ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে প্রাণ হারানো সীতাকুণ্ডের রমজান আলীর মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি নিজ গ্রামে দাফন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশি নাগরিক রমজান আলীর (৫২) মরদেহ শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরেছে। গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া গ্রামে তাঁর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে তাঁর এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

রমজান আলী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বসবাস করছিলেন। তিনি পিশিন জেলার জিয়ারত ক্রস এলাকার একটি কাস্টম হাউসে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট রাতে ওই কাস্টম হাউসে সন্ত্রাসীরা সমন্বিত হামলা চালায়। এই হামলায় পাঁচ নিরাপত্তাকর্মী ও এক কাস্টমস কর্মকর্তাসহ মোট ছয়জন নিহত হন। পাল্টা অভিযানে ১০ হামলাকারীও নিহত হয় বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন নিশ্চিত করেছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রমজান ছিলেন তৃতীয়। ১৯৮৯ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তানে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সময় তিনি অবিবাহিত অবস্থায় একাই সেখানে বসবাস করছিলেন। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে থেকেই তিনি দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। তাঁর ছোট বোন মঞ্জুরা বেগম জানান, মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগেও মুঠোফোনে রমজান দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘বোন, এখানে কয়েক দিন ধরে ভয়ংকর গোলাগুলি হচ্ছে। থেমে থেমে গুলি চলে। আতঙ্কে আছি, থাকব না এখানে, দেশে চলে যাব।’

গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে রমজান আলীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি সীতাকুণ্ডের বাড়িতে নেওয়া হয়। মঞ্জুরা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, পাঁচ-ছয় মাস আগে প্রক্রিয়া শুরু করলেও চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু তা আর সম্ভব হলো না। তিনি আরও জানান, ভাই যখন পাকিস্তানে যান তখন তিনি অনেক ছোট ছিলেন, তাই ভাইয়ের চেহারাও তাঁর প্রায় বিস্মৃত ছিল। শেষবারের মতো ভাইকে দেখার ইচ্ছা পূরণ হলেও তা হয়েছে নিথর দেহে।

পাকিস্তানের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, রমজানের মরদেহ বেলুচিস্তানের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাকিস্তান সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়া যায়। এরপরই দ্রুততার সঙ্গে মরদেহটি দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারটি শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যখন তিনি জানান, দেশে আসবেন, খুব খুশি হয়েছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইয়ের চেহারাটাও ভুলে গিয়েছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর খবর কেউ মেনে নিতে পারছিলাম না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন ভাই লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবু শেষবারের মতো ভাইকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, এটিই সান্ত্বনা।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে প্রাণ হারানো সীতাকুণ্ডের রমজান আলীর মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি নিজ গ্রামে দাফন

আপডেট সময় : ১২:০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশি নাগরিক রমজান আলীর (৫২) মরদেহ শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরেছে। গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া গ্রামে তাঁর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে তাঁর এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

রমজান আলী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বসবাস করছিলেন। তিনি পিশিন জেলার জিয়ারত ক্রস এলাকার একটি কাস্টম হাউসে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট রাতে ওই কাস্টম হাউসে সন্ত্রাসীরা সমন্বিত হামলা চালায়। এই হামলায় পাঁচ নিরাপত্তাকর্মী ও এক কাস্টমস কর্মকর্তাসহ মোট ছয়জন নিহত হন। পাল্টা অভিযানে ১০ হামলাকারীও নিহত হয় বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন নিশ্চিত করেছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রমজান ছিলেন তৃতীয়। ১৯৮৯ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তানে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সময় তিনি অবিবাহিত অবস্থায় একাই সেখানে বসবাস করছিলেন। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে থেকেই তিনি দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। তাঁর ছোট বোন মঞ্জুরা বেগম জানান, মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগেও মুঠোফোনে রমজান দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘বোন, এখানে কয়েক দিন ধরে ভয়ংকর গোলাগুলি হচ্ছে। থেমে থেমে গুলি চলে। আতঙ্কে আছি, থাকব না এখানে, দেশে চলে যাব।’

গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে রমজান আলীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি সীতাকুণ্ডের বাড়িতে নেওয়া হয়। মঞ্জুরা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, পাঁচ-ছয় মাস আগে প্রক্রিয়া শুরু করলেও চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু তা আর সম্ভব হলো না। তিনি আরও জানান, ভাই যখন পাকিস্তানে যান তখন তিনি অনেক ছোট ছিলেন, তাই ভাইয়ের চেহারাও তাঁর প্রায় বিস্মৃত ছিল। শেষবারের মতো ভাইকে দেখার ইচ্ছা পূরণ হলেও তা হয়েছে নিথর দেহে।

পাকিস্তানের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, রমজানের মরদেহ বেলুচিস্তানের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাকিস্তান সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়া যায়। এরপরই দ্রুততার সঙ্গে মরদেহটি দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারটি শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যখন তিনি জানান, দেশে আসবেন, খুব খুশি হয়েছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইয়ের চেহারাটাও ভুলে গিয়েছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর খবর কেউ মেনে নিতে পারছিলাম না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন ভাই লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবু শেষবারের মতো ভাইকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, এটিই সান্ত্বনা।

Facebook Comments Box