বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাসে উন্নতির স্বীকৃতি মুডিসের
- আপডেট সময় : ০৯:০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণী সংস্থা মুডিস রেটিংস বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ (নেগেটিভ) থেকে উন্নীত করে ‘স্থিতিশীল’ (স্ট্যাবল) করেছে। সর্বশেষ মূল্যায়নে দীর্ঘমেয়াদি ‘ইস্যুয়ার’ ও ‘সিনিয়র আনসিকিউরড’ রেটিং বি২-এ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং স্বল্পমেয়াদি রেটিং ‘নট প্রাইম’ হিসেবে বহাল রয়েছে। মুডিসের মতে, পূর্ববর্তী ‘নেতিবাচক’ পূর্বাভাসের পেছনে থাকা ঝুঁকিগুলো এখন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিস্থিতিকে উন্নতির অন্যতম নিয়ামক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের প্রতি শক্তিশালী জনসমর্থনের ফলে অনিশ্চয়তা অনেকটা কমে এসেছে। এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে কাঠামোগত সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে এবং রাজনৈতিক কারণে অর্থনৈতিক সংস্কার বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পাবে।
বৈদেশিক খাতের অবস্থান আগের চেয়ে মজবুত হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেড়ে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে যে রিজার্ভ রয়েছে তা দিয়ে চার মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। রেমিট্যান্সের রেকর্ড প্রবাহ, বিনিময় হারের নমনীয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোয় রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে, যা বাড়তি জ্বালানি আমদানির চাপ সামলাতে সাহায্য করেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও অন্যান্য বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন সম্পৃক্ততাকে মুডিস ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। এটি বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে আইএমএফের নতুন কর্মসূচির শর্তাবলি নিয়ে সরকারের আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে সংস্থাটি সতর্ক ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমান অর্থবছরে (২০২৬-২৭) এটি ৪ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে; এটি ধীরে ধীরে কমার আগে প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, ঋণমানের এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক অগ্রগতির স্বীকৃতি মিলেছে।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























