ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস করেছে কাস্টমস ব্যাংক খাতের মতো বীমা খাতেও লুটপাট চলছে: অর্থমন্ত্রী শিক্ষক সংকটের জেরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবরুদ্ধ শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইংল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর আইসিসির জোড়া শাস্তির মুখে পাকিস্তান আসিফ নজরুলের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মন্তব্যটি ভুয়া সঞ্চয়পত্রের লেনদেনে ভোগান্তি কমাতে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম বেসরকারি সংস্থা সেতুতে ১৬৯ পদে নিয়োগ, বেতন ও আবেদনের নিয়মাবলি কাতারে ট্যাক্সি ও লিমোজিন সেবায় নিরাপত্তা ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করল কর্তৃপক্ষ হারানো সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদের তথ্য দিলে মিলবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় শঙ্কায় কৃষক

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪ ২৭৯ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় শঙ্কায় কৃষক

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় শঙ্কায় কৃষক

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেধে দেয়া নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেধে দেয়া নির্ধারিত সময়েও ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। বাঁধের কাজ চলছে দায়সারা। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা। পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করছে ৮৬ ভাগ বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে।

তবে, হাওর পাড়ের কৃষকরা বলছেন, কাগজে কলমে ৮৬ ভাগ দেখালেও বাস্তবে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কাজ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় হাওর পাড়ের কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাউবো’র তথ্যানুযায়ী, জেলার ১২টি উপজেলার হাওরে এবার পাউবো ও প্রশাসন ৫৯১ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার ও নির্মাণের কাজ করছে।৭৩৫টি প্রকল্পে ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজের সময়সীমা ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেয়া হয়।

জানা যায়, প্রায় ফসর রক্ষা বাঁধে স্লোফ, কমপেকশন, বন বা ঘাস লাগানো বাকি রয়েছে। কিছু বাঁধ বালু মাটি দিয়ে উঁচু করা হয়েছে। বাঁধের উপরের অংশ (টপ) ডিজাইন অনুযায়ী না করে কোথাও কোথাও টপের প্রস্ত কম করা হয়েছে।

জেলার উপজেলাগুলোতে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ২০ টন।

যার বাজার মূল্য ৪ হাজার কোটি টাকা। পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার প্রতি বছর হাওরে শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে অস্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। এই কাজ ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায়ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন কৃষকরা।

এইদিকে তাহিরপুর উপজেলার ৮২টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি প্রকল্পের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে। হাওরের গুরুত্বপূর্ণ মাটিয়ান ও বোয়ালমারা ক্লোজার বাঁধটি এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।

পাহাড়ি ঢল যাদুকাটা নদী দিয়ে নামলে প্রথম আঘাত হানে মাটিয়ান হাওরের বাঁধে। গুরুত্বপূর্ন বড়দল, কাউকান্দি বাঁধের মাটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। হাওরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য পিআইসি মো. ডালিম জানান, আমরা বাঁধের কার্যাদেশ দেরিতে পেয়েছি। মাটি কাটার এক্সকেভেটর মেশিন সংগ্রহ করতে বিলম্ব হয়েছে। মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে, যার কারণে বাঁধের কাজে বিলম্ব হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, গত বুধবার কাজের সময়সীমা শেষ হলেও কোন কোন বাঁধে ২৫ থেকে ৩০ ভাগও কাজও হয়নি। একইসঙ্গে পিআইসির লোকজনও সময়মত টাকা পাচ্ছে না।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার মানবজমিনকে বলেন, সব মিলিয়ে বাঁধের কাজ গড়ে ৮৬ ভাগ শেষ হয়েছে। আসা করছি দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ হবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় শঙ্কায় কৃষক

আপডেট সময় : ১২:৫৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় শঙ্কায় কৃষক

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেধে দেয়া নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেধে দেয়া নির্ধারিত সময়েও ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। বাঁধের কাজ চলছে দায়সারা। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা। পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করছে ৮৬ ভাগ বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে।

তবে, হাওর পাড়ের কৃষকরা বলছেন, কাগজে কলমে ৮৬ ভাগ দেখালেও বাস্তবে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কাজ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় হাওর পাড়ের কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাউবো’র তথ্যানুযায়ী, জেলার ১২টি উপজেলার হাওরে এবার পাউবো ও প্রশাসন ৫৯১ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার ও নির্মাণের কাজ করছে।৭৩৫টি প্রকল্পে ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজের সময়সীমা ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেয়া হয়।

জানা যায়, প্রায় ফসর রক্ষা বাঁধে স্লোফ, কমপেকশন, বন বা ঘাস লাগানো বাকি রয়েছে। কিছু বাঁধ বালু মাটি দিয়ে উঁচু করা হয়েছে। বাঁধের উপরের অংশ (টপ) ডিজাইন অনুযায়ী না করে কোথাও কোথাও টপের প্রস্ত কম করা হয়েছে।

জেলার উপজেলাগুলোতে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ২০ টন।

যার বাজার মূল্য ৪ হাজার কোটি টাকা। পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার প্রতি বছর হাওরে শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে অস্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। এই কাজ ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায়ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন কৃষকরা।

এইদিকে তাহিরপুর উপজেলার ৮২টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি প্রকল্পের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে। হাওরের গুরুত্বপূর্ণ মাটিয়ান ও বোয়ালমারা ক্লোজার বাঁধটি এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।

পাহাড়ি ঢল যাদুকাটা নদী দিয়ে নামলে প্রথম আঘাত হানে মাটিয়ান হাওরের বাঁধে। গুরুত্বপূর্ন বড়দল, কাউকান্দি বাঁধের মাটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। হাওরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য পিআইসি মো. ডালিম জানান, আমরা বাঁধের কার্যাদেশ দেরিতে পেয়েছি। মাটি কাটার এক্সকেভেটর মেশিন সংগ্রহ করতে বিলম্ব হয়েছে। মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে, যার কারণে বাঁধের কাজে বিলম্ব হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, গত বুধবার কাজের সময়সীমা শেষ হলেও কোন কোন বাঁধে ২৫ থেকে ৩০ ভাগও কাজও হয়নি। একইসঙ্গে পিআইসির লোকজনও সময়মত টাকা পাচ্ছে না।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার মানবজমিনকে বলেন, সব মিলিয়ে বাঁধের কাজ গড়ে ৮৬ ভাগ শেষ হয়েছে। আসা করছি দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ হবে।

 

Facebook Comments Box