একাত্তরের অবস্থান পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৪:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলেও পরোক্ষভাবে একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) আয়োজিত এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক যে রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট তৈরি করেছিলেন, তার আলোকেই বর্তমান জামায়াতের অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তার বইটিতে দলটিকে একাত্তরের অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আসাদুজ্জামানের মতে, রাজ্জাক সাহেবের এই রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সেই সময়ের স্টেটমেন্টটি যদি ২০১৬ সালেই কার্যকর হতো, তবে জামায়াতকে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো না। তিনি আরও বলেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে একাত্তরের সেই দায়বদ্ধতাকে মেনে নিয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২ এবং ২০২৬ সালে পার্লামেন্টে যখন এই আইন পাস হয়, তখন জামায়াত তাতে কোনো ‘না’ ভোট দেয়নি, যা তাদের রেকর্ডেড অবস্থান হিসেবেই গণ্য হয়।
সংসদে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নির্ধারণের সময় জামায়াতে ইসলামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছিল, সে বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। সংজ্ঞায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, রাজাকার, আল-বদর, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামীর বিরোধিতাকারী সংগ্রামীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পরে আইনটির সংশোধনীতে ‘তৎকালীন’ শব্দটি যুক্ত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত জামায়াত এতে ‘না’ ভোট না দিয়ে কার্যত ঐতিহাসিক সত্যের প্রতি তাদের পরোক্ষ স্বীকৃতি প্রদান করে।
বইটিতে উঠে আসা আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি ওপর থেকে কোনো শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাজ্জাকের সব চিন্তার সঙ্গে একমত না হলেও, তার এই দৃষ্টিভঙ্গি গবেষণাধর্মী ও সমাজ বিশ্লেষণের একটি বড় দলিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যারা আজ জামায়াতের মূল নেতৃত্বে আছেন, তাদের উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। তাদের অনুপস্থিতি এক প্রকার সংকীর্ণতা ও ব্যর্থতার পরিচায়ক, কারণ গণতন্ত্রে সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরিবর্তনের যে বার্তা দিয়েছে, তা মাথায় রেখেই সমাজ ও রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আলী রীয়াজ, ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক রাইট টু ফ্রিডমের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আসাদুজ্জামান বলেন, ইসলামিক শাসন কায়েম করে চাপিয়ে দেবো, সেটা একটা ভ্রান্ত নীতি, ফ্যালাসি; বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গঠিত হোক, রাষ্ট্র পরিচালিত হোক— সেটাই হবে প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের সঠিক পথ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ে ঠিক এইভাবে বিষয়টা এসেছে, আমি দেখলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি রাজ্জাক সাহেবের ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধের জায়গা থেকে, একটা রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা, দিস ইজ দ্য প্রোস ফর জুরিস্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই বইটা আমার কাছে সাহিত্য মনে হয়নি, গবেষণাধর্মীও মনে হয়নি, এটা একটা জীবন্ত একজন মানুষের এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো মনে হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজ্জাক সাহেব একটা সমাজকে তার জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তার জীবন দর্শন যেভাবে ছিল— এই বইটা তার একটা রিফ্লেকশন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজকে জামায়াতের যারা মেইনস্ট্রিমের আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত, জামাতের যারা লিডারশিপে আছেন— আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা তাদের দীনতা, এটা তাদের ব্যর্থতা, এটা তাদের সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























