ঢাকা ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চেলসির হয়ে বাজে শুরু, সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন মার্তিনেজ ভারত-বাংলাদেশ ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে মুখ খুলল নয়াদিল্লি ট্রাম্পের তোপে সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যম, হোয়াইট হাউসে নিষেধাজ্ঞা রাজধানীতে সিরিজ ককটেল বিস্ফোরণ ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ রাজধানীর কাফরুল থানার সামনে বাসে আগুন ভারতে ৩৩ মাস কারাভোগের পর ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন ৩ জন নিজ নাবালিকা কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পিতা গ্রেফতার ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য আটক তাহিরপুরে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অভিবাসন ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের কৌশলী হওয়ার সময় কি এখনই?

ট্রাম্পের তোপে সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যম, হোয়াইট হাউসে নিষেধাজ্ঞা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসন নিয়ে নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ তুলে হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি বড় সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, অবিলম্বে সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং পলিটিকোর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। তিনি সরাসরি এই সংবাদমাধ্যমগুলোকে ভুয়া খবর প্রচারের জন্য দায়ী করেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, রিপাবলিকান প্রশাসনকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতে এবং খাটো করে দেখাতে এই সংবাদমাধ্যমগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছে। তিনি বলেন, তার প্রশাসন গত সময়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চমৎকার কাজ করেছে এবং প্রচুর অর্থ আয় করেছে, কিন্তু তা সংবাদমাধ্যমে সঠিক প্রতিফলন পাচ্ছে না। ট্রাম্পের দাবি, মানুষ এই ভুয়া খবর দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তিনি চান সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের মান উন্নত করে তবেই হোয়াইট হাউসে ফিরুক।

নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি পলিটিকোর বিরুদ্ধে বড় একটি অভিযোগ এনেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে সরকারি তহবিল থেকে পলিটিকোকে সচল রাখতে ‘অবৈধ ও হাস্যকরভাবে ৮ মিলিয়ন ডলারের সাবস্ক্রিপশন’ প্রদান করা হয়েছিল, যা তার কাছে সরাসরি দুর্নীতির শামিল বলে মনে হয়েছে।

এ বিষয়ে ওভাল অফিসে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর প্রসঙ্গ টানেন। তবে তিনি তার অবস্থানে অটল থেকে বলেন, সংবিধানে নিরপেক্ষ ও সৎ সাংবাদিকতার নিশ্চয়তা থাকলেও তিনি ভুয়া খবর প্রচারকারীদের প্রশ্রয় দেবেন না। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এমএসএনবিসি এবং পলিটিকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সিএনএন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে তাদের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর একটি বেআইনি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।

সিএনএনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে তাদের সাংবাদিকরা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখেন। সরকারের কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তথ্য প্রচারের সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে তাদের। তারা নিজেদের সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে দৃঢ়ভাবে এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের এই নতুন বিধিনিষেধ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই কঠোর অবস্থান থেকে সরবেন না।

সামগ্রিকভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা সংবাদজগতে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে প্রশাসনের দাবি সাংবাদিকতা নিরপেক্ষ হওয়া উচিত, অন্যদিকে গণমাধ্যমগুলো একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই ঘটনা প্রবাহের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষায়, ‘আমার কাছে এটা দুর্নীতি বলেই মনে হচ্ছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ওভাল অফিসে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, সংবিধান রক্ষার শপথ নেওয়ার পর এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের নিশ্চয়তা থাকার পরও তিনি কীভাবে এই পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষায়, ‘আমাদের দেশে সৎ সাংবাদিকতা থাকা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্প বলেন, ‘অথচ সত্যি বলতে, আমরা চমৎকার কাজ করেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে আমাদের দেশে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অর্থ আসছে।’।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ট্রাম্পের তোপে সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যম, হোয়াইট হাউসে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসন নিয়ে নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ তুলে হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি বড় সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, অবিলম্বে সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং পলিটিকোর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। তিনি সরাসরি এই সংবাদমাধ্যমগুলোকে ভুয়া খবর প্রচারের জন্য দায়ী করেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, রিপাবলিকান প্রশাসনকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতে এবং খাটো করে দেখাতে এই সংবাদমাধ্যমগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছে। তিনি বলেন, তার প্রশাসন গত সময়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চমৎকার কাজ করেছে এবং প্রচুর অর্থ আয় করেছে, কিন্তু তা সংবাদমাধ্যমে সঠিক প্রতিফলন পাচ্ছে না। ট্রাম্পের দাবি, মানুষ এই ভুয়া খবর দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তিনি চান সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের মান উন্নত করে তবেই হোয়াইট হাউসে ফিরুক।

নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি পলিটিকোর বিরুদ্ধে বড় একটি অভিযোগ এনেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে সরকারি তহবিল থেকে পলিটিকোকে সচল রাখতে ‘অবৈধ ও হাস্যকরভাবে ৮ মিলিয়ন ডলারের সাবস্ক্রিপশন’ প্রদান করা হয়েছিল, যা তার কাছে সরাসরি দুর্নীতির শামিল বলে মনে হয়েছে।

এ বিষয়ে ওভাল অফিসে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর প্রসঙ্গ টানেন। তবে তিনি তার অবস্থানে অটল থেকে বলেন, সংবিধানে নিরপেক্ষ ও সৎ সাংবাদিকতার নিশ্চয়তা থাকলেও তিনি ভুয়া খবর প্রচারকারীদের প্রশ্রয় দেবেন না। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এমএসএনবিসি এবং পলিটিকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সিএনএন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে তাদের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর একটি বেআইনি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।

সিএনএনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে তাদের সাংবাদিকরা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখেন। সরকারের কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তথ্য প্রচারের সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে তাদের। তারা নিজেদের সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে দৃঢ়ভাবে এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের এই নতুন বিধিনিষেধ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই কঠোর অবস্থান থেকে সরবেন না।

সামগ্রিকভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা সংবাদজগতে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে প্রশাসনের দাবি সাংবাদিকতা নিরপেক্ষ হওয়া উচিত, অন্যদিকে গণমাধ্যমগুলো একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই ঘটনা প্রবাহের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষায়, ‘আমার কাছে এটা দুর্নীতি বলেই মনে হচ্ছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ওভাল অফিসে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, সংবিধান রক্ষার শপথ নেওয়ার পর এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের নিশ্চয়তা থাকার পরও তিনি কীভাবে এই পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষায়, ‘আমাদের দেশে সৎ সাংবাদিকতা থাকা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্প বলেন, ‘অথচ সত্যি বলতে, আমরা চমৎকার কাজ করেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে আমাদের দেশে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অর্থ আসছে।’।

Facebook Comments Box