চরফ্যাশনে আইনজীবী সমিতির এপিপি হিরনের সদস্যপদ ছয় মাসের জন্য
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
ভোলার চরফ্যাশন আইনজীবী সমিতির অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. হযরত আলী হিরনের সদস্যপদ ফের ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তার সদস্যপদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না—তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ রমিজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. লিটন হাওলাদার স্বাক্ষরিত নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়। গত ৫ অক্টোবর এই নোটিশটি জারি করা হয় এবং ৬ অক্টোবর থেকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
দীর্ঘদিনের পেশাগত অনাচরণের ইতিহাস
সমিতি সূত্রে জানা গেছে, হযরত আলী হিরনের বিরুদ্ধে এর আগেও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, অর্থ গ্রহণ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে অসদাচরণ, হুমকি প্রদান এবং মক্কেলের পাসবই ফেরত না দেওয়াসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমিতির রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৫ মার্চ গঠনতন্ত্রের ৪০ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে হযরত আলী হিরনের সদস্যপদ প্রথমবারের মতো দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। একই বছরের ১৬ নভেম্বর একটি দেওয়ানি মামলায় রায় পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার সদস্যপদ আরও ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল ভবিষ্যতে আর কোনো অসদাচরণ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিলে তাকে ফের সমিতির কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়।
বারবার নিয়মভঙ্গ ও তদন্তের ফলাফল
তবে স্বভাব পরিবর্তন না হওয়ায় ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট সমিতির সভাকক্ষে জ্যেষ্ঠ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শাহাবুদ্দিন মালতিয়ার সঙ্গে অসদাচরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় তার সদস্যপদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর একই বছরের ৩১ আগস্ট চরফ্যাশন যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মামলায় আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনাকে কেন্দ্র করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুর রহমান (সোহান)-এর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তার কাছ থেকে মামলার নথি ও মক্কেলের পাসবই জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান সমিতিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে ভিজিল্যান্স কমিটির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
সর্বশেষ ঘটনা ও বর্তমান অবস্থান
সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর সমিতির কার্যালয়ে সাধারণ সভা চলাকালে জিআর ১৬১/২৬ মামলায় আসামিপক্ষের জামিন প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে হযরত আলী কর্তৃক গালমন্দ, হট্টগোল, হুমকি এবং আইনগত কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ ওঠে। সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বসম্মতভাবে হযরত আলী হিরনের সদস্যপদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. লিটন হাওলাদার বলেন, বারবার গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও পেশাগত অনাচরণের কারণে বাধ্য হয়েই এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট মো. হযরত আলী হিরনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















