৮৩ দ্বীপের ভানুয়াতু: প্রশান্ত মহাসাগরের এক অনন্য বৈচিত্র্যের দেশ
- আপডেট সময় : ১১:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
ভানুয়াতু নামটির সঙ্গে পরিচয়টা যেন অন্য এক জগতের। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ৮৩টি দ্বীপের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটি। সব মিলিয়ে জনসংখ্যা মাত্র তিন লাখের মতো। তবে এই সামান্য জনসংখ্যার দেশেও প্রায় ১১২টি স্বতন্ত্র ভাষার প্রচলন রয়েছে, যা দেশটির বিশাল ভাষাবৈচিত্র্যের জানান দেয়। এক সময় দ্বীপ ভেদে ভাষার ভিন্নতার কারণে একে অপরের ভাষা বুঝতে না পারলেও, সময়ের পরিক্রমায় বিসলামা নামের একটি সাধারণ ভাষা গড়ে উঠেছে সেখানে। দেশটি স্বাধীন হয়েছে ১৯৮০ সালে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার সংমিশ্রণ ঘটেছে, যা রাষ্ট্রীয় নীতিতেই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভানুয়াতুর রাজধানী পোর্ট ভিলা। সেখানে পৌঁছাতে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ানযাত্রায় সময় লেগেছে তিন ঘণ্টা। দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশ চড়া। স্থানীয় মুদ্রার হিসাব করলে ১ মার্কিন ডলার ভাঙালে পাওয়া যায় মাত্র ১১৬ ভাতু। দৈনন্দিন খরচের দিক থেকেও দেশটি বেশ ব্যয়বহুল; যেমন ১ কেজি চাল কিনতে গুনতে হয় ২৫০ ভাতু। স্থানীয় পরিবহনের ধরনটাও বেশ অদ্ভুত, ১১ আসনের ছোট মাইক্রোবাসগুলোকে তারা বাস হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
পরিচ্ছন্নতা ভানুয়াতুর রাস্তার এক বড় বৈশিষ্ট্য। রাস্তার দুপাশে মানুষের আনাগোনা কম, যেন শান্ত এক পরিবেশ। স্থানীয়দের জীবনযাত্রা যেন সমুদ্র, বন আর আগ্নেয়গিরির মাটির সাথেই মিশে আছে। ট্যাক্সিচালক ফিলিপের ভাষ্যমতে, দেশটিতে চুরি-ছিনতাইয়ের ভয় নেই। সন্ধ্যার পর সাগরের পাড় ধরে অনায়াসেই ঘোরাফেরা করা যায়, যা পর্যটকদের জন্য এক নিরাপদ অনুভূতি দেয়।
স্থানীয় বাজারগুলোর চিত্র অন্যরকম। সেখানে টেবিল সাজিয়ে কাসাভা, তারো, ইয়ামসহ নানান অচেনা ফল ও সবজি বিক্রি করেন নারীরা। মজার ব্যাপার হলো, নারীরাই এখানে পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বিক্রির কাজটিও করেন, ফলে উপার্জনের ওপর তাদের নিজস্ব অধিকার থাকে। হাইডঅ্যাওয়ে দ্বীপে গেলে চোখে পড়বে এক অবাক করা বিষয়—সাগরের ১৫ ফুট পানির নিচে একটি পোস্ট অফিস। সেখানে ওয়াটারপ্রুফ পোস্টকার্ড ফেলে আসার সুযোগ রয়েছে, যা ডুবসাঁতারু বা ডাইভাররা সংগ্রহ করে গন্তব্যে পৌঁছে দেন।
ভানুয়াতুর সমাজব্যবস্থায় ‘চিফস নাকামাল’ প্রথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘চিফস’ বা গোত্র প্রধানের নেতৃত্বে ‘নাকামাল’ বা সমাজের বড় ঘরে সমবেত হয়ে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাকামালের ছাদগুলো মাটি পর্যন্ত নেমে আসে, যাকে এ-ফ্রেম বলা হয় এবং এটি মূলত ঘূর্ণিঝড় সহনশীল। এই নাকামালে আলোচনার সময় স্থানীয় পানীয় কাভা পান করার প্রচলন রয়েছে। এছাড়া মাংসের সঙ্গে কাসাভা ও ইয়াম দিয়ে তৈরি ‘লাপলাপ’ দেশটির প্রধান জাতীয় খাবার।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বজায় রাখতে পেপেও কালচারাল ভিলেজে আদি পূর্বপুরুষদের জীবনধারা এখনো তুলে ধরা হয়। বিদায়ের আগে সৈকতের বালুতে আদিবাসীদের জ্যামিতিক নকশা আঁকার ঐতিহ্য চোখে পড়ে। তাদের মিথ অনুযায়ী, ‘কাত’ নামের এক দেবতা কাঠের মূর্তি বানিয়ে ঢোলের তালে নেচে সেগুলোকে প্রাণ দিয়েছিলেন। এই বৈচিত্র্যময় সব গল্প ও অভিজ্ঞতা নিয়েই ৯ সেপ্টেম্বর ভানুয়াতু ছেড়ে ফিজির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রিয় পাঠক, নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে আপনাদের লেখা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনার নিজের জীবনের বা চোখে দেখা সত্যিকারের গল্প; আনন্দ বা সফলতায় ভরা কিংবা মানবিক, ইতিবাচক বা অভাবনীয় সব ঘটনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশে থাকুন কি বিদেশে; নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়: readers@.com। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এককালে মনে করা হতো সমুদ্র পাড়ি দিতে সমুদ্রদেবতা পোসেইডনের অনুমতি লাগবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভাগ্যিস অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে জাহাজে না এসে বিমানে এসেছি ভানুয়াতু, তাই আমার সে ঝক্কি নিতে হলো না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্যাক্সি ভাড়া শুনেই বুঝেছি এ দেশ খুব ব্যয়বহুল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাস্তা দিয়ে ১১ আসনের যে মাইক্রোগুলো চলছে, এগুলোকে এখানে বাস বলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমন এক সময় গেছে, তাদের এক দ্বীপের মানুষ আরেক দ্বীপের ভাষা বুঝতে পারত না।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























