ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার এক ধরনের গভীর সমুদ্রের মাছ যা এক অদ্ভুত শিকারি। যদিও এটি সাধারণত ২৫ সেন্টিমিটার লম্বা, তবে এই মাছটি তার শরীরের দ্বিগুণ লম্বা এবং দশগুণ ভারী শিকার গিলে ফেলতে পারে। এর বিস্ময়কর শিকার ধরার ক্ষমতার পেছনে রয়েছে কিছু অসাধারণ শারীরিক বৈশিষ্ট্য।
নমনীয় পেট:
চিয়াসমোডনের পেট খুবই প্রসারিত এবং নমনীয়, যা শিকার গিলতে সাহায্য করে। এটি শিকারকে গিলতে বেলুনের মতো ফুলে যেতে সক্ষম।
এর দাঁতগুলো পেছনের দিকে বাঁকানো থাকে, যা শিকারকে একবার ঢুকে গেলে আর বের হতে দেয় না। এছাড়া, এর শক্তিশালী চোয়াল শিকার ধরতে এবং খেতে সক্ষম।
চিয়াসমোডন গভীর সমুদ্রে, ৭০০ থেকে ৩০০০ মিটার গভীরে বাস করে, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় সমুদ্র, যেমন ক্যারিবিয়ান সাগর, ভারত মহাসাগর, এবং প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে পাওয়া যায়।
২০০৭ সালে, ক্যারিবিয়ান সাগরের গভীরে একটি ১৯ সেন্টিমিটার লম্বা ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার ধরা পড়ে, যার পেটে ছিল একটি ৮৬ সেন্টিমিটার লম্বা স্নেক ম্যাকেরেল মাছ। এটি মাছটির নিজের দৈর্ঘ্যের প্রায় ৪ গুণ লম্বা, এবং এ থেকে বোঝা যায় এর বিশাল শিকার ধরার ক্ষমতা।
বেশী বড় ও শক্তিশালী শিকার গিলে ফেলাায় অনেক সময় বিপত্তিতে পড়তে হয়।
এতো বড় শিকার গিলে ফেলা কখনো কখনো পচন সৃষ্টি করে, কারণ এর পেট শিকার হজম করার জন্য প্রস্তুত থাকে না। গ্যাস জমে গিয়ে মাছটি ভেসে ওঠে এবং মারাও যায়, যা “overambitious predation” নামে পরিচিত। এটি গভীর সমুদ্রের একটি বিপজ্জনক অভিযোজনের উদাহরণ।
Leave a Reply