সৎ পরিবেশ না থাকায় নিকৃষ্টরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
রাজনীতিতে সৎ ও যোগ্য মানুষদের উঠে আসার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার সুযোগে সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও বড় দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়ে বসছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তিনি জানান, দেশের নির্বাচন ও সমাজব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ভালো মানুষের প্রার্থী হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। স্পিকার বলেন, ‘ইথিওপিয়ার তুলনায় আমরা দেখেন কোথায় চলে গেছি। তাঁর ভাষ্য, সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজরা সমাজের বড় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সমাজব্যবস্থাটাই এমন হয়ে গেছে, ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। দেশে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় স্পিকার এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু। আয়োজনে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নিজের সততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্পিকার বলেন, তিনি সব সময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন।
আওয়ামী লীগের শাসনকালের কঠোর সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের সময় গোপন ‘আয়নাঘর’ ও টর্চারসেলের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, তৎকালীন সরকার প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দেশে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল, যার পরিণতিতেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন ঘটেছে।
সাবেক ক্ষমতাসীনদের দেশত্যাগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহ ছাড় দিলেও কাউকে ছেড়ে দেন না। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বিদেশে পাচার করে তারা দলবলসহ পালাতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে সরে এসে সাধারণ সদস্য হিসেবে বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদ পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও এলাকার সুরক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পিকার নির্দেশ দেন, এলাকায় কারও বাড়িঘর বা জমি দখল কিংবা হয়রানির ঘটনা ঘটলে তা প্রথমে স্থানীয় নেতাদের জানাতে হবে। তবে নেতারা নিজেরা এসব অপরাধে জড়ালে সরাসরি যেন তাঁকে অবহিত করা হয়। তজুমদ্দিনে কোনো ধরনের মাস্তানি, সন্ত্রাস কিংবা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানান। তবে নেতারাই এসব অপকর্মে জড়িত থাকলে তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান।
তজুমদ্দিনের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























