ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: পাঁচ ধাপে ৪৩০০ ইউপিতে ভোটের প্রস্তুতি
- আপডেট সময় : ০৩:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আগামী বছরের ২৭ মের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা হবে মোট পাঁচ ধাপে। ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী ২১ জানুয়ারি প্রায় ৮০০ ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোট সম্পন্ন করা হবে। সাধারণত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ভোটগ্রহণের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে। সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা এই তফসিল ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে মানদণ্ড রয়েছে, সেই আলোকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। ভালো নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এতে রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা চাওয়া হবে। এছাড়া নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে। এলাকাভিত্তিক বিন্যাসের ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা সদরের কাছাকাছি ইউনিয়নগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপভিত্তিক নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ করা হবে। ভালো নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবই আমরা করব।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ রাখা হবে না বলে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসি জানিয়েছে, অপরাধের ধরন অনুযায়ী জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কেবল অপরাধীকে শাস্তি দেওয়াই নয়, বরং একটি আইনানুগ ও ভীতিমুক্ত নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি করাই কমিশনের মূল উদ্দেশ্য।
বিধিমালার প্রয়োগ সম্পর্কে ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালার ৮০(ক) ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো, আঘাত করা বা বাধা দান করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে পর্যবেক্ষক বা গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের কাজে বাধা প্রদান, তাদের সরঞ্জাম নষ্ট করা কিংবা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডও শাস্তির আওতায় আসবে। এসব অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনি বিধিলঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকবে। এছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্রে পেশিশক্তির ব্যবহার বা অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে কমিশন সেই কেন্দ্রের ফল স্থগিত করতে পারবে। পরবর্তীতে যথাযথ অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে। সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনি এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রতিটি এলাকায় নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি তদারকি করার জন্য বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। সব মিলিয়ে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করাই নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























