খিলগাঁওয়ে বিএনপি কর্মী রাব্বী মৃত্যুর ঘটনা
- আপডেট সময় : ০৭:২২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় বিএনপি কর্মী ও পেশায় আলোকচিত্রী জাহিদ হোসেন রাব্বীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারের শীর্ষ আমলা ও একাধিক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) নালিশি মামলাটি পেশ করেন নিহতের মামা নাঈম কলিমুল্লাহ সরকার। তিনি খিলগাঁও থানার ঝিলপাড় এলাকার যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আদালত বাদীর দেওয়া জবানবন্দি রেকর্ড শেষে অভিযোগটির সত্যতা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। তদন্তকারী সংস্থাকে আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও মূল ঘটনাবলী
নথিপত্রে উল্লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, পেশায় ফটোসাংবাদিক ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার জাহিদ হোসেন রাব্বী সরাসরি বিএনপির রাজনীতি করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন তুঙ্গে উঠলে তিনি খিলগাঁও তালতলা মোড়ে অনুষ্ঠিত গণবিক্ষোভে শরিক হন। বেলা ২টার দিকে বিক্ষোভ চলাকালে তিনি লক্ষ্য করে ছোড়া গুলিতে মারাত্মক জখম হন। উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আদালতের নির্দেশে পিবিআই এখন খিলগাঁওয়ের ওই দিনের পুরো ঘটনা, গুলির পেছনের বাস্তবতা এবং এজাহারভুক্ত আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখবে। অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারকের কাছে তদন্ত স্মারক দাখিল করবে পিবিআই।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক الوزراء
মামলার এজাহারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও নাম রয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। আসামি তালিকায় অন্য উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছে
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকী।
- সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ, কামরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান নূর, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শাজাহান খান ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
- সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবের হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, হাসানুল হক ইনু এবং রাশেদ খান মেনন।
- সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মোহাম্মদ এ আরাফাত ও জুনাইদ আহমেদ পলক।
- ঢাকা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক তিন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আতিকুর রহমান এবং জাহাঙ্গীর আলম।
- সাবেক সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন মাহবুব-উল-আলম হানিফ, শেখ হেলাল, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী), নূর মোহাম্মদ, সাইফুজ্জামান শেখর, নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু ও ডা. হাবিব এ মিল্লাত।
প্রশাসন, পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য আসামি
আদালতে পেশ করা নথিতে প্রশাসনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করা বেশ কয়েকজন আমলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্তাদের আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগটি তদন্ত করে আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
- প্রশাসনিক কর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মুখ্যসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশীদ বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, আবুল ফজল মীর বাদল ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা শিউলি।
- পুলিশের সাবেক প্রধানদের (আইজিপি) মধ্যে অভিযুক্ত হয়েছেন এ কে এম শহীদুল হক, বেনজীর আহমেদ, জাবেদ পাটোয়ারী ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
- অন্যান্য সাবেক পুলিশ কর্তাদের মধ্যে রয়েছেন এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও হাবিবুর রহমান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন-অর-রশীদ, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ।
- তাছাড়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, নজিবুল্লাহ হিরু, মোশাররফ হোসেন কাজল ও খুরশীদ আলম খানকেও এই মামলায় আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























