নজরুল জন্মজয়ন্তীতে ‘রুম ঝুম’ গান দিয়ে ফিরছে কোক স্টুডিও বাংলা
- আপডেট সময় : ১২:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৫২৮০৭২ বার পড়া হয়েছে
নজরুল জন্মজয়ন্তীতে ‘রুম ঝুম’ গান দিয়ে ফিরছে কোক স্টুডিও বাংলা
কোকা-কোলা বাংলাদেশ নিয়ে এলো কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজন। ২৩ মে নজরুল সংগীত ‘রুম ঝুম’-এর মাধ্যমে এই সিজনের যাত্রা শুরু হচ্ছে। যে সুর একসময় বসফরাস উপকূল থেকে বাংলায় এসেছিল এবং এখানেই থেকে সেই সুরে শুরু হচ্ছে নতুন সিজন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীতে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক স্মারক হিসেবে চতুর্থ সিজনটি শুরু হচ্ছে। ‘রুম ঝুম’ গানটির মূল সুর অটোমান-তুর্কি লোকসংগীত ‘উস্কুদারা গিদের ইকেন’ থেকে নেওয়া, যা নজরুল গ্রহণ করে বাংলা বর্ষার কবিতায় রূপান্তর করেছিলেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাংলাদেশিরা এই গান গেয়ে আসলেও এর দীর্ঘ ভ্রমণের কথা অনেকেরই অজানা ছিল। কোক স্টুডিও বাংলা চতুর্থ সিজন সেই সংগীত ঐতিহ্যকে পুনরায় একত্রিত করে এই যাত্রাকে পূর্ণতা দিয়েছে।
গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশি শিল্পী মাহতিম শাকিব ও নুসরাত জাহান এবং সহযোগিতা করেছেন তুর্কি শিল্পী আলিফ হান্দে সেভগেল ও মোস্তফা।
এই গানের মাধ্যমেই কোক স্টুডিও বাংলার মঞ্চে মাহতিমের অভিষেক এবং নুসরাতের নতুন কণ্ঠ হিসেবে যাত্রা শুরু হলো কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনে আটটি গান থাকবে, যার প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও সংগীত ধারার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
কোক স্টুডিও বাংলায় নিজের অভিষেক সম্পর্কে মাহতিম শাকিব বলেন, “‘রুম ঝুম’-এর অংশ হতে পারা আমার জন্য সত্যিই বিশেষ অভিজ্ঞতা। গানটি একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বহন করে। কোক স্টুডিও বাংলা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যেখানে কালজয়ী সংগীতকে বর্তমান প্রজন্মের সাথে সংযুক্ত করার মতো করে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং একইসাথে এর মূল শেকড় ও ঐতিহ্যের প্রতি যথাযথ সম্মান ও নিবেদন বজায় রাখা হয়েছে।”
কোক স্টুডিওতে কাজের অনুভূতি ব্যক্ত করে নুসরাত জাহান বলেন, “‘রুম ঝুম’ গানটি আমার কাছে অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং ভীষণ অর্থবহ। গানটির সংগীত প্রযোজনা করেছেন শুভেন্দু ভাইয়া, যিনি ছোটবেলা থেকেই আমার এবং আমার ভাই সাইফের মেন্টর ছিলেন।
এই কোলাবরেশন আমার কাছে একটি স্বপ্নপূরণের মতো। কোক স্টুডিও বাংলার মাধ্যমে আমার সংগীত যাত্রা ‘রুম ঝুম’-এর মতো একটি গানের মাধ্যমে শুরু করাটা এই অভিজ্ঞতাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। আমাদের ঐতিহ্য, কোলাবরেশনের সৌন্দর্য এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির এই কালজয়ী গানের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
২০২২ সালে কোক স্টুডিও বাংলা যাত্রা শুরুর পর থেকে বাংলা সংগীতের সাথে বহির্বিশ্বের সংযোগ খুঁজে বের করার মাধ্যমে নিজেদের স্বকীয়তা তৈরি করেছে। চতুর্থ সিজন সেই ধারাকেই তুলে ধরেছে—যেখানে এক মহাদেশের সুর কবি হৃদয়ে গেঁথে নিয়েছিলেন এবং তা সময়ের সাথে আমাদের নিজস্ব সম্পদ হয়ে উঠেছে।
‘রুম ঝুম’-এর গল্প শেষ পর্যন্ত শুধু একটি গান বা সমন্বয়ের সীমায় আটকে থাকে না। এটি দেখায় যে সংস্কৃতি কীভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকে—বাইরের প্রভাবকে অস্বীকার করে নয়, বরং নিজের পরিচয়ের মাধ্যমে সেটিকে নতুনভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে। যেসব সংস্কৃতি অন্য ভাষা ও ঐতিহ্যকে গ্রহণ করার জন্য উন্মুক্ত থাকে, তারাই টিকে থাকে এবং বিবর্তিত হয়। বিপরীতে, যেসব সংস্কৃতি নিজেদের আবদ্ধ করে রাখে, তারা একাকীত্ব বরণ করে ক্রমে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মঈন উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘শতাব্দী প্রাচীন একটি তুর্কি লোকজ সুর যখন বাংলা কবিতায় জায়গা করে নেয়, তখন এটি সংস্কৃতির অগ্রযাত্রাকেই তুলে ধরে। কোক স্টুডিও বাংলা সেই সত্যকেই সম্মান জানায়।’
ভক্তরা কোক স্টুডিও বাংলার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে https://www.youtube.com/@CokeStudioBangla গানগুলো শুনতে পারবেন, যা বাংলাদেশি সংগীতকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিচ্ছে। বিদ্র. সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গানটি কোক স্টুডিও বাংলার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাবে
বাংলাদেশে কোকা-কোলা ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমাদের ব্র্যান্ড পোর্টফোলিওতে রয়েছে কোকা-কোলা, ডায়েট কোক, স্প্রাইট, স্প্রাইট মিন্ট, ফান্টা, ফান্টা অ্যাপল, কিনলে ওয়াটার, কিনলে সোডা, কোকা-কোলা জিরো সুগার এবং স্প্রাইট জিরো সুগার। কোকা-কোলা বাংলাদেশ সিস্টেম মূলত একটি বোতলজাতকরণ প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা বাংলাদেশ বেভারেজেস লিমিটেড (CCBB) এবং একটি স্বতন্ত্র অনুমোদিত ফ্র্যাঞ্চাইজি বটলার আব্দুল মোনেম লিমিটেড (AML) নিয়ে গঠিত।
কোকা-কোলা সিস্টেমে বর্তমানে ৮০০-রও বেশি মানুষ সরাসরি নিয়োজিত এবং পরোক্ষভাবে ২১,০০০-এর বেশি মানুষকে এটি সহায়তা প্রদান করছে। ২০২২ সালে কোকা-কোলা দেশে প্রথম ১০০% রিসাইকেলকৃত পেট (PET) বোতল চালু করে। ২০২২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে কোক স্টুডিও বাংলার ইউটিউব সাবক্রাইবার সংখ্যা ৪ মিলিয়নেরও বেশি এবং মাত্র তিনটি সিজনেই এই প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বব্যাপী বাংলা গান ও সংস্কৃতি উদযাপনের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
শুধুমাত্র ইউটিউবেই এর ভিউ সংখ্যা ৯২৬ মিলিয়নেরও বেশি এবং বিশ্বের ১৭২টিরও বেশি দেশ থেকে শ্রোতারা এটি উপভোগ করছেন। বাংলাদেশে কোকা-কোলা সিস্টেম এবং দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন (TCCF) জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ‘ওয়ার্ল্ড উইদাউট ওয়েস্ট’ (World Without Waste) উদ্যোগের অংশ হিসেবে টিসিসিএফ (TCCF), এসআর এশিয়া ও কর্ডএইড-এর সাথে যৌথভাবে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে সার্কুলার ইকোনমি প্রতিষ্ঠারলক্ষে দুটি প্রকল্প (IMPACT-GE এবং RESILIENT) পরিচালনা করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দেশে ওয়াটার স্টুয়ার্ডশিপ বা পানি ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে ২০৩০ ডব্লিউআরজি (2030WRG), ওয়াটার এইড এবং ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন ফর দ্য আরবান পুওর (WSUP)-এর সাথে অংশীদারিত্ব করেছে।
এই ফাউন্ডেশনটি দেশজুড়ে ‘উইমেন বিজনেস সেন্টার’-এর মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়নে ‘ইউনাইটেড পারপাস’-এর সাথেও কাজ করছে এবং এখন পর্যন্ত ১,০০,০০০-এরও বেশি নারী উদ্যোক্তাকে সহায়তা প্রদান করেছে।
?
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























