এআইয়ের অপব্যবহার রোধে কঠোর আইন ও ব্যবস্থার পথে সরকার
- আপডেট সময় : ০৫:২২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের সাথে সাথে এর অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ডিপফেক ভিডিও তৈরির মাধ্যমে ব্যক্তিবিশেষকে হেয় করা, শিশুদের লক্ষ্য করে নানা অপতৎপরতা এবং সামাজিক হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শুধু সামাজিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এআই প্রযুক্তি এখন অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ‘সাইবার স্কোয়াড’ বা ‘বট বাহিনী’ গড়ে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে জনমত গঠন ও মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানোর কাজে তারা এআই ব্যবহার করে বানোয়াট সংবাদ ও ছবি প্রচার করছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের পরিকল্পিত অপপ্রচার দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজনীতিবিদ, শিল্পী ও শিক্ষাবিদদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের চরিত্রহনন ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখা, ছবি ও ভিডিও তৈরির সক্ষমতা রাখলেও, এর নেতিবাচক প্রয়োগ মানবজাতির জন্য হুমকি হতে পারে বলে প্রযুক্তিবিদরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিকভাবেও এ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে; সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক ও গুগল ডিপমাইন্ডের মতো প্রতিষ্ঠান দ্রুত বিকাশমান এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াকুব পাচোস্কি চলতি মাসের শুরুতেই এআইয়ের প্রসারে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। এছাড়া, এআই খাতের প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মী মার্কিন সরকারের প্রতি একটি খোলা চিঠিতে এই প্রযুক্তির রাশ টানতে আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অস্তিত্বের জন্য সংকট তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশেও এই ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অপরাধের প্রায় ৪৪ শতাংশই সাইবার পরিসরে সংঘটিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট ও উন্নত গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আগে ১৭ মার্চ ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট’ সম্মেলনেও মন্ত্রী এআইভিত্তিক অপরাধ শনাক্তকরণ ও সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী জানান, ভুয়া পরিচয়ে অশ্লীলতা ছড়ানো বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে গণ্য হতে পারে না। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত আইনে নাগরিকদের সাইবার অধিকার যেন কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি সংস্থার দায়বদ্ধতা স্পষ্টভাবে থাকতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন, সরকার মুক্ত গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও মানবপাচারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের ভাষ্য, এসব গোষ্ঠী কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর মতে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ যাতে মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে আরও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ পরিস্থিতি সরকারকে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং পুলিশের রেঞ্জ সদর দপ্তরগুলোতে আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট ও গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনলাইন জালিয়াতি, যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে ব্ল্যাকমেইল, নারীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা বিনষ্টের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সময়োপযোগী আইনের কোনো বিকল্প নেই।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























