যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ করেছেন। শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকের পর এবার তারা ইউক্রেনে গিয়ে একই রকম ফলপ্রসূ আলোচনার প্রত্যাশা করছেন। রোববার তাদের কিয়েভে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মস্কোর এই বৈঠকটি পুতিনের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, দুই পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি জানান, আলোচনার পরিধি কেবল ইউক্রেন সংকট সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক লাভজনক বড় ধরনের রুশ-মার্কিন প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে।
উশাকভ আরও জানান, বৈঠকে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং সংঘাতের মূল কারণগুলো নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার বড় একটি অংশ ২০২২ সালে দখল করা হয়েছিল। তবে পুরো যুদ্ধজুড়ে রুশ স্থলবাহিনীর অগ্রগতির গতি ধীর এবং এতে বিপুলসংখ্যক সেনা হতাহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ তাদের কাছে পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কিয়েভ রাশিয়ার তেল স্থাপনার মতো অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছেন।
এদিকে, পুতিন ও জেলেনস্কি নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে তিন দিন একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছেন। তবে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে আকাশপথে হামলা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে।
কুশনার ও উইটকফ অতীতে বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করলেও, এবারের সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। ফলে মস্কো থেকে তারা ঠিক কীভাবে কিয়েভে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবে এই সফরের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে।
Leave a Reply