ভূরুঙ্গামারীতে ওভারলোড ট্রাকের চাপে সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ
- আপডেট সময় : ০২:৪২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ১১০১৬ বার পড়া হয়েছে
ভূরুঙ্গামারীতে ওভারলোড ট্রাকের চাপে সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইটবোঝাই অতিরিক্ত ওজনের ট্রাকের চাপ সহ্য করতে না পেরে মেয়াদোত্তীর্ণ সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়েছে। এতে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে সোনাহাট স্থলবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় একটি ইটবোঝাই ট্রাক সেতুর স্টিল অংশে ওঠামাত্র অতিরিক্ত লোডের কারণে সেতুর একটি পাটাতন ভেঙে ট্রাকটি দেবে যায়। সেতুটির লোড ধারণক্ষমতা মাত্র ১০ টন হলেও ট্রাকটিতে প্রায় ৩৯ টন মালামাল পরিবহন করা হচ্ছিল।
ঘটনার পরপরই সেতুর দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। জরুরি প্রয়োজনে অনেককে নৌকায় করে দুধকুমার নদী পার হতে দেখা গেছে। এতে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
পড়ুন>> শ্রমিক অবরোধে উত্তাল ছাতকের আকিজ প্লাস্টিক কারখানা
স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তা রাহিজুল ইসলাম জানান,
“প্রতিদিনের মতো সময়মতো বের হয়েছি। কিন্তু এসে দেখি অতিরিক্ত লোডের ট্রাকের কারণে সেতুর পাটাতন ভেঙে গেছে। বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয়েছে।”
এদিন ভূরুঙ্গামারীতে একমাত্র সাপ্তাহিক গরুর হাট থাকায় বিপাকে পড়েছেন গবাদিপশু ব্যবসায়ীরাও। গরু ব্যবসায়ী আমজাদ, কাশেম ও রাসেল বলেন, “সকাল আটটার মধ্যে হাটে পৌঁছানো জরুরি। ভটভটিতে করে আটটি গরু এনেছি, কিন্তু ব্রিজ বন্ধ থাকায় নৌকায় পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, সোনাহাট সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যেই সেতুর পাটাতন দেবে যাওয়া ও ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটলেও বিকল্প সড়ক না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। এতে স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসাসহ স্থানীয় জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই।
ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদীর ওপর প্রায় ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকাতে সেতুর একটি অংশ ধ্বংস করা হয়। পরে এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি মেরামত করে সড়ক যোগাযোগের উপযোগী করা হয়।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সেতুটির ধারণক্ষমতা ১০ টন হলেও ট্রাকে ৩৯ টন মালামাল বহন করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত লোডের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ট্রাক মালিক ও ইট ক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।”
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “ওভারলোডের কারণে মামলা না হলেও জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।”

























