো কর্মসূচি পুনরায় চালুর আদেশ দেন। সাধারণত গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম, সেখানকার নাগরিকদের জন্য প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার পর্যন্ত ডাইভারসিটি ভিসা বরাদ্দ রাখা হয়।

নিউজউইক জানায়, গত ১৯শে অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসন বিচারক ওহতার দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট আদেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিলের নোটিশ দাখিল করে। একই সঙ্গে আপিলের রায় না হওয়া পর্যন্ত আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায় সরকার। তবে মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল যে ডিভি-২০২৭ এর আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে নিবন্ধনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।

তবে নির্ধারিত নিয়ম ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের সূচনা ১লা অক্টোবর হলেও নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। বিচারক ওহতা উল্লেখ করেন, লটারিতে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে ডাইভারসিটি ভিসার আবেদন করা সম্ভব নয়, ফলে এই প্রক্রিয়া শুরু না করার সিদ্ধান্ত প্রকারান্তরে কর্মসূচিটি বাতিল করারই নামান্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর কেন অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িক স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়ায় আদালত এই পদক্ষেপকে খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক বলে অভিহিত করে।

প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিচারক বলেন, লটারি বন্ধ থাকলে রেড ইগল ল তাদের গ্রাহক হারিয়ে এমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে যা মামলা করেও আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। ফলে আইনি সংস্থাটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার শর্তসমূহ পূরণ করেছে। অন্যদিকে, কর্মসূচিটি আবার চালু করা হলে সরকারের ওপর কোনো অন্যায্য আর্থিক বা প্রশাসনিক বোঝা চাপবে না, বরং এটি কেন্দ্রীয় আইন মানার মাধ্যমে জনস্বার্থ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে দাবি করে সরকার আদালতে লটারি শুরুর বিরোধিতা করলেও বিচারক সেই যুক্তি সরাসরি খারিজ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিলম্বে নিবন্ধন শুরু হলেও তা মার্কিন কংগ্রেসের মূল নিয়মনীতি মেনেই সম্পন্ন করা সম্ভব। আইনি প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন পরাজিত হলে, আদালতের অনুমোদিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিবন্ধনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ১লা নভেম্বর থেকে টানা ৩০ দিনের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিতদের ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

Facebook Comments Box