ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে সত্য বলার আহ্বান জানালো দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর সাতক্ষীরায় মারামারি থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে রুচিরা বেকারির মালিকের ছেলের বাংলামোটরে আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাতে ওষুধ ব্যবসায়ী আহত রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামের চালান, জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৬৩ জন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ল ইউরেনিয়ামের প্রথম ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ায় আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখুন ৩ অক্টোবর

মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের অষ্টম মাসে এসে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করছে ওয়াশিংটন। নতুন করে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনাকে নতুন মোড় দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ গত রবিবার সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। এর পরপরই মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ) রওনা দিয়েছে, যার অধীনে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছেন। সব মিলিয়ে এই পদক্ষেপে ৯ থেকে ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্ত হতে পারে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের অর্থ কী এবং এটি কি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ওই এলাকায় মোট তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুইটি উভচর অবতরণকারী দল মোতায়েন থাকবে। এই সামরিক সমাবেশের লক্ষ্য হলো, কূটনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি সবসময় কার্যকর রাখা। এমনকি কোনো চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও বাহিনীগুলো সেখান থেকে সরানোর পরিকল্পনা নেই পেন্টাগনের। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নুরি জানান, এর লক্ষ্য হলো কূটনীতির গতিপথ যা-ই হোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি যেন সব সময় খোলা থাকে।

নতুন এই বহরে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও যুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, নতুন কোনো হামলার নির্দেশ আসলে তা বাস্তবায়নের জন্য বাহিনীগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার তানিয়া নুরি জানিয়েছেন, নতুন এই প্রক্রিয়ায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনা পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে লেবানন সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার বড় আকারে ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অঞ্চলটিতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শুরু থেকেই এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে সচেষ্ট। বছরের শুরুতে তিনি আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিলেন। এখনকার এই নতুন মোতায়েন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণকে বেশ জটিল করে তুলেছে, যেখানে রিপাবলিকান পার্টি যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে চান, তাহলে সামরিক শক্তির এই বিপুল সমাবেশ তাকে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ১২:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের অষ্টম মাসে এসে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করছে ওয়াশিংটন। নতুন করে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনাকে নতুন মোড় দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ গত রবিবার সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। এর পরপরই মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ) রওনা দিয়েছে, যার অধীনে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছেন। সব মিলিয়ে এই পদক্ষেপে ৯ থেকে ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্ত হতে পারে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের অর্থ কী এবং এটি কি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ওই এলাকায় মোট তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুইটি উভচর অবতরণকারী দল মোতায়েন থাকবে। এই সামরিক সমাবেশের লক্ষ্য হলো, কূটনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি সবসময় কার্যকর রাখা। এমনকি কোনো চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও বাহিনীগুলো সেখান থেকে সরানোর পরিকল্পনা নেই পেন্টাগনের। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নুরি জানান, এর লক্ষ্য হলো কূটনীতির গতিপথ যা-ই হোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি যেন সব সময় খোলা থাকে।

নতুন এই বহরে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও যুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, নতুন কোনো হামলার নির্দেশ আসলে তা বাস্তবায়নের জন্য বাহিনীগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার তানিয়া নুরি জানিয়েছেন, নতুন এই প্রক্রিয়ায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনা পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে লেবানন সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার বড় আকারে ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অঞ্চলটিতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শুরু থেকেই এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে সচেষ্ট। বছরের শুরুতে তিনি আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিলেন। এখনকার এই নতুন মোতায়েন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণকে বেশ জটিল করে তুলেছে, যেখানে রিপাবলিকান পার্টি যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে চান, তাহলে সামরিক শক্তির এই বিপুল সমাবেশ তাকে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

Facebook Comments Box