ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালদ্বীপে যথাযথ মর্যাদায় পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঢাকা কর অঞ্চল-১৭ এ ৫৫ কর্মী নিয়োগ হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাতার কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তরুণ পরিবেশকর্মী রিফাত প্রতি বাংলাদেশির মাথায় ৬৪৬ ডলার বৈদেশিক ঋণ: বিশ্বব্যাংক দুর্নীতিতে অনেক সমবায় সমিতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে: রাষ্ট্রপতি ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী ডিএমপি: জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যায় বিচার শুরুর নির্দেশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ১৯ হাজার ওষুধ উধাও

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে মাত্র ২১ দিনে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলের দিকে জাকসু সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বার্তার মাধ্যমে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব ও সহকারী কম্পট্রোলার মো. ফখরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই মেডিকেল সেন্টারের জন্য নতুন করে ওষুধ কেনা হয়। এর মধ্যে কেবল ‘অ্যালাট্রল’ ট্যাবলেটই কেনা হয়েছিল ৯ হাজার পিস। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ায় কমিটির সদস্যদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, ওষুধ ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. ফখরুল ইসলাম এবং জাকসুর খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক মেডিকেল সেন্টারের স্টোরে মজুদ যাচাই করতে যান।

পরিদর্শনকালে তারা স্টোরের সংরক্ষিত ওষুধের সাথে রেজিস্টারের হিসাবের বড় ধরনের গরমিল খুঁজে পান। অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, ৪ হাজার ৬৪৫ পিস অ্যালাট্রল থাকার কথা থাকলেও স্টোরে একটিও পাওয়া যায়নি। এছাড়া এজিথ্রোমাইসিন ১ হাজার ২১৮ পিসের বদলে ৩০৬ পিস, সিপ্রোসিন ২ হাজার ৪০০ পিসের বিপরীতে ১ হাজার ৯৮০ পিস এবং প্যারাসিটামল ১৫ হাজার পিসের স্থলে ১০ হাজার পিস পাওয়া গেছে। একইভাবে টিয়েমোনিয়াম (৭০০ পিস), ফ্যামোটিডিন (২ হাজার ৫০০ পিস) এবং নাপরন (৯৯০ পিস)-এর কোনোটাই স্টোরে অবশিষ্ট ছিল না। অ্যানটানিল ৫ হাজার ৬০০ পিসের বিপরীতে ছিল ৫ হাজার ৪০০ পিস এবং ডমপেরিডোন ৫ হাজার ৮০০ পিসের স্থলে মাত্র ১ হাজার ৬০০ পিস স্টোরে পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের ঘাটতি পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৩ হাজার ১০১ টাকা।

দীর্ঘদিন ধরেই মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ বিতরণে অনিয়ম চলছিল বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলেননি। ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) নূর-এ-কামাল ওষুধের ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করলেও দায়ভার নিতে নারাজ। তিনি বলেন, স্টোরের চাবি আমার কাছেই থাকে এবং ওষুধ আমি নিজেই বিতরণ করি, কিন্তু ঘাটতি কীভাবে হলো তা বোধগম্য নয়। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামছুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, স্টোরের চাবি আমার কাছে থাকে না, ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিজেই ওষুধ বের করেন, তাই তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম জানান, খাতা-কলমে বিতরণের হিসাব আর বাস্তব বিতরণের মধ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওষুধ সংকটের অভিযোগ শুনছিলেন, কিন্তু অডিটে গরমিল পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। আগামী রোববার জরুরি সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ১৯ হাজার ওষুধ উধাও

আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে মাত্র ২১ দিনে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলের দিকে জাকসু সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বার্তার মাধ্যমে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব ও সহকারী কম্পট্রোলার মো. ফখরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই মেডিকেল সেন্টারের জন্য নতুন করে ওষুধ কেনা হয়। এর মধ্যে কেবল ‘অ্যালাট্রল’ ট্যাবলেটই কেনা হয়েছিল ৯ হাজার পিস। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ায় কমিটির সদস্যদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, ওষুধ ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. ফখরুল ইসলাম এবং জাকসুর খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক মেডিকেল সেন্টারের স্টোরে মজুদ যাচাই করতে যান।

পরিদর্শনকালে তারা স্টোরের সংরক্ষিত ওষুধের সাথে রেজিস্টারের হিসাবের বড় ধরনের গরমিল খুঁজে পান। অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, ৪ হাজার ৬৪৫ পিস অ্যালাট্রল থাকার কথা থাকলেও স্টোরে একটিও পাওয়া যায়নি। এছাড়া এজিথ্রোমাইসিন ১ হাজার ২১৮ পিসের বদলে ৩০৬ পিস, সিপ্রোসিন ২ হাজার ৪০০ পিসের বিপরীতে ১ হাজার ৯৮০ পিস এবং প্যারাসিটামল ১৫ হাজার পিসের স্থলে ১০ হাজার পিস পাওয়া গেছে। একইভাবে টিয়েমোনিয়াম (৭০০ পিস), ফ্যামোটিডিন (২ হাজার ৫০০ পিস) এবং নাপরন (৯৯০ পিস)-এর কোনোটাই স্টোরে অবশিষ্ট ছিল না। অ্যানটানিল ৫ হাজার ৬০০ পিসের বিপরীতে ছিল ৫ হাজার ৪০০ পিস এবং ডমপেরিডোন ৫ হাজার ৮০০ পিসের স্থলে মাত্র ১ হাজার ৬০০ পিস স্টোরে পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের ঘাটতি পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৩ হাজার ১০১ টাকা।

দীর্ঘদিন ধরেই মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ বিতরণে অনিয়ম চলছিল বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলেননি। ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) নূর-এ-কামাল ওষুধের ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করলেও দায়ভার নিতে নারাজ। তিনি বলেন, স্টোরের চাবি আমার কাছেই থাকে এবং ওষুধ আমি নিজেই বিতরণ করি, কিন্তু ঘাটতি কীভাবে হলো তা বোধগম্য নয়। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামছুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, স্টোরের চাবি আমার কাছে থাকে না, ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিজেই ওষুধ বের করেন, তাই তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম জানান, খাতা-কলমে বিতরণের হিসাব আর বাস্তব বিতরণের মধ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওষুধ সংকটের অভিযোগ শুনছিলেন, কিন্তু অডিটে গরমিল পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। আগামী রোববার জরুরি সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box