জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ১৯ হাজার ওষুধ উধাও
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে মাত্র ২১ দিনে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলের দিকে জাকসু সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বার্তার মাধ্যমে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব ও সহকারী কম্পট্রোলার মো. ফখরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই মেডিকেল সেন্টারের জন্য নতুন করে ওষুধ কেনা হয়। এর মধ্যে কেবল ‘অ্যালাট্রল’ ট্যাবলেটই কেনা হয়েছিল ৯ হাজার পিস। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ায় কমিটির সদস্যদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, ওষুধ ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. ফখরুল ইসলাম এবং জাকসুর খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক মেডিকেল সেন্টারের স্টোরে মজুদ যাচাই করতে যান।
পরিদর্শনকালে তারা স্টোরের সংরক্ষিত ওষুধের সাথে রেজিস্টারের হিসাবের বড় ধরনের গরমিল খুঁজে পান। অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, ৪ হাজার ৬৪৫ পিস অ্যালাট্রল থাকার কথা থাকলেও স্টোরে একটিও পাওয়া যায়নি। এছাড়া এজিথ্রোমাইসিন ১ হাজার ২১৮ পিসের বদলে ৩০৬ পিস, সিপ্রোসিন ২ হাজার ৪০০ পিসের বিপরীতে ১ হাজার ৯৮০ পিস এবং প্যারাসিটামল ১৫ হাজার পিসের স্থলে ১০ হাজার পিস পাওয়া গেছে। একইভাবে টিয়েমোনিয়াম (৭০০ পিস), ফ্যামোটিডিন (২ হাজার ৫০০ পিস) এবং নাপরন (৯৯০ পিস)-এর কোনোটাই স্টোরে অবশিষ্ট ছিল না। অ্যানটানিল ৫ হাজার ৬০০ পিসের বিপরীতে ছিল ৫ হাজার ৪০০ পিস এবং ডমপেরিডোন ৫ হাজার ৮০০ পিসের স্থলে মাত্র ১ হাজার ৬০০ পিস স্টোরে পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের ঘাটতি পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৩ হাজার ১০১ টাকা।
দীর্ঘদিন ধরেই মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ বিতরণে অনিয়ম চলছিল বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলেননি। ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) নূর-এ-কামাল ওষুধের ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করলেও দায়ভার নিতে নারাজ। তিনি বলেন, স্টোরের চাবি আমার কাছেই থাকে এবং ওষুধ আমি নিজেই বিতরণ করি, কিন্তু ঘাটতি কীভাবে হলো তা বোধগম্য নয়। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামছুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, স্টোরের চাবি আমার কাছে থাকে না, ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিজেই ওষুধ বের করেন, তাই তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম জানান, খাতা-কলমে বিতরণের হিসাব আর বাস্তব বিতরণের মধ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওষুধ সংকটের অভিযোগ শুনছিলেন, কিন্তু অডিটে গরমিল পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। আগামী রোববার জরুরি সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























