ঠাকুরগাঁওয়ে বাসর রাতেই কনে বদল বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৮০৯৭ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁওয়ে বাসর রাতেই কনে বদল বিতর্ক
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন বর-কনে। কিন্তু বাসর রাতেই নাটকীয় মোড় নেয় পুরো ঘটনা। বর রায়হান কবিরের অভিযোগ, বিয়ের আগে যাকে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে থাকা নববধূ সেই নারী নন।
‘কনে বদল’-এর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় আদালতপাড়ার মামলার জটিলতায়।
ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।
জানা যায়, গত বছরের ১ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের সঙ্গে পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের রাতেই বর ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কনে বদলের অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিক দফা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে ওভারলোড ট্রাকের চাপে সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ
এরপর গত বছরের ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর পাল্টা হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা জিয়ারুল হক ও ঘটক মোতালেবের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন।
উভয় মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বরের মামা বাদল সাংবাদিকদের জানান, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রায়হানের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে রাণীশংকৈলের শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে ঘটক একটি মেয়েকে দেখান। মেয়েটি পছন্দ হলে বিষয়টি জানানো হয়। পরে মেয়েপক্ষ ছেলেপক্ষের বাড়িতে গিয়ে নতুন করে মেয়ে না দেখিয়েই দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয়।
তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের রাতে বিষয়টি বোঝা যায়নি। কিন্তু বাসর রাতে কনে মুখ ধোয়ার পর রায়হান বুঝতে পারে—সে যে মেয়েকে বিয়ে করেছে, সে আগের দেখানো মেয়ে নয়। আমাদের বিশ্বাস, পরিকল্পিতভাবে কনে বদল করা হয়েছে।” এরপর ২ আগস্ট কনেকে তার বাবার বাড়িতে পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।
পড়ুন>> দৌলতপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময়
তবে কনে বদলের অভিযোগ অস্বীকার করে কনের বাবা জিয়ারুল হক বলেন, “আমার তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। মেজো মেয়েকেই ছেলেপক্ষ আমাদের বাড়িতে এসে দেখে গেছে। বিয়েতে প্রায় ৭০ জন বরযাত্রী উপস্থিত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে কনে বদলের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পরদিনই ছেলেপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সময় চাইলেও তারা রাজি হয়নি। এখন আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতেই মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
ঘটক মোতালেবও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“মেয়েকে তার বাবার বাড়িতেই দেখানো হয়েছিল। এরপর দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ছেলেপক্ষই।”
এদিকে ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানান, “ছেলেপক্ষের অভিযোগ, মেয়েপক্ষ ও ঘটক মিলে কনে বদলের মাধ্যমে প্রতারণা করেছেন। শুরুতে মীমাংসার আশায় রায়হান কবির জামিনে ছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি এখন পুরোপুরি বিচারাধীন। আদালতের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে আমরা আশা করছি।”
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























