ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

শখের বসে পালন হচ্ছ‍ে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, স্নেকসহ আফ্রিকান ব্যাঙ

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ৩৯০১১ বার পড়া হয়েছে

বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, স্নেকসহ আফ্রিকান ব্যাঙ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

শখের বসে পালন হচ্ছ‍ে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, স্নেকসহ আফ্রিকান ব্যাঙ

 

 

শখের বসে দেশে পালন করা হচ্ছ‍ে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক এমনকি আফ্রিকার বিভিন্ন প্রজাতির বিষাক্ত ব্যাঙ।

 

 

 

 

 

 

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়শা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, কর্ণ স্নেক, ডাম্পি ফ্রগ, লেপার্ড গ্যাকো, সাইডনেক কচ্ছপসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতি।

 

 

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী এসব বিষাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ। কারণ, এগুলো দেশের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

 

ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, কর্ণ স্নেকসহ নানা প্রজাতির প্রাণী জব্দ; বিশেষজ্ঞদের দাবি, শৌখিন পালন ও পাচারই অবৈধ আমদানির প্রধান কারণ

 

অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো একটি আবাসিক ভবনের ছাদে তৈরি করা অ্যাকুরিয়ামে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সেখানে প্রায় ছয় হাজার বিদেশি প্রাণী ছিল। অর্থাৎ অভিযানের আগেই প্রায় পাঁচ হাজার প্রাণী বিক্রি হয়ে গেছে।

 

 

বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, দেশে বিদেশি প্রাণী শখের বসে পালনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক এমনকি আফ্রিকার বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙও এখন অনেকে লালন-পালন করছেন।

 

তিনি বলেন, অনুমতি নিয়ে বৈধভাবে আনা প্রাণীর আড়ালে অনেকেই অবৈধ প্রাণী দেশে প্রবেশ করাচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে এসব প্রাণী চোরাইপথে ভারতে পাচার করা হচ্ছে।

 

 

আদনান আজাদের মতে, বিমানবন্দরে সোনা বা অন্যান্য পণ্যের তুলনায় পোষা প্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে। তিনি বিমানবন্দরে পৃথক ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট স্থাপনেরও দাবি জানান।

 

অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক বলেন, বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয় এবং অ্যাকুরিয়াম মাছ বা অর্কিডের চালানের আড়ালে আনা অবৈধ প্রাণীও জব্দ করা হচ্ছে।

 

 

তিনি জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

 

 

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিদেশি প্রাণী দেশের পরিবেশে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা নতুন কোনো রোগ ছড়াবে কিনা, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই দেশে প্রবেশ করছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বিদেশি বন্যপ্রাণী আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং কোয়ারেন্টাইন নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

 

 

বাংলাদেশেও অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি প্রাণীর অবৈধ আমদানি ও বাণিজ্য বন্ধে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শখের বসে পালন হচ্ছ‍ে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, স্নেকসহ আফ্রিকান ব্যাঙ

আপডেট সময় : ০২:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

 

 

 

শখের বসে পালন হচ্ছ‍ে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, স্নেকসহ আফ্রিকান ব্যাঙ

 

 

শখের বসে দেশে পালন করা হচ্ছ‍ে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক এমনকি আফ্রিকার বিভিন্ন প্রজাতির বিষাক্ত ব্যাঙ।

 

 

 

 

 

 

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়শা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, কর্ণ স্নেক, ডাম্পি ফ্রগ, লেপার্ড গ্যাকো, সাইডনেক কচ্ছপসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতি।

 

 

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী এসব বিষাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ। কারণ, এগুলো দেশের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

 

ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, কর্ণ স্নেকসহ নানা প্রজাতির প্রাণী জব্দ; বিশেষজ্ঞদের দাবি, শৌখিন পালন ও পাচারই অবৈধ আমদানির প্রধান কারণ

 

অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো একটি আবাসিক ভবনের ছাদে তৈরি করা অ্যাকুরিয়ামে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সেখানে প্রায় ছয় হাজার বিদেশি প্রাণী ছিল। অর্থাৎ অভিযানের আগেই প্রায় পাঁচ হাজার প্রাণী বিক্রি হয়ে গেছে।

 

 

বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, দেশে বিদেশি প্রাণী শখের বসে পালনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক এমনকি আফ্রিকার বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙও এখন অনেকে লালন-পালন করছেন।

 

তিনি বলেন, অনুমতি নিয়ে বৈধভাবে আনা প্রাণীর আড়ালে অনেকেই অবৈধ প্রাণী দেশে প্রবেশ করাচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে এসব প্রাণী চোরাইপথে ভারতে পাচার করা হচ্ছে।

 

 

আদনান আজাদের মতে, বিমানবন্দরে সোনা বা অন্যান্য পণ্যের তুলনায় পোষা প্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে। তিনি বিমানবন্দরে পৃথক ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট স্থাপনেরও দাবি জানান।

 

অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক বলেন, বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয় এবং অ্যাকুরিয়াম মাছ বা অর্কিডের চালানের আড়ালে আনা অবৈধ প্রাণীও জব্দ করা হচ্ছে।

 

 

তিনি জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

 

 

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিদেশি প্রাণী দেশের পরিবেশে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা নতুন কোনো রোগ ছড়াবে কিনা, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই দেশে প্রবেশ করছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বিদেশি বন্যপ্রাণী আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং কোয়ারেন্টাইন নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

 

 

বাংলাদেশেও অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি প্রাণীর অবৈধ আমদানি ও বাণিজ্য বন্ধে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

 

Facebook Comments Box